১২ ডিসেম্বর ২০১৯

ঐক্যফ্রন্ট ও ড. কামালের তীব্র সমালোচনায় গয়েশ্বর

-

বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট গঠন করে ড. কামালের নেতৃত্বে চলে বিএনপি'র উপকার নয় বরং ক্ষতি হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ড. কামালকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, 'যিনি খালেদা জিয়াকে ওন করেন না, যিনি বিএনপির আবেগকে ওন করেন না, যিনি জিয়াউর রহমানকে ওন করেন না, তাকে সামনে রেখে পথ চললে সেই পথ অতিক্রম করা সম্ভব? এটা আমি তো মনে করি না।'

বৃহস্পতিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।

আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকত উল্লাহ বুলু, খালেদা জিয়ার বিশেষ সহকারী শিমুল বিশ্বাস, লেবার পার্টির সভাপতি মোস্তফিজুর রহমান ইরান, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী মো আবু তাহের প্রমুখ।

ঐক্যফ্রন্টের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গয়েশ্বর বলেন, 'যে একসঙ্গে থাকার মধ্য দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি হবে না সেই একসঙ্গে থাকার তাৎপর্যটা কি!তাদের মান রাখার জন্য কখনো কখনো আমাদের আপস করতে হয়।'

তিনি বলেন, 'আমরা একসঙ্গে হয়ে নির্বাচনে গেলাম বলেই খালেদা জিয়ার জন্য জেলখানা চিরস্থায়ী হয়ে গেল। আমরা যদি ওই সময় নির্বাচনের বিষয় প্রাধান্য না দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি প্রাধান্য দিতাম, তাহলে কাজটা খুব কঠিন হতো বলে আমার মনে হয় না। যে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে গেলেন না, অথচ আমরা আরেকজনের মাধ্যমে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাওয়াত চাইয়া নিলাম। প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দেয়নি। দাওয়াতটা চাইলো কে ? ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ড. কামাল হোসেন। সুতরাং এই যে চাইয়ে নেওয়া; তাহলে এখানে আমরা খালেদা জিয়াকে কি ছোট করি নাই? আর গেলাম; গেলাম একটু ছোট হয়েও যদি নেত্রীকে মুক্ত করতে পারতাম, তাহলে তো সাধারণ মানুষের কাছে দুটি কথা বলতে পারতাম।

বিএনপির অন্যতম এই নীতিনির্ধারক বলেন, 'আমরা আমাদের প্রাধান্যটা ঠিক করতে পারি নাই। আমরা আমাদের ইউনিটিটাকে বেশি দিয়েছি। হ্যাঁ-ইউনিটের একটা দরকার ছিল । জনগণ ইউনিট একটা দেখতে চায়। সেই ইউনিটের মাধ্যমে কি দেখতে চায়? একটা মুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। একটা গণতন্ত্রের মুক্তি দেখতে চায়। নাকি? কিন্তু আমরা ইউনাইটেড হলাম গণতন্ত্র মুক্তি পেল না, ৩০ তারিখের ভোট ২৯ তারিখে শেষ হল। তারপরে খালেদা জিয়া জেলখানায় রইল।'

তিনি বলেন, অপেক্ষা না করে বা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ না করে দুই-একজন পার্লামেন্টে চলে গেল। শেখ হাসিনাকে সন্তুষ্ট করতে কোন কাজেই আমাদের বাকি নেই। এখন জনগণকে সন্তুষ্ট করা এবং জাতীয়তাবাদী দলের প্রাণশক্তি খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার কাজটি একটু দায়িত্ব নিয়ে করা দরকার।


আরো সংবাদ