১৯ আগস্ট ২০১৯

কার হাসি কে হাসে?

তৃতীয় নয়ন
-

‘বিজয় মহৎ, সংগ্রাম মহত্তর।’ এ কথার প্রমাণ আবার মিলেছে এবার বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে। জিতেছে ইংল্যান্ড, হেরেছে নিউজিল্যান্ড। কিন্তু হেরে যাওয়া এই দ্বীপদেশ সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে, সেই সাথে সহমর্মিতাও। নিউজিল্যান্ড আর ইংল্যান্ডÑ দুটোই অত্যন্ত শক্তিশালী টিম নিঃসন্দেহে। তবে এবার ইংল্যান্ড সৌভাগ্যবশত জয়ী; আর নিউজিল্যান্ড কপালদোষে পরাজিত হয়েছেÑ এমনটিই সবার অভিমত। বিশেষ করে, ক্রিকেটের ফাইনাল খেলায় ‘টাই’ হওয়ার পর সুপারওভার শুরু হতেই সবার ধারণা হলো, এখন মাঠের খেলার চেয়ে ভাগ্যের খেলার গুরুত্ব বেশি থাকবে। যা হোক, এমন অতুলনীয় উত্তেজনাময় আর আকর্ষণসমৃদ্ধ বিশ্বকাপ ফাইনাল এর আগে ক্রিকেট ইতিহাসে আর হয়নি। বিশ্বের ক্রিকেটামোদীরা এই খেলায় ইংল্যান্ডের বেন স্টোকস এবং নিউজিল্যান্ডের কেন উইলিয়ামসনÑ দু’জনের অসাধারণ নৈপুণ্য ও বৈশিষ্ট্যের কথা মনে রাখবেন বৈকি। এ দিকে ফাইনাল খেলা নিয়ে এত বিতর্ক, বিস্ময় ও সমালোচনার মধ্যে তিন দিন পরে এর আয়োজক আইসিসির ঘুম ভেঙেছে। কিন্তু তারা ফাইনালের ফলাফল নিয়ে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা চলমান বিতণ্ডাকে আরো উসকে দিতে পারে। কারণ, এতে সেদিন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে যেমন প্রমাণিত হয়নি; তেমনি ইংল্যান্ডেরই প্রাপ্য ছিল চ্যাম্পিয়নশিপÑ এটাও বিশ্বাস করানো যায়নি। অতএব, এবারের বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চূড়ান্ত ফল নিয়ে বিশ্ববাসীর বিস্ময় আর বিভ্রান্তির চূড়ান্ত অবসান হয়তো কোনো দিন ঘটবে না।
বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সুপার ওভারেও ক্রিকেট জগতের সুপারপাওয়ারতুল্য ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হতে, অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দ্বী নিউজিল্যান্ডকে হারাতে, পারেনি নিজেদের লর্ডসের ময়দানে। এরপর বাউন্ডারি কোন দলের বেশিÑ এমন একটা অদ্ভুত, অজ্ঞাত আর অযৌক্তিক বিধানের প্রয়োগ ইংরেজদের ভাগ্যদুয়ার উন্মোচন করে দেয়। নিউজিল্যান্ডের যত অনিচ্ছা আর বিস্ময় থাকুক, ‘হার’ না মেনে তাদের উপায় ছিল না। অনেকটা যেন ইংল্যান্ডের রানী বা রাজাকে আজো দূরবর্তী নিউজিল্যান্ডের রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মেনে নেয়ার মতো। ১৪ জুলাই একটি ঐতিহাসিক দিন বিশেষ করে ইউরোপের ইতিহাসে। ১৭৮৯ সালের এ দিন অভূতপূর্ব গণবিপ্লবের তোড়ে স্বৈরতন্ত্রী ফরাসি সম্রাটের বাস্তিল দুর্গের পতন ঘটেছিল। উন্মেষ ঘটেছিল ‘স্বাধীনতা-সাম্য-মৈত্রী’র সুমহান আদর্শের। ২০১৯ সালের ১৪ জুলাইও স্মরণীয় হয়ে থাকবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ফাইনালের অভূতপূর্ব ও অভাবনীয় পরিণতির কারণে। সেদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী উভয় টিমই নিঃসন্দেহে খুবই শক্তিশালী অনন্য দল। তবে যেভাবে ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, তাতে তাদের কৃতিত্বের বদলে ভাগ্যই রেখেছে মূল ভূমিকা। প্রতিপক্ষ নিউজিল্যান্ড অসাধারণ খেললেও কপালের জোরে শেষ হাসি হেসেছে ইংল্যান্ড। পুরো বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের প্রত্যাশিত মর্যাদায় নিউজিল্যান্ডের অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ভূষিত হয়েছেন। তবে তা চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার ঘাটতি পূরণ করে না;
