২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

বাকির ফাঁকিতে হতাশায় দেশ

অন্য দৃষ্টি
-

আসামের অনাগরিক হতে যাওয়া মানুষেরা বাংলাদেশের ঘাড়ে গরম নিঃশ্বাস ফেলছেন। বাংলাদেশ সরকার এবং জনগণ এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুইবার প্রসঙ্গটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে উত্থাপন করে এসেছেন। মোদি দুইবারই একই জবাব দিয়েছেন। বলেছেন, এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। গণমাধ্যমের খবর থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নাগরিকত্ব প্রসঙ্গটি গুরুত্বের সাথে উঠিয়েছিলেন। তবে উভয় দেশের যৌথ ঘোষণাপত্রে এ ব্যাপারে কোনো উল্লেখ নেই। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য ইস্যুর মতো এটিও আমলে নিচ্ছে না ভারত।
শেখ হাসিনার সফরের পর বিতর্কিত ‘নাগরিকপঞ্জি’ নিয়ে বাংলাদেশের আরো উদ্বিগ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নাগরিকত্ব প্রশ্নে ভারতের ভেতরে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার যে শুদ্ধি অভিযান জোরালো করেছে, এর সাথে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের আশ্বাসের কোনো মিল নেই। আসামে ১৯ লাখ মানুষ প্রাথমিকভাবে ভারতে নাগরিকত্ব হারিয়েছেন। এরপর ট্রাইব্যুনালে তাদের নাগরিকত্ব প্রমাণের প্রক্রিয়া চলছে। যারা চূড়ান্তভাবে ‘ভারতের নাগরিক নন’ বলে প্রমাণিত হবে; তাদের বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি কী হবে, সেটি এখনো খোলাসা করেনি নয়াদিল্লি। ‘নাগরিকদের’ জন্য কোনো আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়নি। কিন্তু বিজেপির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্পষ্ট করে বলে বেড়াচ্ছেন, তাদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হবে।’ আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে যখন এ ব্যাপারে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে; তখন ক্ষমতাসীন দলের সভাপতি এ হুমকি দেয়া তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকেরা খবর পাঠাচ্ছেন, সেখানেও নাগরিক তালিকা নিয়ে চরম আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। এ আতঙ্কে সেখানে এ পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু ঘটে।
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ বরাবর ভারতের পক্ষ থেকে জোরালো সমর্থন প্রত্যাশা করে আসছে। এবারো নাগরিকপঞ্জির মতো রোহিঙ্গা ইস্যুতে মোদি মৌখিক আশ্বাস দিয়েছেন শেখ হাসিনাকে। এর যে বাস্তবে মূল্য নেই, ২০১৭ সালে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার বাংলাদেশে ছুটে আসার পর তা প্রমাণিত। নাগরিকপঞ্জি নিয়ে কী ঘটতে পারে, রোহিঙ্গা প্রশ্নে ভারতের প্রশ্নবিদ্ধ অবস্থান থেকে এর ইঙ্গিত স্পষ্ট। রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাতিসঙ্ঘ এসব উদ্যোগ নিয়েছে। রহস্যজনক হলো, এগুলোর একটির সাথেও ভারত নেই। যেসব উদ্যোগ সরাসরি বাংলাদেশ নিয়েছে, সেগুলোর সাথেও ভারত নেই কেন?
রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রসঙ্গ জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে সম্প্রতি উঠেছে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও সরকার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বর্বরতম গণহত্যা চালিয়েছে। ঠাণ্ডা মাথায় নির্মম রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালিয়ে তাদের দেশ থেকে বিতাড়ন করা হয়েছে লাখে লাখে। দেশটির সেনাবাহিনীর কোন কোন ইউনিট এ কাজে জড়িত, তা-ও গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এমনকি, দেশটির সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে কারা এ পৈশাচিকতার সাথে জড়িত তার পর্যাপ্ত দলিল প্রমাণ রয়েছে। জাতিসঙ্ঘ মানবাধিকার কাউন্সিলে ব্যাপারটি ছিল বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র হিসেবে বিশেষত ভারতের সমর্থনদানের। ৩৭টি দেশ এর প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। বরাবরের মতো চীন এর বিপক্ষে অবস্থান নেয়। অন্য দিকে, বাংলাদেশের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ভারত আমাদের সমর্থন দেয়া থেকে বিরত থাকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদি বরাবরের মতো প্রতিবেশী বাংলাদেশের সাথে সম্পর্কের উচ্ছ্বসিত প্রশস্তি গেয়ে যাচ্ছেন। এবারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরের সময়েও তিনি মন্তব্য করেছেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক বিশ্ববাসীর জন্য অনুকরণীয়।’ নাগরিকপঞ্জি নিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনেরা নিদারুণ অস্বস্তিতে রয়েছেন। দেশের সাধারণ মানুষও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর দেয়া যৌথ বিবৃতিতে নাগরিকপঞ্জি নিয়ে ক’টি কথা উল্লেখ করে এই অস্বস্তি আর উদ্বেগ কিছুটা হলেও দূর করতে পারতেন মোদি।
আসামের নাগরিকপঞ্জি ভারতের ‘অভ্যন্তরীণ’ ইস্যু বলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ‘আশ্বস্ত’ করে বলেছেন, এ নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই। এবারে শেখ হাসিনার ভারত সফরে দেশবাসীর আশা ছিল, তিস্তার পানিবণ্টন নিয়ে অন্তত কিছুটা অগ্রগতি হবে। জানা গেল, ত্রিপুরার জন্য ফেনী নদীর পানি তুলে নেয়ার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ। একজন কূটনীতিক সংবাদপত্রে এটিকে ‘দৃষ্টিকটু’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিস্তার পানির মতো এত আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি একেবারে ধামাচাপা পড়ে গেল। আরো কয়েকটি নদীর পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি রূপরেখা চুক্তি হওয়ার কথা ছিল ভারতের সাথে। সেগুলোর ব্যাপারেও কোনো সাড়াশব্দ নেই। তাই ফেনী নদীর পানি দেয়া ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ বলে ওই কূটনীতিক মন্তব্য করেছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রীর পর্যায় থেকে বাংলাদেশের প্রতি দেয়া ‘আশ্বাস’ কেমন, সে বিষয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মোদি তার মেয়াদের মধ্যে তিস্তা চুক্তি সম্পন্ন করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এখন তিনি গলার সুর কিছুটা পাল্টিয়ে বলছেন, এ ইস্যুকে আমরা ‘সহজভাবে’ নিতে পারি। এর আগের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং ও তিস্তার পানিচুক্তির ব্যাপারে জোরালো আশ্বাস দিয়েছিলেন। এসব আশ্বাসের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। আর নাগরিক তালিকা নিয়ে কেন তাদের ‘আশ্বাস’ বিশ্বাসযোগ্য নয়, তা অমিত শাহের বক্তব্য এবং তাদের নিজস্ব কর্মকাণ্ড থেকে স্পষ্ট।
