১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অ ভি ম ত : যেন ভুলে না যাই

-

বিবিসির সংবাদে জানতে পারলাম, ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনার ওপর বই লিখেছেন জনৈক শামছুল ইসলাম। তার সাক্ষাৎকারে মনে হলো, সে বই লিখে কত টাকা সম্মানী পেয়েছেন তিনিই জানেন। সেদিন আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নাকি চট্টগ্রামে মিছিল করেছে, গ্রেফতার হয়েছে, মামলায় লড়েছে। তাহলে রাজধানী ঢাকার খবর কী? প্রকৃত খবর হলোÑ ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভীরু ও সুবিধাবাদী আওয়ামী লীগ যুবলীগ-ছাত্রলীগসহ মহিলা লীগ তো দূরের কথা, কোনো ‘পুরুষ লীগ’ও মিছিল বের করেনি সেদিন। বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী অর্থাৎ বাঘা কাদের, একাই বাপের বেটা; দেশে কিছু করতে না পেরে একাই রাতের আঁধারে ছিপ নৌকায় কয়েকজন সাথী নিয়ে ভারতে গিয়ে ১৭ বছর অবস্থান করে সংগ্রাম করেছেন।
এদিকে, উচ্ছিষ্টভোজী চাটুকারেরা মোশতাক সরকারের মন্ত্রিসভা অলঙ্কৃত করে ধন্য হয়েছেন। সুবিধাবাদীরা কেউ মুক্তিযুদ্ধ করেনি। এরা ভারতে গেলেও নিরাপদ আশ্রয়ে ছিল। পুলিশ, ইপিআর, বিদ্রোহী সৈনিক এবং সকল শ্রেণী ও পেশার মানুষ ময়দানে শত্রু বাহিনীর সাথে লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছে। সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হানকে গুম করা হলেও তার কাছে থাকা নেতাদের কাণ্ডকীর্তির ফিল্মগুলো কোথায় গেল? শেখ মুজিব দেশে ফিরলে দেশের কৃতজ্ঞ মানুষ তাকে ‘মুকুটহীন সম্রাট’ হিসেবে বরণ করে নিতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। আর আজ দেশবাসী (উচ্ছিষ্টভোজী কিছু ব্যক্তি বাদে) তিলে তিলে দুর্ভোগ সহ্য করছে। আজকের কোনো কোনো বাহিনী যারা মুক্তিযুদ্ধ করেনি তারাই আমাদের সন্তান, ভাই, ভাইয়ের বা প্রতিবেশীর সন্তান হয়েও শুধু অর্থের বশে বিবেক বিসর্জন দিয়ে, দেশের মানুষের ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা অস্ত্র তাদের নিরাপত্তার পরিবর্তে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করছে।
মো: ফোরকান আলী, রংপুর।

 

 


আরো সংবাদ