বরং এটা এক ধরনের সান্ত্বনা হিসেবেই অনেকের কাছে বিবেচিত হলো।
প্রসঙ্গক্রমে, নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টিমের একটি ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের প্রশংসা করতে হয়। তা হলো, তাদের জাতীয় সঙ্গীত ইংরেজি ছাড়াও মাওরি ভাষায় পরিবেশন করা। এটা এক দিকে, সারা বিশ্বের আদিবাসীদের মর্যাদা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা এবং অন্য দিকে, ঔপনিবেশিক যুগের শ্বেতাঙ্গ ও ইউরোপীয় আধিপত্যের প্রতি এক ধরনের প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ। আমরা জানি, বর্তমান আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানত শ্বেতাঙ্গ ব্রিটিশ উপনিবেশবাদীরা আদিবাসী রেড ইন্ডিয়ানদের নির্বিচারে নির্মূল করে আধিপত্য কায়েম করেছিল। আরো বহু দেশেই এমন বর্বরতার মাধ্যমে শ্বেতাঙ্গ উপনিবেশবাদীদের কর্তৃত্ব কায়েম হয়েছে যুগে যুগে। একইভাবে অস্ট্রেলিয়াতেও ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গরা নিজেদের প্রভুত্ব কায়েমের জন্য সেখানকার আদিবাসিন্দাদের হত্যা-নির্যাতন-লুণ্ঠন-বিতাড়নের প্রক্রিয়ায় উৎখাত করেছে। কিন্তু নিকটবর্তী নিউজিল্যান্ডেই ঘটেছিল ইতিহাসের ব্যতিক্রমী ঘটনা। সেখানে শ্বেতাঙ্গদের রাষ্ট্রপ্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ইতিহাসে স্থানীয় আদিবাসী মাওরিদের সাথে বহুবার যুদ্ধ হয়েছে। কিন্তু সাদা চামড়ার ইংরেজ বা ব্রিটিশরা তাদের চূড়ান্তভাবে হারাতে পারেনি। শেষ অবধি, আপস ও সমঝোতার পথে নিউজিল্যান্ড দেশটি গঠিত হয়েছে। আজো সেখানে আদিবাসীদের দেয়া নামেই পরিচিত হচ্ছে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দৃশ্যত শ্বেতাঙ্গ অধ্যুষিত হলেও নিউজিল্যান্ডে ইংরেজির সাথে আদিবাসী মাওরিদের ভাষাও প্রচলিত। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টিমের সবাই এখন শ্বেতকায়। তবুও তারা তামাটে বা কৃষ্ণবর্ণের মাওরি আদিবাসীদের ভাষা ও সংস্কৃতির মর্যাদা না দিয়ে পারেননি। নিজেদের ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি সে ভাষাতেও জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এর দৃষ্টান্ত।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট টিমের একজন বিশিষ্ট সদস্য জিমি নিশাম। ১৪ জুলাই ফাইনাল ম্যাচের চূড়ান্ত মুহূর্তে যখন সুপার ওভার তার টিমের খেলোয়াড়দের এবং সেই সাথে নিউজিল্যান্ডের জনগণ আর বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষের স্নায়ুতে সুপার প্রেশার সৃষ্টি করেছিল, তখন নিশাম টুইট করেছিলেনÑ ‘বাচ্চারা, খেলাকে পেশা হিসেবে নিও না। কেক-বিস্কুট বানাও কিংবা অন্য কোনো পেশায় যাও। ৬০ বছর বয়সে মরলেও যেন মোটা আর সুখী হয়েই মারা যাও।’ এটা নিশাম নিছক রসিকতা করে বলেননি। তার হতাশা আর বেদনার প্রকাশ ঘটেছে এতে। বলা বাহুল্য, সেই সুপার ওভার শেষে নিউজিল্যান্ডের হৃদয়ভঙ্গই শুধু নয়, স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে। অন্য দিকে, ইংল্যান্ড মেতে উঠেছিল সর্বপ্রথমবারের মতো ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের মহানন্দে। অবশ্য এতে তাদের চেয়ে আম্পায়ারের ‘অবদান’ বেশি বলে অভিযোগ বেশ জোরালো।
