২০ নভেম্বর ২০১৯

হুমকির মুখে বিশ্বের শান্তি

-

এবার ঈদুল আজহার এক সপ্তাহ আগে ৫ আগস্ট ভারত সরকার হঠাৎ প্রায় ৭০ বছরের সমঝোতামূলক ঐতিহ্যের বিপরীতে গিয়ে তাদের সংবিধান থেকে ৩৭০ ধারা বাতিল ঘোষণার মাধ্যমে কাশ্মির উপত্যকাকে সরাসরি কেন্দ্র শাসনের আওতাভুক্ত করে নেয়। একই সাথে তারা ভারতশাসিত কাশ্মিরকে দুই ভাগে বিভক্ত করে সংবিধান সংশোধন করেছে। ফলে কাশ্মির রাজ্য বিশেষ মর্যাদা হারিয়ে ফেলে এবং কাশ্মিরের ভূমি ভারতের অন্যান্য অঞ্চলের যেকোনো নাগরিকের কাছে ক্রয়-বিক্রয়ের পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ৫ আগস্টের বহু আগেই জম্মু ও কাশ্মিরে প্রায় ৯ লাখ সদস্যের ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনীকে মোতায়েন করা হয়। কাশ্মিরের ১৭০ জনের বেশি শীর্ষ নেতাসহ প্রায় ৪০০০ কাশ্মিরিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উপত্যকাজুড়ে কারফিউ ছাড়াও সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়।
মোদি সরকার অনেক ভেবে-চিন্তে দীর্ঘ পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হিসেবেই এ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে, যদিও তা হঠাৎ করেই নিয়েছে বলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলে দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি তার গত পাঁচ বছরের শাসনে কোনো ক্ষেত্রেই তেমন উন্নয়ন ঘটাতে না পারলেও শুধু হিন্দুত্ববাদী চেতনায় ভর করে দ্বিতীয় মেয়াদে পুনর্নির্বাচিত হয়ে নিজের ক্যারিশমা জাহির করতে সক্ষম হয়েছেন। কিন্তু ভারতের অর্থনীতি ক্রমেই মন্দার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ভারতীয় সাংবাদিক শান্তনু দের ভাষায়, ‘ছয় বছরে রেকর্ড পতন। এক ধাক্কায় জিডিপি বৃদ্ধির হার একেবারে ৫ শতাংশে।’ ‘নিছক কোনো অর্থনৈতিক অধঃগতি নয়, ভারত ঢুকে পড়েছে ভয়াবহ মন্দায়।’ ‘এক ধাক্কায় ১০টি সরকারি ব্যাংক মিশিয়ে করা হচ্ছে ৪টি ব্যাংক।’ তিনি আরো বলেছেন, ‘নৈরাজ্য অর্থনীতিতে। নৈরাজ্য সমাজে। অর্থনীতির দুর্দিন আড়াল করতে একপ্রান্তে কাশ্মির সেনা-আধাসেনায় ঘেরাটোপে বন্দী। যেন এক টুকরো ফিলিস্তিন। অন্যপ্রান্তে আসাম-এনআরসি। ভারত সৃষ্টি করে চলেছে তার নিজের রোহিঙ্গা’ (দৈনিক প্রথম আলো, ২২/০৯/২০১৯)। আফগান তালেবান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান চুক্তি তৎপরতা সফল হলে আমেরিকা তার সৈন্য আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিলে পাকিস্তানি তালেবানরা হয়তোবা তাদের মনোযোগ আফগান থেকে কাশ্মিরে নিবিষ্ট করবে। কারণ, আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সৈন্য অপসারণের পর নব্বইয়ের দশকে আফগান ফেরত জিহাদিদের সহায়তায় কাশ্মিরে স্বাধীনতাকামীদের উত্থান ভারত ভুলতে পারছে না। কথিত জিহাদিদের ‘আইএসআই’ মদদ দিয়েছে বলে ভারত সরকার বরাবরই অভিযোগ করে আসছে। কাশ্মিরের স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রায় ৫০ হাজার সামরিক-অসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সে সংগ্রাম স্তিমিত হয়ে গেলেও প্রতিনিয়ত রক্ত ঝরছিল। এ ছাড়া প্রায়ই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হামলায় হতাহতের ঘটনা বাড়ছিল। এরই মাঝে নিয়ন্ত্রণরেখা রক্ষায় পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে গুলিবিনিময়, ভারতের ‘সার্জিক্যাল অপারেশন’ বা পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ভারতীয় যুদ্ধ বিমানের ভয়াবহ আক্রমণের অতিরঞ্জিত কাহিনী ইত্যাদি বিষয়ে মোদি সরকার মাঝে মধ্যেই বেশ বিব্রতকর অবস্থায় নিপতিত হচ্ছিল। কাশ্মিরকে পরিপূর্ণরূপে ভারতের অঙ্গীভূত করে ফেলায় ওই সব ‘ঝামেলা’ হয়তোবা বন্ধ হয়ে যাবে। স্মর্তব্য, ভারতের প্রতিষ্ঠাতা পুরুষরা শান্তির খাতিরে সংবিধানে ৩৭০ অনুচ্ছেদ সংযোজন করেছিলেন। অন্য দিকে, ভারতের ক্ষমতাসীন দল ‘বিজেপি’র হিন্দুত্ববাদী দর্শনের বাস্তবায়নে নতুন প্রক্রিয়া সহায়ক হতে পারে। কারণ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নিজে ‘আরএসএস’-এর আজীবন সদস্য। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হয়েছিল ১৯৭১ সালের পর ‘আরএসএস’-এ যোগদানের মাধ্যমে। পরে তিনি রাজনৈতিক শাখা বিজেপিতে যোগদান করেন এবং গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হন ২০০১ সালে। তার ক্ষমতা গ্রহণের চার মাস পরেই গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গা শুরু হয়। এতে প্রায় ১০০০ মুসলমান নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এ ব্যাপারে তখনকার মুখ্যমন্ত্রী মোদির রহস্যজনক নীরবতা বা নিষ্ক্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করা হয় (Shantic Marict D’souza, Encyclopedia Britanica। এর আগে ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার নেতৃত্বও দিয়েছিল বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারি দল ‘বিজেপি’সহ সঙ্ঘপরিবার।
বিশ্বের নিরাপত্তায় হুমকি : কাশ্মিরের বর্তমান সঙ্কট বিশ্বের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ভূত সঙ্কটগুলো নি¤œরূপ :
(ক) সর্বগ্রাসী যুদ্ধ : কাশ্মিরের মর্যাদা অবনমিত করার প্রক্রিয়ায় ভারতের কঠোর অবস্থান এবং পাকিস্তানের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেশ দু’টিকে যুদ্ধের প্রান্তে নিয়ে এসেছে। যেকোনো মুহূর্তে সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু হয়ে যেতে পারে। এই যুদ্ধ শুধু রক্তপাত করা ছাড়া আর কোনো ফল দিতে পারবে বলে মনে হয় না। এই যুদ্ধের বোঝা বহন করার সামর্থ্য দুই দেশের কোনোটির নেই। পাকিস্তানের অর্থনীতি ভঙ্গুর পর্যায়ে এবং তাদের অস্তিত্বের কেন্দ্রবিন্দু হলো সেনাবাহিনী। আসফান্দার মির বলেছেন, 'The Pakistani military culture is organized around the rivalry with India, especially over kashmir' (Washington Post, 9 August, 2009) তুলনামূলকভাবে ছোট হলেও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ‘মর্যাদা’ রক্ষার তাগিদে ভারতের সাথে যুদ্ধে হয়তো পিছপা হবে না। অন্য দিকে, ভারতেরও একবিন্দু ছাড় দেয়ার কোনো ইঙ্গিত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তবে দুই দেশই নিজেদের পরিণতি সম্পর্কে সজাগ থেকে হয়তোবা সর্বাত্মক যুদ্ধের পরিবর্তে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর খণ্ড খণ্ড যুদ্ধে (Low Intensity Conflict) অবতীর্ণ হতে পারে। কিন্তু যে মাপের যুদ্ধই হোক না কেন, এর প্রভাব দক্ষিণ এশিয়ায় পড়তে বাধ্য। বিশেষত প্রতিবেশী দেশগুলোতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে আমরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছি। ভারত সরকারের সাথে আমাদের সরকারের বন্ধুসুলভ উষ্ণ সম্পর্কের কারণে এবং আমাদের কোনো কোনো নেতার অপরিণামদর্শী মন্তব্যে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির বোঝা আমাদের ঘাড়েও চাপানো হতে পারে। যুদ্ধ বেধে গেলে বিশ্বদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে যেকোনো পক্ষ Preemptive লক্ষ্য হিসেবে তৃতীয় কোনো প্রতিবেশী দেশে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা অসম্ভব নয়।
তাছাড়া এ ধরনের হঠকারী যুদ্ধে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশলগত কারণে বাংলাদেশকে যুদ্ধে জড়িয়ে নেয়া হতে পারে।
(খ) পারমাণবিক যুদ্ধ : পারমাণবিক যুদ্ধ হলো ‘সাপে কাটা ব্যক্তি এবং সাপ, উভয়েরই অবধারিত মৃত্যু’র মতো। অর্থাৎ এই যুদ্ধে একপক্ষ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করলে প্রতিপক্ষও পাল্টা ব্যবহার করবে। উভয়পক্ষের সমূলে ধ্বংস তাই অনিবার্য। আর শুধু যুদ্ধরত দু’টি দেশ নয় বরং প্রতিবেশী সবাই এর বলি হবে। ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই পারমাণবিক অস্ত্র আগে নিক্ষেপ না করার জন্য বদ্ধপরিকর। তথাপি তাদের এই যুদ্ধংদেহী মনোভাব সারা বিশ্বকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে। আমরা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পারমাণবিক অস্ত্রের কেবল সীমিত ব্যবহারে ভয়াবহ পরিণাম সম্পর্কে ভালোভাবেই অবগত আছি।
