১৭ অক্টোবর ২০১৯

আমার দেখা রকমারি নির্বাচন

-

১৯৩০-এর দশক থেকে বড় চাচা শামসুল হক ভূঁইয়া কুমিল্লার তদানীন্তন দাউদকান্দি থানার ভিটিকান্দি ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রেসিডেন্ট বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার রাজনীতি করতেন। ছোটবেলায় একবার তার সাথে নির্বাচন দেখতে গেলাম। এক ভদ্রলোক ভোটারদের একে একে ডেকে তার সামনে বসিয়ে জিজ্ঞেস করলেনÑ ‘আপনি কাকে ভোট দেবেন’। ভোটার ভদ্রলোকের দুই পাশে বসা প্রার্থীদের একজনের নাম করে বলেন, ‘উনারে’। ভদ্রলোক প্রার্থীর নামের পাশে টালি মার্ক করেন। ভোটপর্ব সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত চলে ছিল। ভোটপর্বশেষে ভদ্রলোক প্রার্থীদের সামনে ভোট গণনা করে ফলাফল জানিয়ে দেন।
এর পরেরগুলো যা দেখেছি, তা ব্যালটের মাধ্যমে ভোট। মনে আছে, এক কেন্দ্রে ভোট গণনাকালে মাগরিবের আজান পড়ে গেল। আমার বড় চাচা এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী ওয়াসেক সরকার সামনের কাতারে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলেন; কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো আমার বড় চাচা আজীবন নির্বাচন করেও নির্বাচিত হতে পারেননি। শেষ নির্বাচন করেছেন, আমাদের বারণ সত্ত্বেও, ১৯৭০ সালে।
১৯৪৮ সালে আমরা ঢাকা চলে এসেছিলাম। তবে বড় চাচার প্রায় সব ভোটের সময় বাড়ি যেতাম। ১৯৭০ সালে যাইনি। ১৯৫৪ সালের ‘যুক্তফ্রন্ট’ নির্বাচনের কথা মনে আছে। কেন্দ্র ঢাকার শাহবাগের সাবেক ইপিসিএস একাডেমি। ভোটকেন্দ্রের আশপাশের সীমানা বেড়ায় খবরের কাগজে লাল কালিতে হাতে লেখা পোস্টার সাঁটা। টিনের চোঙ্গা ফুঁকে ক’দিন প্রচার কাজ চলেছিল। তেমন উত্তেজনা দেখা যায়নি। একটা পরিচ্ছন্ন মার্জিত বাতাবরণ। এ নির্বাচনের একটি ধুয়া মনে পড়ে, ‘মৌলানা হক ভাসানী/ বোম ফেলেছে জাপানী/ বোমের ভেতর কেউটে সাপ/ নাজিম বলে, বাপরে বাপ’। আমাদের মতো ছোটদের মধ্যে ধুয়াটির বেশ চল হয়েছিল। এর পর বহু দিন কেটে গেছে।
১৯৭৭ সালে জাতীয় পর্যায়ে ‘হ্যাঁ/না’ ভোট হলো। ঢাকার বাড্ডার বাসার ধারে একটি স্কুলের কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পেলাম। সুষ্ঠুভাবে বিরতিহীন ভোট চলছে। দুপুরের পর এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক এসে আমাকে বললেন, ‘কিছু ব্যালট পেপার ছিঁড়া বাক্সে ফালাইয়া দেন’। আমি বললাম, ‘আপনি ভোটার?’ তিনি বললেন, ‘আমার ভোট দেয়া হইয়া গেছে।’ বললাম, ‘আপনি তাহলে চলে যান।’ তিনি বললেন, ‘আমি যেইডা কইছি হিডা করেন।’ আমি বললাম, ‘প্রিজাইডিং অফিসারকে বলেন। আমি পারব না।’ তিনি বেরিয়ে গেলেন। একটু পর এসে বললেন, ‘আপনে কি লোকটারে ফেল করাইতে চান?’ আমি বললাম, ‘আমি লোকটাকে সম্মানজনকভাবে পাস করাতে চাই।’ আমার কণ্ঠের নম্রতা ও দৃঢ়তায় লোকটা দমে গেলেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থেকে বেরিয়ে গেলেন।
১৯৭৮ সালে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পেলাম। ভোট কেন্দ্র যাত্রাবাড়ীর কাছে মুরাদপুর। ভাবলাম এলাকাটা আগে দেখে আসি। সেখানে গিয়ে জানতে পারলাম, এলাকার ইউনিয়ন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ভালো লোক। তার সাথে দেখা করে গেলে আমার পক্ষে নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে সুবিধা হবে। ভাবলাম, এসেছি যখন তার সাথে দেখা করেই যাই। বাসায় গিয়ে তাকে পেলাম না। আমার পরিচয় দিয়ে তার ছেলেকে বলে এলাম, ‘তাকে বলবেন, আমি এসেছিলাম।’