জিমি নিশামের হৃদয় আরো একবার ভেঙে গেছে এর পরপরই। কারণ সেই ‘অপয়া’ সুপার ওভারের স্নায়বিক উত্তেজনার মাঝে মারা গেলেন নিশামের (তার টিমের খেলোয়াড় লকি ফার্গুসনেরও) শিক্ষাগুরু ডেভিড গর্ডন। বিশ্বকাপের সুপার ওভারে নিশাম ছক্কা হাঁকানোর সাথে সাথে গর্ডন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তিনি ছিলেন নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড গ্রামার স্কুলের টিচার।
গত বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটাররা ব্রিটেনে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করে দেশে ফিরেছেন। পত্রিকার খবর, তাদের মনে রয়েছে বিরাট আফসোস। আসলে শুধু তাদের নয়, বিশ্বের অসংখ্য ক্রিকেটামোদী নারী-পুরুষেরও নিদারুণ আফসোস রয়ে গেছে এবারের বিশ্বকাপে ফাইনালটা যেভাবে সাঙ্গ হলো, সে ব্যাপারে। নিউজিল্যান্ড বা নির্দিষ্ট কোনো দেশের সমর্থকেরা শুধু নয়, অন্যদেরও প্রত্যাশা ছিল, এমনভাবে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়নশিপ নির্ধারিত হবে, যেন কারো মনে এ নিয়ে কোনো ক্ষোভ, প্রশ্ন বা সন্দেহ না থাকে। বাস্তবে তা হলো না। ফলে বিজয়ী ইংল্যান্ড সমর্থকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে আনন্দ-উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেননি। অন্য দিকে, নিউজিল্যান্ড সমর্থকেরা মনে করছেন, আম্পায়ার এবং আইসিসি যেভাবে তাদের টিমকে বিজয়বঞ্চিত করেছে, তা বিশ্বকাপের ইতিহাসে কলঙ্কের একটা রেকর্ড হয়ে থাকবে। তাদের অনুতাপের কারণ হয়ে আছে কয়েকটি বিষয়। যেমনÑ ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের ক্যাচ ধরতে গিয়ে বাউন্ডারিতে কেন নিউজিল্যান্ডের ট্রেন্ট বোল্টের পা পড়ল? শেষ ওভারটাতে স্টোকসের ব্যাটে লেগে ওভার থ্রো ৪ রান যদি না হতো! ম্যাচ আর সুপার ওভারের পর বাউন্ডারি রেটের গ্যাঁড়াকলে কেন নিউজিল্যান্ডের হাত থেকে শেষ মুহূর্তে বিজয় গৌরব ছিনতাই হয়ে গেল? ইত্যাদি।
এ দিকে, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে দুই দলের খেলা ইনিংস সমতায় শেষ হলে যে সুপার ওভার খেলা হবে, সেটা জানতেন না ট্রেন্ট বোল্টের মতো ঝানু ক্রিকেটারও। তিনি স্বদেশে ফিরে বিমানবন্দরেই এ কথা অকপটে জানালেন সাংবাদিকদের। আরো গুরুত্বপূর্ণ হলো, নিউজিল্যান্ডের কোচ গ্যারি স্টিড স্বয়ং বলেছেন, বাউন্ডারির সংখ্যা হিসাব করে চ্যাম্পিয়নশিপ ঘোষণার যে বিধি রয়েছে আইসিসির, এটা তার জানা ছিল না। তিনি এর পর্যালোচনারও দাবি জানিয়েছেন একই সাথে। এ ক্ষেত্রে তাদের অজ্ঞতা যেমন স্বাভাবিক নয়, তেমনি আইসিসির দায়িত্ব এসব গুরুত্বপূর্ণ নিয়মকানুন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিশদ জানিয়ে দেয়া। তারা এ দায়িত্ব কতটা পালন করেছেন, নাকি এ ব্যাপারে ক্রিকেট পরাশক্তিগুলোর কোনো কারসাজি রয়েছে, কে জানে।
