২২ আগস্ট ২০১৯

‘এস ৪০০’ বিরোধ ও তুরস্ক-রাশিয়া সমঝোতা

-

ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য, রাশিয়ার অত্যাধুনিক মিসাইল প্রতিরক্ষা সিস্টেম ও বিমান বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র এস-৪০০ তুরস্কে আসছে। তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র এ অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে বছর ধরে বাকযুদ্ধে লিপ্ত। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, রাশিয়া থেকে এ অস্ত্র কিনলে তুরস্ককে তার ফল ভোগ করতে হবে। ইতঃপূর্বে তুরস্ককে লকহিড মার্টিন এফ-৩৫ ফাইটার জেট দেয়ার প্রতিশ্রুতি যুক্তরাষ্ট্র বাতিল করে দিয়েছে এবং পেন্টাগনের সিদ্ধান্ত মতে, প্রশিক্ষণে থাকা পাইলটদের দেশে ফিরিয়ে নেয়া হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে পেন্টাগনের এ পদক্ষেপ বাতিল করতে পারেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। এসব সত্ত্বেও এস-৪০০ তুরস্কে চলে আসছে। এখন ট্রাম্প কী করবেন? ধারণা করা হচ্ছে প্রথম চোটে যুক্তরাষ্ট্র তুরস্কের ওপর অবরোধ দেবে। যা হবে অর্থনৈতিক ও সামরিক। এর আগে যাজক ব্রনসেনকে নিয়ে অর্থনৈতিক অবরোধের দংশন কত তীব্র, তা তুরস্ক অনুভব করেছে। আমেরিকা তুরস্ককে সতর্ক করে দিয়েছিল, ‘এক টুকরা নখও যদি আসে আমরা অবরোধ আরোপ করব।’ সম্প্রতি জাপানের ওসাকায় জি২০ অধিবেশনে ট্রাম্প কিছুটা নমনীয় হয়ে বলেছিলেন, ‘এটা জটিল সমস্যা। দেখা যাক, আমরা কী করতে পারি।’ এস-৪০০ ব্যবস্থার মূল্য ধরা হয়েছে ২০০ কোটি ডলার। তার একাংশ তাৎক্ষণিকভাবে তুরস্ক পরিশোধ করেছে। আর বাকি অংশ মস্কো আঙ্কারাকে ঋণ হিসেবে দিয়েছে, যা পরে রাশিয়া ফেরত পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি ডিফেন্স সেক্রেটারি তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকারকে পত্র দিয়ে এ সমস্যার ‘জুতসই’ সমাধান বের করার জন্য জরুরি আলোচনা করতে অনুরোধ জানিয়েছেন, যাতে তুরস্ক আমেরিকার ‘কৌশলগত নিরাপত্তা সহযোগী’ হিসেবে দায়িত্ব প্রতিপালন করতে পারে। এ পত্রের ভাষা নরম ও গরম একসাথে।
এখানে মনে রাখা দরকার, এফ-৩৫ ফাইটার জেট এস-৪০০ মতো কৌশলগত ও নিখুঁত নয়। ফাইটারের কার্যক্ষমতা ৬০ শতাংশ। তবে অন্যান্য কাজে এগুলোর দক্ষতা ২৭ শতাংশ মাত্র। এসব ফাইটারের দাম আকাশচুম্বী হলেও এর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা বেশ জটিল। বোমা ও মিসাইল লোড সক্ষমতা অপর্যাপ্ত। তা ছাড়া, তুরস্কে এফ-৩৫ এর পূর্বের ভার্সনের অনেক জেট বিমান রয়েছে। নতুনভাবে এই ফাইটার জেট তুরস্কের জন্য তেমন বেশি প্রয়োজন বলে তুর্কি সমরবিদেরা মনে করছেন না। তবে এফ-৩৫-এর আদলে উন্নতমানের নিজস্ব প্রযুক্তির বিমান তৈরির কাজও তুরস্ক চালিয়ে যাচ্ছে। আমেরিকা তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান বিক্রি বন্ধ করায় মস্কো আঙ্কারাকে এসইউ-৫৭ যুদ্ধবিমান দিচ্ছে। রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের এই বিমানও অত্যাধুনিক মানের।