নির্বাচনের দিন মুরাদপুর স্কুলের উত্তরের ঘরটিতে বসলাম। আর দক্ষিণের ঘরটিতে তিনটি নির্বাচনী বুথ বানানো হয়েছে। প্রার্থী এক দিকে জেনারেল জিয়াউর রহমান। অপর দিকে জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী। এরাই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। পূর্ব-পশ্চিমে লম্বা, টিনের ঘরে আমার টেবিলের বেশ দূরে পূর্ব দিকে সারা দিন জনা চারেক প্রৌঢ় ভদ্রলোক বসে গল্পগুজব করেছেন। তাদের কিছু বলিনি। তারাও আমাকে কিছু বলেননি। আমি সকালে টেবিলে বসার সাথে সাথেই সাদা পোশাকের এক লোক এসে নিজের পরিচয় দিয়ে বললেন, ‘আমি এসবির লোক। আমি আপনার দেখাশোনা করব, যাতে কোনো সমস্যা না হয়।’ তাকে আমার টেবিলের পাশে বসিয়ে রাখলাম।
নির্বাচনী কার্যক্রম শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে চলছে। ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার ঘণ্টা দুই আগে জনা পাঁচেক যুবক এসে বলল, ‘আমরা একটু বুথগুলো ঘুরে দেখতে চাই।’ বললাম, ‘আপনারা কী জানতে চান বলেন; আমি আপনাদের জানাচ্ছি।’ এরা বলল, ‘বিচারপতি সাত্তার সাহেব আমাদের এখানে নামিয়ে দিয়ে গেছেন বুথ দেখার জন্য।’ আমি বললাম, ‘তা হয় না। আপনারা যদি কোনো তথ্য নিতে চান আমাকে বলুন, বুথে যেতে দিতে পারি না।’ কিছুক্ষণ বসে থেকে আমাকে অনড় দেখে তারা চলে গেল।
ভোট শেষ হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা আগে এক রুগ্ণ লোক একটি পিরিচে করে ক’টি নাবিস্কো বিস্কিট আর এক কাপ চা এনে আমার সামনে রাখল। বললাম, ‘এগুলো কে দিয়েছে?’ লোকটি আমার বাঁয়ে কাছেই বসা ওই চারজনকে দেখিয়ে বলল, ‘চেয়ারম্যান সাব’। আমি উঠে গিয়ে চেয়ারম্যান সাহেবকে বললাম, ‘আমি আপনার বাসায় গিয়েছিলাম’। তিনি বললেন, ‘আমাকে বলেছে’। আমি অবাক হয়ে ভাবলাম সকাল থেকে তিনি বসে আছেন। একবার নিজের পরিচয়টাও দিতে এলেন না। এ ধরনের লোক দেশ ও জাতির উপকারে আসেন। তাকে চায়ের জন্য ধন্যবাদ দিয়ে নিজের চেয়ারে ফিরে এলাম। ভালো ও দক্ষ সহকর্মী পেয়েছিলাম বলে ভোট গ্রহণ শেষে ভোট গণনা ও আনুষঙ্গিক কার্যাদি সম্পন্ন করতে বেশি সময় লাগেনি। প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে প্রথম নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করলাম। প্রথমটা ভালোই হলো।
১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের কাগমারী কলেজ কেন্দ্রে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছিলাম। নির্বাচনে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা গাড়িতে করে প্রতিটি কেন্দ্র তদারক করছিল। নির্বাচন সুষ্ঠু হলো। ভোট গণনার পর দেখা গেল, এ কেন্দ্রে লাঙ্গল মার্কার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী নৌকার তুলনায় কম ভোট পেয়েছে। কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণার পর লাঙ্গলের প্রার্থীর নির্বাচনী অ্যাজেন্ট এক যুবক ফলাফল শোনে আমাদের সামনে ডিস্কো ড্যান্স দিতে থাকে। দেখে মনে হলো, ওর প্রার্থী জিতেছে। সে ফুর্তি করছে। পরে এ কনস্টিটুয়েন্সির চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করা হলে দেখা গেল, লাঙ্গলের প্রার্থীই জয়ী হয়েছেন। সে যুবক কি জানত চূড়ান্ত ফলাফলে তার প্রার্থীই ‘বিজয়ী’ হবেন?
