১৭ নভেম্বর ২০১৯

শহীদ মিনারের ফলকেও রইলো না ছাত্রলীগের নাম

বুয়েটের শহীদ মিনারের ফলকে প্রায় দু’বছর ধরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির নীচে শোভা পাচ্ছিলো বাংলাদেশ ছাত্রলীগের নাম। এখন তা অতীত। প্রতিকৃতি ও বাকি সব ঠিক থাকলেও মুছে ফেলা হয়েছে শুধু ‘ছাত্রলীগ’ শব্দটি।

শনিবার বিকেলে শহীদ মিনারের ফলকে এমন চিত্র দেখা যায়। তবে কাজটি কে বা কারা করেছে তা নিশ্চত হওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের প্রতি ক্ষোভের কারণে শিক্ষার্থীরা এমনটি করেছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটে সব ধরণের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একইভাবে প্রতিটি হলে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা কক্ষগুলোতেও তালা ঝুলিয়ে দেয়া হয়। শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কক্ষ এবং আহসাননুল্লাহ হলে ব্যবহৃত ছাত্রলীগের অফিস কক্ষটি সিলগালা করে দেয়া হয়।

সবশেষে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ফলকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত ডিজিটাল ব্যানারের নিচে লেখা ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ’ থেকে ‘ছাত্রলীগ’ শব্দটি সাদা রঙ দিয়ে মুছে ফেলে অজ্ঞাত শিক্ষার্থীরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বুয়েটের কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনার তৈরি কার হয়। সেখানে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে ফলকের মধ্যে ব্যানার লাগিয়ে দেয় ছাত্রলীগ। গত দু’বছর ধরে এভাবেই চলছিল। গেল কয়েকদিন আগে সেটি মুছে দেয়া হয়েছে।

নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, ভর্তি পরীক্ষা চলাকলীন ক্যাম্পাসে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর সমাগম হয়েছিল। ওই সময়ে এটা কেউ মুছে দিয়ে থাকতে পারে।

ছাত্রলীগ নাম মুছে দেয়ার পর থেকে বুয়েট ক্যাম্পাসজুড়ে চলছে আলোচনা। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও এ সম্পর্কে কেউ কিছু বলতে রাজি হননি।

এর আগে ভারতের সাথে করা চুক্তির বিষয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাসকে কেন্দ্র করে গত ৬ অক্টোবর রাতে হত্যার শিকার হন আবরার ফাহাদ নামে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।

হত্যার পর তাকে একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী বলে দাবি করা হলেও আবরারের পরিবার সে কোন রাজনৈতিক দলের সাথে যুক্ত ছিলেন না বলে নিশ্চিত করেন।

পরে আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে রাজধানীর চকবাজার থানায় ১৯ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

তাদের মধ্যে ১৩ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার করেছে ছাত্রলীগ, আর ১৯ জনকেই সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। অভিযাগ প্রমাণিত হলে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করার কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আবরার হত্যার পর বুয়েটের শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি, বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধসহ ১০ দফা দাবি জানায়।

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বুয়েটের ভিসি অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন। কোন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতির অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও কথা জানান তিনি। একই সময় কোন শিক্ষক রাজনৈতিক কোন ব্যানারের প্রোগ্রামে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ একে এম মাসুদ।

শিক্ষার্থীরা জানান, তারা আশ্বাস নয় প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন দেখতে চান।


আরো সংবাদ