তুরস্ক ১৯৯৯ সালে ১০০টি এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান কেনার জন্য আমেরিকার সাথে চুক্তি করেছিল। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই প্রথম চালান হিসেবে দু’টি বিমান হস্তান্তর করা হয়। দু’টির মধ্যে একটি প্রশিক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে রয়েছে। দেখা যায়, দীর্ঘ ২০ বছরেও এই বিমান তুরস্কে আসেনি। অথচ ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে রাশিয়ার সাথে চুক্তি হওয়ার পর মাত্র দেড় বছর পরেই এস-৪০০ মিসাইলগুলো তুরস্কে আসছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তানের সাথেও জঙ্গিবিমান বিক্রির চুক্তি হয়েছিল। সব টাকা আগেই পরিশোধ করা হলেও ১৫ বছর ধরে কোনো বিমান সরবরাহ করা হচ্ছিল না। পাকিস্তান টাকা ফেরত চাইলে প্রথম চালানে দু’টি বিমান দেয়া হয়। সেগুলো মানসম্মত না হওযায় পাকিস্তান ফেরত দেয়। এটা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রির কূটকৌশল। কুর্দি সংগঠন পিকেকে সদস্যদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য, ইরাক যদি কোনো ব্যবস্থা না নেয় তবে উত্তর ইরাকে তুরস্ক হামলা চালাতে প্রস্তুত। এদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ‘উপযুক্ত’ অস্ত্র দরকার। কেননা যুক্তরাষ্ট্র থেকে পিকেকে উন্নতমানের অস্ত্র পেয়ে থাকে। উত্তর ইরাকের কান্দিল, সিনজার ও মাখমুর শহরে হামলার জন্য তুরস্কের সেনাবাহিনী তৈরি আছে। এখন ইরবিল শহরটি তুরস্কের অধিকারে রয়েছে। কান্দিল শহরটি তুরস্ক সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ইরবিল প্রদেশে অবস্থিত। পিকেকের সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে তুর্কি সেনারা কোনো ঝুঁকি নিতে চায় না। তারা উন্নত মানের নিখুঁত মিসাইল ব্যবহার করতে চায়।
তুরস্ক অস্ট্রিয়াতেও নাকি আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অস্ট্রিয়া সাতটি মসজিদ ও ৬০ জন ইমামকে বহিষ্কার করার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা তুরস্কের অধিবাসী। গত বছরের অক্টোবরে অস্ট্রিয়া মুসলিম মহিলাদের প্রকাশ্য স্থানে পুরো মুখ ঢাকা নিকাব বা বোরকা পরা নিষিদ্ধ করেছে। তুর্কি প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন টুইটে বলেছেন, ‘অস্ট্রিয়ার এমন সিদ্ধান্ত ইসলামবিদ্বেষী, বর্ণবাদী ও বৈষম্যমূলক।’ মসজিদগুলো তুরস্কের ইসলামিক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের অর্থায়নে চলছিল। অস্ট্রিয়াকে তুরস্ক ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করার জন্য সতর্ক করে দিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইউরোপীয়রা অস্ট্রিয়ার পক্ষ নিয়েছে। ফলে যেকোনো সময় তুরস্ক-অস্ট্রিয়া সঙ্কট বড় আকার ধারণ করতে পারে। যা হোক, যেকোনো সম্মুখ সমরের জন্য তুরস্ক অত্যাধুনিক মিসাইল সিস্টেমের অধিকারী হতে চায়।
সাইপ্রাসসহ পূর্ব ভূমধ্যসাগর এখন যেন আগুনের ওপর রয়েছে। ইরাক, ইরান ও সিরিয়ায়ও অশান্তির আগুন জ্বলছে। মনে হচ্ছে, এই স্থানগুলোতে এমন আগুন আরো জ্বলতে থাকবে। ইরাকের উত্তরে তুরস্কের সেনাবাহিনী ‘অপারেশন ঈগল ক্ল’ শুরু করেছে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বিরত রাখবে ইরাকে আরো কার্যক্রম গ্রহণ করা থেকে। সিরিয়ার ফোরাত নদীর পাড়ের যুদ্ধ, পিকেকে বা কুর্দিস্থান ওয়ার্কার্স পার্টির বিরুদ্ধে কার্যক্রমে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের