২২ আগস্ট ২০১৯

স্ম র ণ : কাজী আবুল কাসেম

-

আজ ১৯ জুলাই। বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের প্রথম মুসলিম কার্টুনিস্ট, প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী ও শিশুসাহিত্যিক কাজী আবুল কাসেমের মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৪ সালের এই দিনে তিনি ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ৯১ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ১৯১৩ সালের ৯ মে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর গ্রামে মাতুলালয়ে শিল্পী কাজী আবুল কাসেমের জন্ম। পৈতৃক নিবাস রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার পারকুলা গ্রামে। তার বাবা কাজী মকবুল আলী শিক্ষিত ও সংস্কৃতিবান ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম আধুনিক মুসলিম গদ্যশিল্পী মীর মশাররফ হোসেনের বন্ধু। মাতা মেহেরউন্নিসা খাতুন উমেদপুরের সম্ভ্রান্ত আলেম বংশের গুণান্বিত মহিলা ছিলেন। কাজী আবুল কাসেম মাত্র চার বছর বয়সে বাবা এবং পাঁচ বছর বয়সে মাকে হারান। শৈশবেই চিত্রকলার প্রতি আকর্ষণ জন্মে। তিনি নিভৃতে ছবি আঁকতে থাকেন। বড় ভাই কাজী আবুল হোসেন (১৯১১-১৯৭৪, কথাসাহিত্যিক) এ বিষয়ে ছিলেন তার একমাত্র উৎসাহদাতা। ১৯২৬ সালে তার চিত্রকর্মে মুগ্ধ হয়ে ফরিদপুর শহরের এক পাদ্রি তাকে নিয়ে কলকাতা যান গভর্নমেন্ট আর্ট স্কুলে ভর্তি করানোর উদ্দেশ্যে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও বয়স কম হওয়ার কারণে দেশে ফিরে আসেন। ১৯২৮ সালে আসাম হয়ে পুনরায় কলকাতা যান।
১৯৩০ সালে মাত্র ১৮ বছর বয়সে মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন সম্পাদিত, বিখ্যাত মাসিক সওগাতে (বাংলা ১৩৩৭ সালের পৌষ সংখ্যা) প্রকাশ হয় তার প্রথম কার্টুনচিত্র। এর মাধ্যমে কাজী আবুল কাসেম পরিচিত হন প্রথম বাঙালি মুসলিম কার্টুনিস্ট ও চিত্রশিল্পী হিসেবে। এরপর বহু দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক পত্রিকায় তার আঁকা একরঙা ও বহুরঙা চিত্র ও কার্টুন প্রকাশ হতে থাকে। অসংখ্য বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলঙ্করণ হয় তার নিপুণ হাতে পরম আন্তরিকতা ও বিশ্বস্ততায়। কলকাতার কমার্শিয়াল আর্ট স্টুডিওতে তিনি সামান্য বেতনে চাকরিতে প্রবেশ করে অল্প সময়েই প্রতিষ্ঠানের প্রধান চিত্রকর্মী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। এরপর ১৯৪১ সালে বেঙ্গল গভর্নমেন্টের শিল্প বিভাগে চাকরি নেন। ১৯৫০ সালের গোড়ার দিকে শিল্প বিভাগের আওতায় ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টার ফর ডিমোবিলাইজড পার্সোনেলের বালিগঞ্জ শাখায় শিল্পী-শিক্ষকের পদে নিয়োজিত ছিলেন।
১৯৫০ সালের মধ্য ভাগে তিনি কলকাতা থেকে এসে প্রথমে কিছু দিন খুলনা ছিলেন, পরে ঢাকায় চলে আসেন।
১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের মহান সৈনিক কাজী আবুল কাসেম তার আঁকা ‘হরফ খেদাও’ কার্টুন চিত্রটির কারণে স্মরণীয় হয়ে রয়েছেন। ১৯৬০ সালে এক বছর অস্থায়ীভাবে টেকস্ট বুক বোর্ডের আর্ট রিভ্যুয়ার এবং ১৯৬১ সাল থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত ফ্রাঙ্কলিন বুক প্রোগ্রামসের প্রধান শিল্প নির্দেশক ও শিশুসাহিত্যের বইয়ের রিভ্যুয়ার হিসেবে চাকরি করেছিলেন। এরপর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। অবিভক্ত বাংলার একজন পথিকৃৎ চিত্রশিল্পী ও কার্টুনিস্ট ছাড়াও তিনি শিশু সাহিত্যিক, ছড়াকার, শৌখিন কণ্ঠশিল্পী, আধুনিক এক বিজ্ঞানমনা ব্যক্তিত্ব হিসেবেও সুপরিচিত ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমি পদক, জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্র স্বর্ণপদক, এস এম সুলতান স্বর্ণপদক, বাংলাদেশ শিশু একাডেমি পুরস্কার, নাসির উদ্দীন স্বর্ণপদকসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার প্রতিভা বিকশিত হয় একজন সহজাতশিল্পী হিসেবে। পেশাদার হলেও তার প্রকৃত ও মৌলিক শিল্পীসত্তা কখনো পরাভূত হয়নি। ২০০৪ সালের ১৯ মে এই মহান মানবতাবাদী শিল্পী ও সাহিত্যিক এবং আমাদের সাংস্কৃতিক রেনেসাঁর অন্যতম প্রাগ্রসর পুরুষ ইন্তেকাল করেন। হ


আরো সংবাদ