২৩ আগস্ট ২০১৯

অ ভি ম ত : মৃদুপানির বিকল্প উৎস

-

পৃথিবীর ৭০ ভাগ জল ও ৩০ ভাগ স্থল। কিন্তু এই পানি বেশির ভাগই আমাদের ব্যবহারের অযোগ্য। কারণ মোট পানির প্রায় ৯৭ ভাগ পানিই লোনা। বাকি ৩ ভাগ মৃদুপানির ৯৭ ভাগ হিমবাহ ও বরফ আকারে গ্রিনল্যান্ড, সাইবেরিয়া ও হিমালয়ে জমা আছে। বাকি ৩ শতাংশ মৃদুপানি নদী-নালা, খাল-বিল ও বৃষ্টির রূপে প্রকৃতিতে রয়েছে। আমরা দৈনন্দিন জীবনে নানা কাজে মৃদুপানি ব্যবহার করে থাকি। এই জন্য আমরা প্রতিদিন ব্যাপকহারে ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করি, যা আমাদের এই পানির স্তরকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। এটা এক নতুন সঙ্কটের দিকে আমাদের নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের দেশে প্রতি বছর প্রায় ৩ মিটার করে পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। শহর অঞ্চলগুলোতে জলাশয়গুলো ভরাট করে নানা ধরনের স্থাপনা এবং রাস্তাঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। কংক্রিটের নানা স্থাপনার কারণে বৃষ্টির পানি মাটিতে পৌঁছাতে পারছে না। আগে দেখা যেত মাটি বৃষ্টির পানি শুষে নিত। বর্তমানে তা না হওয়ায় পানি ভূগর্ভে পৌঁছতে পারছে না। এর ফলে ক্রমাগত ভূগর্ভের পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। আর দিন দিন মৃদুপানির সঙ্কট তীব্র হচ্ছে।
দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে লবণাক্ত পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পিরোজপুর, বাগেরহাট, পাইকগাছা, সাতক্ষীরা অঞ্চলগুলোতে পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে এখন থেকেই সচেতন হওয়া প্রয়োজন। পানির অপচয় থেকে বিরত থাকা উচিত। অবিবেচকের মতো জলাশয় ভরাট করা থেকে বিরত থাকতে হবে। যে পরিমাণ পানি আমরা ভূগর্ভ থেকে উত্তোলন করি, সে পরিমাণ পানি যেন ভূগর্ভে ফেরত যায় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। বেশি বেশি পুকুর খনন এবং সেচ সাশ্রয়ী ফসল উৎপাদন করতে হবে। মৃদুপানির বেশির ভাগ অংশই আমরা সেচের উদ্দেশ্যে খরচ করে ফেলি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মৃদুপানির বিকল্প উৎসের সন্ধান। বৃষ্টির পানি মৃদুপানির খুব ভালো একটি উৎস। এর নানা উপকারিতাও রয়েছে। বৃষ্টির পানি হজমশক্তি বাড়ায়, ক্যান্সার রোগীদের ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের কাজ করে, বৃষ্টির পানি চুল সুন্দর করে, আলসার নিরাময় করে এবং ব্যাকটেরিয়া নাশক হিসেবে কাজ করে। তাই আমাদের বেশি করে বৃষ্টির পানি ব্যবহারের দিকে নজর দেয়া উচিত। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, বাড়ির ছাদে পাইপ সংযুক্ত করে তার মাধ্যমে বৃষ্টির পানি কোনো জলাধারে সংরক্ষণ করা। বৃষ্টির পানি ব্যবহারের আর একটি সুবিধা হলো এর ফলে পাম্পিং খরচ অনেক কমে যায়। বিদ্যুতের সাশ্রয় হয়। বৃষ্টির পানি বহুলাংশে আমাদের মৃদুপানির চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম। ১০০০ বর্গফুট ছাদে এক ইঞ্চি পরিমাণ বৃষ্টিপাত হলে প্রায় ৬০০ গ্যালন পানি জমা হয়। এই বিপুল পরিমাণ পানি অব্যবহৃত রাখা ঠিক নয়। তাই মৃদুপানির সঙ্কটের পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের বৃষ্টির পানির পূর্ণ ব্যবহারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
আফসানা রিজোয়ানা সুলতানা
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়


আরো সংবাদ