নানামুখী চাপে পড়তে হচ্ছে। ইরানে অবরোধের বিষয়ে তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের এক বড় সমালোচক। তুরস্কের বুদ্ধিজীবীদের অনেকে মনে করেন, ইরান একটি উপলক্ষ মাত্র; আমেরিকার আসল টার্গেট তুরস্ক। নিরপেক্ষ মিডিয়ার খবরে জানা যায় তুরস্ক, ইরান, কাতার, পাকিস্তান ও ইরাকের গোপন সামরিক জোটের কথা। সিএনএনের নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলছেন, সামরিকীকরণে আরো একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। তা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র সৌদি আরব চীন থেকে অস্ত্র কিনছে। তুরস্ক ও ভারত রাশিয়া থেকে অস্ত্র কিনছে। তুরস্ক বলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ঘুরে দাঁড়ালে ‘নতুন পথে চলব’।
পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও সাইপ্রাসে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থ জড়িত। এখানে তুরস্কের স্বার্থও জড়িত। সাইপ্রাসে তুর্কি সাইপ্রিয়ট ও গ্রিক সাইপ্রিয়টদের বিরোধ বহু দশক ধরে চলমান। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনো স্বার্থ দেখা না গেলেও সাইপ্রাসের জলসীমায় তাদের শক্ত সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। সাইপ্রাসের জলসীমা থেকে যেন ইসরাইলে হামলা করা না যায়, সেটাও এর একটি উদ্দেশ্য। এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টি যুদ্ধ জাহাজ, ১৩০টি যুদ্ধ বিমান ও ৯ হাজার সৈন্য রয়েছে। গ্রিস, ইসরাইল ও দক্ষিণ সাইপ্রাসে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখছে পেন্টাগন। উত্তর সাইপ্রাসেও তুরস্কের সামরিক বাহিনী ও অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ছায়ায় থেকে কাজ করতে ও কলকব্জা নাড়তে চায়। তুরস্কের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের জেরুসালেম নিয়েও বিরোধ আছে। পূর্ব জেরুসালেমকে ফিলিস্তিনের রাজধানী ঘোষণা করে বিশ্বের অন্যসব দেশকে এ ঘোষণার সাথে একাত্মতার আহ্বান জানিয়েছে তুরস্ক। এরপর এরদোগান পূর্ব জেরুসালেমে তুরস্কের দূতাবাস খোলার ঘোষণাও দিয়েছেন। এভাবে বৈশ্বিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র-তুরস্ক সঙ্ঘাত চলছে।
চলতি সপ্তাহেই এস-৪০০ অ্যান্টি ব্যালাস্টিক মিসাইলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ আসছে যা আগেই উল্লেখ করা হয়েছে। তুর্কি নেতা এরদোগান বারবার বলেছেন, এই চুক্তি বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তুরস্ক ও রাশিয়া যৌথভাবে পরবর্তী প্রজন্মের আরো উন্নত এস-৫০০ উৎপাদনের বিষয়েও আলোচনার অনেক অগ্রগতি হয়েছে। এদিকে এস-৪০০ যৌথ উৎপাদনের জন্য তুরস্কের ১০০ প্রকৌশলী এখন রাশিয়া। এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এরদোগান রাশিয়ার সাথে দীর্ঘ মেয়াদি ‘সামরিক ইন্ডাস্ট্রি’ উন্নয়নের বিষয়ে মিডিয়ায় প্রকাশ করেছেন। অপর দিকে, তুরস্কে এস-৪০০ মোতায়েন এবং এফ-৩৫ সরবরাহের ক্ষেত্রে উভয় দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় খুঁজে বের করে একটি সমাধানের রূপরেখা প্রণয়নের জন্য যে ‘টেকনিক্যাল কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছেÑ সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। সিরিয়া থেকে দূরপাল্লার মিসাইল হামলার পরিপ্রেক্ষিতে তুরস্ক বাস্তব প্রয়োজনের তাগিদেই রাশিয়ার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। মনে হচ্ছে তুর্কি সরকারের সাথে রাশিয়ার সামরিক বন্ধন ও সমঝোতা একটি নতুন উচ্চতার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