প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাপারে ভারত কোন দিকে অগ্রসর হচ্ছে, বিষয়টি বোঝা যায় বঙ্গোপসাগরে নজরদারি চুক্তি করার মধ্য দিয়ে। ভারতের সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, এ দেশের উপকূলে নজরদারি করবে ভারত। এ জন্য ভারতকে ২০টি নজরদারি রাডার স্থাপনের অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ। এর মাধ্যমে তারা বঙ্গোপসাগর এলাকায় নিবিড় পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ২০১৫ সালেই ভারত এ প্রস্তাব দিয়েছিল। চীনের সাথে সম্পর্কের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আরো পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু এবার আর তা ঠেকানো গেল না। তবে এ ধরনের গুরুতর নিরাপত্তাবিষয়ক ছাড় দিয়ে বাংলাদেশের কী সুফল অর্জন হলো; সে বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছেন। এর আগে অর্থনৈতিক বিবেচনায় লাভজনক গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ থেকে ঢাকা পিছু হটেছে। পরে সেটি বাংলাদেশের জন্য কম সম্ভাবনাময় পায়রায় নির্মাণ করা হচ্ছে। ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ সরকার এমন বড় ধরনের ছাড় আগেই দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার ভারত সফরের পর লিখেছে, চীনের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সাথে ভারতের সাতটি চুক্তি। ভারত ঠিকই নিজের নির্ধারিত লক্ষ্যে এগোচ্ছে। দেশটি একে একে নিরাপত্তা ও অর্থনীতি সংক্রান্ত স্বার্থ আদায় করে নিচ্ছে আমাদের থেকে। অন্য দিকে বাংলাদেশ পাচ্ছে শুধু আশ্বাস, আর প্রশস্তি; যা কঠিন বাস্তবতায় যেকোনো বিবেচনায় লাভজনক নয়।
আলোচনার টেবিলে বাংলাদেশের স্বার্থসংবলিত ইস্যু স্থান করে নিতে পারছে না। অথচ ভারতের স্বার্থের বিষয়টি এর বিপরীত। এগুলো একেকটি ঝড়ের বেগে সামনে আসে আর বাংলাদেশ তাতে সায় দিয়ে দেয়। বঙ্গোপসাগরে রাডার নেটওয়ার্ক স্থাপনের চুক্তির বিষয় সম্পর্কে কেউ জানেন না। সরকারের পক্ষ থেকেও এ ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি। বিদেশী সংবাদমাধ্যম সূত্রেই এ বিষয়ে জানতে হয়েছে। ফেনী নদীর পানি ও গ্যাস রফতানির ব্যাপারেও দেশের মানুষ ঘুণাক্ষরেও জানতে পারেনি। বাংলাদেশের মানুষ যখন তিস্তার পানিচুক্তি, সীমান্ত হত্যা, নাগরিকপঞ্জি ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগে আশা করছিল; সে সময় জানতে পারছে এগুলো ভারত-বাংলাদেশ শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনার টেবিলে অগ্রভাগে জায়গাই পায়নি।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক দুই দেশের বর্তমান শাসকদের কাছে ‘রোল মডেল’। এটি কেমন দৃষ্টান্তমূলক সম্পর্ক তা এক বিরাট বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। বিশ্বের কোথাও এ ধরনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দেখা মেলা ভার। রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে বন্ধুত্ব আর শত্রুতা নির্ধারিত হয়। আমেরিকা ও মেক্সিকোর সম্পর্ক কেমন; তা বিশ্ববাসীর জানা। দেনা-পাওনায় কোনো ধরনের অস্পষ্টতা নেই। দাবি করা হয়, বাংলাদেশ ও ভারতের সাথে এক ‘অনন্য দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক’ বিদ্যমান। কিন্তু দেনা-পাওনার ক্ষেত্রে প্রায় সব কিছু একপক্ষীয়, তার সাথে অনেক কিছু রয়েছে যা অস্পষ্ট। আরো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হলো, এ দেশের সংবাদমাধ্যম ও সুশীলসমাজের অস্পষ্ট ও দুর্বল অবস্থান। দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সাধারণত খোলাসা করে কেউ সত্যটি বলতে চান না। স্বাধীনতা লাভের জন্য ভারত বাংলাদেশকে সাহায্য করেছিল। কিন্তু নতুন ও স্বাধীন দেশটির সাথে কার্যকর সম্পর্ক গড়ে ওঠেনি তার, বরং কিছুকাল পরই বাংলাদেশে তীব্র ভারতবিরোধী জনমতের সৃষ্টি হয়। ভারতবিরোধিতার এ জোয়ার এ দেশের নির্বাচনী রাজনীতিতে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে একটি সম্মানজনক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে কেউ সম্ভবত আন্তরিকভাবে অগ্রসর হননি।