১৯৮৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পেলাম টাঙ্গাইলের তারটিয়া প্রাইমারি স্কুল কেন্দ্রে। স্কুলের সামনে দক্ষিণে রাস্তার পাশে খেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। স্কুলের দুই পাশে এবং পেছনে গ্রাম। এ স্কুলটি করটিয়া কলেজে যেতে রোজই দেখতাম। তবে নির্বাচনের দায়িত্বটি প্রায় অনেকের কাছেই এমন অপ্রিয় যে, এ দায়িত্ব আমার মতো অনেকে এড়িয়ে যেতে চান। এর কারণ আমাদের দেশের কিছু অশিষ্ট রাজনীতিক ও তদপেক্ষা ও অশিষ্ট তাদের কর্মী বাহিনী। প্রশাসনের অহেতুক অপ্রিয় মাতবরি তো আছেই। তবে এ দায়িত্ব এড়াতে পারলাম না।
নির্বাচনী প্রশিক্ষণ শেষে রিটার্নিং অফিসারের অফিসে গেলাম। চারজন পুলিশ ও চারজন আনসার আমাকে দিয়ে বলা হলোÑ ‘এরা এবং এদের সাথের অস্ত্র এই মুহূর্ত থেকে আপনার নিয়ন্ত্রণে এবং এসবের দায়দায়িত্ব আপনার।’ বললাম, ‘আমি ব্যালট পেপার নিয়ে বাসায় চলে যাই। এরা আপনাদের হেফাজতে থাকুক। সকালে কেন্দ্রে যাবে।’ প্রশাসন বলেছে, ‘এদের নিয়ে এখনই কেন্দ্রে চলে যান। আমরা আর এদের দায়িত্ব নিতে পারব না।’ এদের সাথে চারটি রাইফেল। দু’জন পুলিশ এবং দু’জন আনসার রাইফেলধারী। আর চারজনের অস্ত্র হলো, হাতের লাঠি। সবই আমার দায়িত্বে। গুরুদায়িত্ব। এরা বলল, ‘স্যার, আপনে বাসায় চইলা যান। আমরা এইখানেই থাকি। সকালে কেন্দ্রে চইলা যামু।’ এরা যেখানেই থাক আর যাই ঘটুক, দায়িত্ব আমার। এদের প্রস্তাবে সাহস পেলাম না। আমি বললাম, ‘চলেন আপনারা। রাতে আমার বাসায় থাকবেন। ভোরে উঠে কেন্দ্রে যাবো।’
আমার তিন রুমের বাসার দক্ষিণের রুমটা ওদের ছেড়ে দিলাম। ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রীর বস্তাটা ভেতরের রুমে আমার কাছে রাখলাম। তাদের বিকেলের নাশতা ও রাতের খাবার দিলাম। এ দিকে বছর দশেক বয়সী, আমার বড় ছেলে তানভীর মহাখুশি। সে বলে, ‘আমিও প্রেসিডেন্ট হবো।’ ভোরে কেন্দ্রে যাওয়ার আগে সবাই নাশতা সারলাম। একটি রিকশাভ্যানে ব্যালটবাক্সসহ ওদের তুলে অপর একটি রিকশায় একজন সশস্ত্র পুলিশসহ নির্বাচনী ব্যালট পেপার ও অন্যান্য সামগ্রীর বস্তাটা সাথে করে ভোটকেন্দ্রে গেলাম।
দুপুরের দিকে একজন এসে আমাকে বলল, ‘ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আপনেরে ডাকে।’ আমি বললাম, ‘ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব কোথায়? ওনাকে আসতে বলো।’ সে স্কুলের পূর্ব পাশের কাঁচা রাস্তাটির দিকে ইঙ্গিত করে বলল, ‘ওই রাস্তায়। আপনেরে যাইতে কইছে।’ এগিয়ে গেলাম। দীর্ঘকায় ফর্সা যুবক ম্যাজিস্ট্রেট জানতে চাইলেন, ‘ভোট কেমন হচ্ছে?’ বললাম, ‘ভালো। পিসফুল।’ ম্যাজিস্ট্রেট চলে গেলেন। দুপুরে খাবার সময় নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাদের বরাদ্দের টাকা দিয়ে দিলাম আর বললাম, ‘সবাই একসাথে খেতে যাবেন না। ভোট গ্রহণ কিন্তু চলবে।’ এক সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ক’জন নির্বাচন সহকর্মীসহ এসে বললেন, ‘স্যার, এক ভদ্রলোক আমাদের সবার জন্য খাবার নিয়া আইছে, আপনেও আসেন।’ আমি বললাম, ‘আপনাদের খাবার টাকা পান নাই’? তিনি বললেন, ‘ভদ্রলোক খুশি হইয়া খাওয়াইতে চায়। আসেন, স্যার।’ বললাম, ‘এটা ঠিক না। আপনারা খেলেও আমি খাবো না।’