তুরস্ক ন্যাটো সদস্য হওয়া সত্ত্বেও এ জোট থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়নি। ‘মাভি মারমারা’ ত্রাণ জাহাজে ইসরাইলি হামলা, সিরিয়া অভিযানে সন্ত্রাসী পিকেকে সংগঠনকে আমেরিকার সামরিক সহায়তা, সেনা ক্যুর মাধ্যমে এরদোগানকে উৎখাতের চেষ্টা, অর্থনৈতিক অবরোধ, পাদ্রী ব্রনসেন ইস্যু, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার জন্য দশকের পর দশক অপেক্ষা প্রভৃতি ইস্যু তুরস্ককে বড় অস্থির করে তুলেছে। তুরস্কের জনগণও চায় না ইইউর সদস্য হওয়ার জন্য তুরস্ক আর কোনো পরীক্ষা দিক। তুরস্ক রাশিয়ার সাথে সামরিক জোট গড়লে হয়তো এক সময় নিজেই ন্যাটোর সদস্য হওয়ার প্রয়াস ছেড়ে দেবে। রাশিয়া থেকে তুরস্ক মুখ ফেরানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রি করতে চেয়েছে। তুরস্ক তা প্রত্যাখ্যান করেছে এ জন্য যে ‘প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ রাশিয়ার প্রস্তাব ভালো।’ তুরস্কের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়নে সব রকম সহযোগিতা করতেও প্রস্তুত রয়েছে মস্কো। যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, ন্যাটোভুক্ত দেশ হওয়া সত্ত্বেও ন্যাটোবিরোধী রাশিয়ার মিসাইল ক্রয় তুরস্কের উচিত হচ্ছে না। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের এই সমালোচনার জবাবে বলেছেন, অনেক ন্যাটো সদস্য ইতোমধ্যে এস-৩০০ ক্ষেপণাস্ত্র কিনেছে। সেটা তাদের ন্যাটো সদস্য পদের জন্য বাধা হয়নি। তিনি বলেন, ‘তাহলে তুরস্ক এস-৪০০ কিনলে যুক্তরাষ্ট্র বাধা দেবে কেন?’
আমরা দেখলাম, যুক্তরাষ্ট্র তুরস্ককে কোনো প্রযুক্তি দিতে চায় না, পক্ষান্তরে রাশিয়া প্রযুক্তিসহ সমরাস্ত্র বিক্রি করছে। তুরস্ক মাত্র পাঁচ বছরের মধ্যে সামরিক শিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে চায়। তুরস্ক আন্তর্জাতিক সামরিক বাজারে নিজের তৈরি বিভিন্ন খুচরা যন্ত্রাংশ বিক্রি করতে চাচ্ছে। এই লক্ষ্যে রাশিয়ার প্রস্তাব তুরস্কের জন্য আকর্ষণীয়। রাশিয়ার জাহাজগুলো ভূমধ্যসাগরে নির্বিঘেœ প্রবেশ করতে হলে তুরস্কের সহায়তা দরকার। তাছাড়া ন্যাটোর দ্বিতীয় শক্তিশালী দেশ তুরস্ককে এই জোটের হাত থেকে ‘ছিনিয়ে আনতে পারলে’ রাশিয়া কৌশলগত এক বিরাট বিজয় লাভ করবে। ফলে ন্যাটো জোটও আরো ভঙ্গুর হয়ে পড়তে পারে। এসব বিষয় আমেরিকার ট্রাম্প প্রশাসনকে খেপিয়ে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন তুরস্কের বিরুদ্ধে কোন ঘুঁটি চালায়, সেটি দেখার বিষয়। ট্রাম্পের জেরুসালেম ঘোষণা, ‘শতাব্দীর সেরা চুক্তি’, গোলান হাইট দখল, ইরান আক্রমণ ও অবরোধ, পশ্চিমতীর দখলের পাঁয়তারা, মার্কিন নির্বাচনÑ এসব গরম গরম ইস্যুর সাথে তুরস্ককে এখনই সে খেপিয়ে তুলবে বলে মনে হয় না। হ
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