বর্তমান সরকারের ব্যাপারে বহুল প্রচারিত মত হচ্ছে; এটি একটি ভারত সমর্থিত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করও সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রে একটি বৈঠকে বলেছেন, বিএনপি বা সামরিক কোনো সরকারের চেয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার তাদের (ভারতের) পছন্দ। তারা বর্তমান সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ভারত প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ নিয়ন্ত্রিত, হাস্যকর নির্বাচনের পক্ষে প্রত্যক্ষ অবস্থান নিয়েছিল। স্বভাবতই জনসাধারণের প্রশ্ন, ভারত সরকারের প্রকাশ্যে এ ধরনের সমর্থনের কারণে ঢাকার বর্তমান সরকার বারবার দিল্লির প্রতি অতিরিক্ত দুর্বলতা প্রদর্শন করছে। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।
দুটো দেশের মধ্যকার চুক্তিকে গণতান্ত্রিক দেশের সংসদে বা পার্লামেন্টে পাস করে নিতে হয়। সংসদে এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক তর্কবিতর্ক চলে। এতে করে, কোনো চুক্তি যদি জনস্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা বাতিল করা বা সে বিষয়ে চুক্তি না হওয়ার জোর তাগিদ তৈরি হয়ে যায়। বাংলাদেশে বর্তমানে এ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি নেই। অন্য দিকে, জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রতিটি চুক্তি হওয়ার আগে জনগণের প্রাসঙ্গিক জানাশোনা থাকা প্রয়োজন। ফেনী নদীর পানি ওই অঞ্চলে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এ নদীর পানির ওপর নির্ভর করে সেখানে কৃষি প্রকল্প রয়েছে। এ পানি প্রত্যাহারের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব লাভের ফেনী ও খাগড়াছড়ির সংশ্লিষ্ট এলাকার মানুষের। কিন্তু চুক্তি এমনভাবে স্বাক্ষরিত হলো; জনমত প্রতিফলিত হওয়ার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। এখন বলা হচ্ছে, এ পানি ‘খুবই সামান্য’।
বাংলাদেশের সংসদ সেভাবে কার্যকর না থাকায় মিডিয়া ও সুশীলসমাজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা উচিত। মিডিয়া সম্ভাব্য চুক্তি ও সমঝোতা নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য ও মতামত জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে পারে। এতে যুক্ত হতে পারে সুশীলসমাজ। তারা পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি তুলে বাস্তবতা উপলব্ধি করার ক্ষেত্রে জনগণকে সহায়তা করতে পারেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে সরব হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এই দুটো দেশের মধ্যে সম্পর্ককে বাস্তব ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর প্রচেষ্টা খুব কম পরিলক্ষিত হয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলো যথেষ্ট বোঝাপড়ার অভাবে চোরাগোপ্তা পথ বা ফাঁক তৈরি হচ্ছে। বলা যায়, ভারত বড় প্রতিবেশী হওয়ার সুযোগে নিজের স্বার্থ কড়ায়গণ্ডায় আদায় করে নিচ্ছে। ‘দেবো আর নেবো’র যে ফর্মুলা, সেটি কার্যকর হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে অনেকে নিজেকে বঞ্চিত মনে করছেন।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবরার ফাহাদ এমন এক বঞ্চিত নাগরিক। তিনি প্রিয় মাতৃভূমির বঞ্চনার কথা ফেসবুক আইডিতে লিখেছিলেন। কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন এটিকে মনে করেছে, তাদের দলের বিরুদ্ধে একটি ‘ষড়যন্ত্র’। তারা নিষ্ঠুরভাবে পিটিয়ে তাদের এই বন্ধু ছাত্রকে হত্যা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ যখন প্রত্যাশা করছেনÑ এবার মনে হয় ভারত সাড়া দেবে, সেই সময় তারা দেখতে পাচ্ছেন; ভারত ‘নিয়ে গেল’ আরো কিছু। এতে দেশপ্রেমিক জনগণের মধ্যে আবরারের মতো বঞ্চনার জন্ম নেয়াই স্বাভাবিক। এ অনুভূতি এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশের মানুষের মধ্যে। হ
[email protected]


আরো সংবাদ