খাসির গোশত আর ভাত। তারা সবাই খেল। হাঁটতে হাঁটতে বড় রাস্তার সামনের ছোট্ট এক দোকান থেকে চারটে চাঁপা কলা আর একটি ছোট পাউরুটি এনে খেলাম। বিকেলের দিকে ভোট শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে বড় রাস্তার ওপর, মাঠের পূর্ব কোণে উত্তেজনা লক্ষ করলাম। আমি বারান্দায় বেরোলাম। আমার দিকে আঙুল নির্দেশ করে কিছু যুবক চেঁচামেচি করছে। আমার পাশে রাইফেলধারী এক আনসার তার রাইফেল উঁচিয়ে বলল, ‘স্যার, এইগুলি বাড়াবাড়ি করলে গুলি করমু।’ আমি বলি, ‘থাম। ব্যাপার কী, আগে বুঝি।’ তাদের দিকে তাকিয়ে রইলাম। কিছুক্ষণ ওখানেই দাঁড়িয়ে হইচই করে তারা চলে গেল। ভোট পর্ব শেষে মোমবাতি জ্বালিয়ে ভোট গণনাও নির্বিঘেœ করা হলো। ফোর্সসহ নির্বাচনী মালামাল ও রেজাল্ট রিটার্নিং অফিসারের অফিসে জমা দিয়ে বাসায় ফিরে মনে হলো, একটা বিপদ কেটে গেছে।
১৯৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পেয়েছি কুমিল্লা হাইস্কুল কেন্দ্রে। সেদিন নির্বাচনী কার্যক্রম চলছে। একপর্যায়ে মহিলা ভোটাররা বারান্দার ওপর উঠে পোলিং বুথের সামনে ভিড় করে আছে। আবেদন-নিবেদন করেও বারান্দার নিচে মাঠে নামিয়ে লাইন ধরানো যাচ্ছে না তাদের। এমন এক সময়ে এসপি এলেন। আমাকে বললেন, ‘মহিলারা এভাবে ভিড় করে বারান্দার ওপর দাঁড়িয়ে আছে, আপনার অসুবিধা হচ্ছে না?’ বললাম, ‘এদের আমি অনেক বুঝিয়েছি। কথা শোনে না। আমি তো আর এদের গায়ে হাত দিতে পারি না।’ তিনি বললেন, ‘আপনি যদি বলেন, আমি এদের মাঠে নামিয়ে লাইনে দাঁড় করিয়ে দেই।’ বললাম, ‘ঠিক আছে’। মিনিটের মধ্যে সব ঠিক হয়ে গেল। এক ঘণ্টা কাকুতি-মিনতি করে যে কাজ করতে পারলাম না, পুলিশের উঁচিয়ে তোলা লাঠি আর মুহুর্মুহু হুইসেল তা এক মিনিটেই ঠিক করে দিলো। পুলিশ চলে গেলে মহিলারা মাঠের ওপর লাইনে দাঁড়িয়ে আমার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রইল।
ভোট কেন্দ্র পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে। দুপুরের আগ দিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে দেখলাম বিস্তৃত মাঠ পেরিয়ে সোজা আমার দিকে আসছেন। এসে আমার সাথে হাত মিলিয়ে বললেন, ‘ভোট কেমন হচ্ছে’? আমি বললাম, ‘স্যার। ভালো।’ তিনি যেমনি এসছিলেন তেমনি সোজা চলে গেলেন। এরপর লাঙ্গলের প্রার্থী স্কুলের একই গেট দিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে সোজা আমার কাছে এসে হাত মিলিয়ে বললেন, ‘এই স্কুলের পাশেই আমার বাসা। এটা আমার এলাকা। ইচ্ছা করলে কেন্দ্র দখল করার চেষ্টাও করতে পারতাম। আমি তা চাই নাই।’ বললাম, ‘এতে আপনার সুনামই হবে। কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করলে কি ভালো হতো?’ তিনিও যেমনি এসেছিলেন, তেমনি সোজা চলে গেলেন।
এরপর নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন। তিনি দূর থেকে হাসতে হাসতে নেতাকর্মী পরিবেষ্টিত হয়ে আমার দিকে হাত উঁচিয়ে নাড়তে নাড়তে একটি পোলিং বুথে ঢুকে সে বুথটাকে বিশৃঙ্খল করে দিলেন। দৌড়ে গিয়ে বললাম, ‘স্যার, আপনি আমার রুমে আসুন। ভোটারদের অসুবিধা হচ্ছে।’ তিনি আমার সাথে না এসে চলে গেলেন। পেছনে রেখে গেলেন কক্ষ ভর্তি তার কর্মী-সমর্থকদের। আমি তাদের বহু কষ্টে বের করে বুথটিতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনলাম। এই প্রার্থীর আচরণ আমাদের অবাক করেছিল। এ কেন্দ্রে তথা সংসদের এ আসনে ধানের শীষ প্রতীক জয়ী হয়েছিল। এটাই আমার প্রত্যক্ষ করা শেষ নির্বাচন। হ
লেখক : অর্থনীতির অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক

 


আরো সংবাদ