বোল্টের ক্যাচ মিস করা নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘কিভাবে যেন বল মাটিতে গড়াতে গড়াতে ৬ রান হয়ে গেল, যেটা আগে কখনো হয়নি।’ এ ‘ছক্কা’র চেয়েও বোল্টের জন্য বেশি দুঃখের কারণ, স্টোকসের অন্য ছক্কাটি। বোল্টের পা ঘটনাক্রমে সীমানায় না পড়লে তখন ক্যাচ হয়ে যেত। বাউন্ডারিতে অবিশ্বাস্য ক্যাচ নিয়েছেন যিনি, সেই ট্রেন্ট বোল্ট বললেন, ‘সব ভাবনা তখন ছিল বলটা ধরা নিয়ে। ইংল্যান্ডের বাউন্ডারিগুলো অদ্ভুত। এগুলো ঠিক বৃত্তাকার নয়; অষ্টভুজ, বর্গক্ষেত্র বা এ রকম। আমার বাম পা সীমানাদড়িতে লাগার সময় কেমন বোধ করেছি, তা বোধগম্য। তখন কাছের মার্টিন গাপটিলকে বলটি ছুড়ে দেয়ার সময়ও ছিল না।’
নিউজিল্যান্ড স্বাভাবিক সৌজন্য প্রদর্শন করেছে ইংল্যান্ডের বিতর্কিত বিজয়কে মেনে নিয়ে। তাই বলে এ বিষয়ে বিতর্ক থামেনি দুনিয়াজুড়ে। কারণ শ্রীলঙ্কান আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনা সেদিন পক্ষপাতিত্ব না হোক, অন্তত বিরাট ভুল করেছেনÑ এমন বিশ্বাস জন্মেছে বিশ্বের অসংখ্য ক্রীড়ামোদীর। তারা ইংল্যান্ডের প্রতি বিদ্বিষ্ট কিংবা নিউজিল্যান্ডের প্রতি আকৃষ্ট নন। বিশ্বকাপের পর, ইংল্যান্ডের বিজয়ে আনন্দ যতটা, তার তুলনায় নিউজিল্যান্ডের প্রতি সহানুভূতি দেখা যাচ্ছে বেশি। এর পেছনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে আইসিসির পাঁচবার নির্বাচিত শ্রেষ্ঠ আম্পায়ার সাইমন টফেলের বিস্ফোরক মন্তব্য। আইসিসির বিধিবিষয়ক কমিটির এই সদস্য বোমা ফাটানোর মতো উক্তি করেছেন, ‘ফাইনালে ইংল্যান্ডের বেন স্টোকসের ব্যাটে লেগে বল যখন মাঠের সীমানা পার হয়ে যায়, তখন ইংল্যান্ডের প্রাপ্য ছিল ৬ রান নয়, বরং ৫ রান। তবুও ভুলে তারা ৬ রান পেয়ে গেলেন।’ সে সময়ে স্টোকস নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকার বিধান থাকলেও তা হয়নি। তিনি তখনো তার সতীর্থ ব্যাটসম্যানকে ক্রসও করেননি। গত শুক্রবার ঢাকার একটি জাতীয় দৈনিকে মন্তব্য করা হয়েছে, ‘নিউজিল্যান্ডের ক্যাপ্টেন কেন উইলিয়ামসনের সুখেলোয়াড়সুলভ আচরণ, প্রকৃতপক্ষে পুরো নিউজিল্যান্ড দলের খেলোয়াড়ি মনোভাবের প্রশংসায় ক্রিকেট বিশ্ব পঞ্চমুখ।’
নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট তারকা ট্রেন্ট বোল্ট বলেছেন, ‘আমাদের মতো, বিশ্বকাপ জেতার এত কাছে কোনো দল যেতে পারেনি। আবার বিশ্বকাপ হারার এত কাছেও কেউ যাবে না।’ তার কথায় অতিশয়োক্তি নেই মোটেও। বোল্টের কথার প্রতিধ্বনি শোনা যায় মিডিয়ার মন্তব্যে : ‘বিশ্বকাপ ফাইনালটা হয়েছে অবিশ্বাস্য। স্কোরবোর্ড বলবে ইংল্যান্ড জেতেনি, নিউজিল্যান্ড হারেনি। তবু ম্যাচ আর সুপার ওভার শেষে সমতা থাকায় বাউন্ডারির হিসাবে শিরোপা ইংল্যান্ডের। ‘তীরে এসে তরী ডোবা’ বললেও হয়তো বোঝানো যাবে না শিরোপার কতটা কাছে ছিল নিউজিল্যান্ড।’ ইংলিশ টিমের ক্যাপ্টেন মরগান নিজেদের বিজয় সম্পর্কে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে পারেননি; বরং এ ব্যাপারে তার কৌশলী বক্তব্য নিউজিল্যান্ডের প্রতিই মানুষের সহমর্মিতা বাড়াবে।
যা হোক, ক্রিকেটের আম্পায়ারের ভুলে জয়লাভ করা যেমন প্রকৃত আনন্দ দেয় না, তেমনি নির্বাচনের আম্পায়ারের কারণে ভুয়া ভোটে জেতার মধ্যেও নেই কোনো গৌরব। হ

 


আরো সংবাদ