২৪ জানুয়ারি ২০২০

কৃষকরাই সবচেয়ে অবহেলিত : জিএম কাদের

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের এমপি বলেছেন, কৃষকরাই সব চেয়ে অবহেলিত, কৃষি খাত এখনো অলাভজনক। কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছেনা। আবার কৃষকদের হাতে যখন ধান থাকে তখন ধানের দাম থাকেনা কিন্তু কৃষকরা ধান বিক্রি করলেই চালের দাম বেড়ে যায়। মধ্যসত্বভোগীদের কারনে কৃষকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। 

সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কাচি-কাঁচার আসর মিলনায়তনে জাতীয় কৃষক পার্টির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। এসময় কৃষিবিদ ইসহাক জাকারিয়া ভূইয়া জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের হাতে ফুল দিয়ে জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন।

জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি আলহাজ্জ সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদারের পরিচালনায় সম্মেলনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি, পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস.এম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ, হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন, এড. রেজাউল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান হেনা খান পন্নি, যুগ্ম মহাসচিব গোলাম মোহাম্মদ রাজু, শেখ আলমগীর হোসেন এবং জেলা নেতৃবৃন্দের মধ্যে মো. দুলু, রমজান আলী ভুইয়া, মহতি চাকমা, জালাল উদ্দিন, আসমা সোলতানা, মেজবাহ উল হক, মিজানুর রহমান, এড. এমদাদুল হক, এনামুল হক, মাইন উদ্দিন খান, মোহাম্মদ পারভেজ শেখ হৃদয়, আবুল কাশেম, হাজী মো. শাহাবুদ্দিন, আওয়াল হোসেন আবাদী, আব্দুল আলীম মন্টু, মোশারফ হোসেন দুলাল, বাদশা মিয়া, মোবারক হোসেন, আব্দুল আলীম, জাতীয় ছাত্র সমাজের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বক্তৃতা করেন। এসময় কেন্দ্রীয় নেতা ড. নূরুল আজহার, আরিফুর রহমান খান, আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, শাহ-ই-আজম, বীরমুক্তিযোদ্ধা ইসহাক ভুইয়া, সুলতান মাহমুদ, এমএ রাজ্জাক খান, সৈয়দ ইফতেকার আহসান হাসান, হাজী মৌলভী ইলিয়াস উদ্দিন, সুজন দে, ছাত্র সমাজের সভাপতি ইব্রাহীম খান জুয়েল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জিএম কাদের বলেন, সরকারিভাবে যখন কৃষিপণ্য ক্রয় করা হয়, তখন কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাদের লোক প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়। অথচ শুধু কৃষকদের জন্যই বাংলাদেশ বলতে পারে সারা পৃথিবী আমাদের বর্জন করলেও আমাদের উৎপাদিত পণ্য দিয়েই বেচেঁ থাকতে পারবো। যা পৃথিবীর অনেক দেশই বলতে পারেনা। অধিকার আদায়ের জন্য কৃষকদের ঐক্যের কোন বিকল্প নেই। এজন্য কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাজ দিয়ে প্রমান করেছেন তিনি কৃষকদের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে জাতীয় পার্টির বীজ বপন করা আছে। শুধু কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলেই জাতীয় পার্টির উজ্জল সম্ভবনা নিশ্চিত হবে। আমরা ব্যক্তি স্বার্থ নয় শুধু দেশ ও সাধারন মানুষের জন্য রাজনীতি করছি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি বলেন, পল্লীবন্ধু এরশাদ কৃষকের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। তিনি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করেছিলেন। এরশাদের আমলে চালের কেজি ৬টাকা ছিলো কিন্তু কৃষকরা সুখেই ছিলো। কিন্তু এখন চালের দাম ধরাছোয়ার বাইরে কিন্তু কৃষকরা পণ্যের দাম পায়না। পাকিস্তান ও সিরিয়া থেকে পেঁয়াজ আমদানী করেও পেঁয়াজ সঙ্কট থামছেনা। কিন্তু পেঁয়াজ উৎপাদকারী কৃষকদের একভাগ কৃষকও মৌসুমে ন্যায্য মূল্য পায়নি। তিনি জাতীয় পার্টির পতাকা তলে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান।

সম্মেলন শেষে পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের আগামী দু’বছরের জন্য জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি হিসেবে সাহিদুর রহমান টেপা এবং এবিএম লিয়াকত হোসেন চাকলাদারকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করেন।


আরো সংবাদ