২৩ নভেম্বর ২০১৯

আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সমর্থন করে না : কাদের

ওবায়দুল কাদের - ছবি : সংগৃহিত

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আওয়ামী লীগ ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা সমর্থন করে না। কিন্তু কাউকে কোন অপকর্মে জড়িত পাওয়া গেলে তাকে বিচারের সম্মুখীন করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।

তিনি রোববার এখানে সার্কিট হাউজে সাংবাদিক এক প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন। তিনি আরো বলেন, ক্যাসিনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গডফাদাররা ও অন্যান্য অপকর্মকারীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারিতে রয়েছে।

তিনি রোববার শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ প্রেসিডিয়াম সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজশাহী বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনেও বক্তৃতা দেন।

রাজশাহী বিভাগের অধীন ৮টি জেলার প্রায় ২৪০ জন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, চাঁদাবাজ, মাদক ব্যবসায়ী, টেন্ডারবাজ ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারী উচ্চারণ করে দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে দলের অনুপ্রবেশকারী ও বিপথগামীদের বিরুদ্ধে শুধু ঢাকা নয় সারাদেশেই পদক্ষেপ গ্রহণ শুরু করেছেন।

তিনি বলেন, সরকার রাজনীতিবিদ ও কর্মীদের ক্ষমতা বা পেশীশক্তির পরোয়া করবে না।

শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনগুলো থেকে আগাছা ও অন্য মন্দ ব্যক্তিদের মূলোৎপাটন করে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে পদক্ষেপ শুরু করেছেন বলে উল্লেখ করেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হচ্ছে উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দলের সকল নেতা-কর্মীদের এ চক্রান্ত নস্যাৎ করতে সজাগ থাকতে হবে।

নিবেদিত প্রাণ নেতা-কর্মীদের দলের প্রাণ উল্লেখ করেন তিনি বলেন, তাদের স্বার্থ অবশ্যই সংরক্ষণ করা হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগামী ২০ ও ২১ ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানের দিন ধার্য করা হয়েছে। কাউন্সিলের আগেই আমরা একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির, আধুনিক, স্মার্ট ও পরিশুদ্ধ আওয়ামী লীগ গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ থেকে বিষাক্ত রক্ত বের করে কেবল বিশুদ্ধ রক্ত সঞ্চালন করা হবে।

তিনি বলেন, ‘জাতীয় কাউন্সিলের আগে আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বে সারাদেশে একটি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির দল দরকার।’

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বিএনপি’র ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, দেশব্যাপী লুটপাট, অর্থপাচার, সন্ত্রাসবাদ ও চাঁদাবাজীসহ বিভিন্ন অপকর্মের জন্য বিএনপি এখন গভীর খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, দলীয় কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা, রোকেয়া সুলতানা, এডভোকেট নুরুল ইসলাম ঠান্ডু, আমিরুল আলম মিলন ও অধ্যাপক মেরিনা জাহানও বক্তৃতা করেন।

খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং সংসদ সদস্যরাও সম্মেলনস্থলে উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস


আরো সংবাদ