(গ) তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা : কাশ্মির সমস্যা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধেরও সূত্রপাত ঘটাতে পারে। লাদাখ অঞ্চলকে আলাদা একটি ইউনিট হিসেবে সরাসরি কেন্দ্রের আওতাভুক্ত করায় চীনও এই সমস্যায় জড়িত হয়ে পড়েছে। চীন হলো পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের বন্ধু। কাজেই সম্ভাব্য যুদ্ধে চীন পাকিস্তানের পাশে থাকতে পারে। অন্য দিকে, রাশিয়ার সাথে ভারতের পুরনো বন্ধুত্ব রয়েছে এবং বর্তমানেও ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সহযোগী রাশিয়া। এ দিকে রাশিয়া চীনের সাথে কৌশলগত বন্ধুত্বের প্রক্রিয়ায় আবদ্ধ রয়েছে। ফ্রান্স সরাসরি জড়িত না হলেও তারা ভারতের অস্ত্র সংগ্রহের প্রধান উৎস হতে চাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র যদিও চীনের বৈরিতায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বন্ধুত্বের বন্ধনে আবদ্ধ, তথাপি অস্থির প্রকৃতির প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝা খুবই দুরূহ। তিনি এই ইস্যুতে পাকিস্তান ও ভারত উভয়ের কাছেই দূতিয়ালির প্রস্তাবও দিয়ে রেখেছেন। অন্য দিকে, বর্তমান মুসলিম বিশ্বের শক্তিধর দেশ তুরস্ক এবং ইরান বেশ জোরালোভাবেই ভারতের কাশ্মির অন্তর্ভুক্তির বিরোধিতা করছে। অপর দিকে, এই দুই দেশের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরাইলের সাথে ভারতের সখ্য ও সহযোগিতা দূর অতীত থেকেই বিদ্যমান। সব মিলে একটি জটিল পরিস্থিতি বর্তমান কাশ্মির সমস্যা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে। এমতাবস্থায় ইন্দো-পাক যুদ্ধ উপমহাদেশেই আবদ্ধ থাকবে বলে মনে হয় না। কাশ্মিরের ৭০ লাখ মুসলমানের দুর্বিষহ জীবন বিশ্বের ১৬০ কোটি মুসলমান জনগোষ্ঠীর আবেগকে স্পর্শ করলে মুসলিম দেশের শাসকরা এতে সক্রিয় হতে বাধ্য হতে পারেন।
(ঘ) গেরিলা যুদ্ধ : কাশ্মিরের জনগণ বিশেষত ১৯৯০ সাল থেকে স্বাধীনতার জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর সশস্ত্র প্রতিরোধ করে আসছে। বর্তমান পরিস্থিতি তাদের গেরিলা যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্য প্ররোচিত করতে পারে। অস্ত্র প্রস্তুতকারী দেশগুলো শুধু বিক্রয়লব্ধ অর্থ নিয়েই ব্যস্ত থাকে। কার কাছে অস্ত্র যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে সে ব্যাপারে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। অন্য দিকে ভারতে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী রয়েছে অনেক। এসব গোষ্ঠীর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রায় সব গোষ্ঠী এই সুযোগে চাঙ্গা এবং অন্যান্য রাজ্যেও পুরনো বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। তখন রক্তক্ষয় ছাড়া আর কোনো পরিণতি হয়তো থাকবে না।
(ঙ) সন্ত্রাসের বিস্তার : কাশ্মির ইস্যুর কারণে সবচেয়ে ভয়াবহ যে সমস্যার উদ্ভব হবে তা হলো সন্ত্রাসবাদের বিস্তার। সন্ত্রাস নামক দৈত্য শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই নয় বরং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে। বহুলালোচিত ‘আইএস’ নিজ ভূমি থেকে বিতাড়িত হয়ে নতুন আস্তানার সন্ধানে রয়েছে। ওরা পরাজিত হয়ে বেশির ভাগই যার যার দেশে ফিরে গেছে। সাথে নিয়ে গেছে যুদ্ধের অভিজ্ঞতা আর মারাত্মক ধরনের বিকৃত আবেগ। এ দিকে অপমানিত ও ক্ষুব্ধ কাশ্মিরিরা দিনের পর দিন নিজ আবাস ভূমিতে অবরুদ্ধ অবস্থায় নির্যাতিত ও নিগৃহীত হচ্ছে। তাদের যুবা-কিশোররা উধাও হয়ে যাচ্ছে, নারীরা নির্যাতিত হচ্ছেন। এই প্রক্রিয়ায় বহু তরুণ-যুবাকে Radicalization বা চরমপন্থার দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। বিবিসির ভাষ্য মতে, ‘কাশ্মিরে স্কুল-কলেজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ছেলেমেয়েরা ঘরে বসে থাকে, টিভি সংবাদ দেখে এবং পিতা-মাতাদের কাছে ভারতের অবিচার করার কথা শোনে এবং উদ্যানগুলোতে ‘পাথর ছোড়া’ নিয়ে খেলে। এভাবেই কাশ্মিরের শিশুরা একটি সুপ্ত প্রতিশোধস্পৃহা লালন করে বেড়ে উঠছে এবং উগ্রবাদী গোষ্ঠীর মগজ ধোলাইয়ের সমূহ হুমকির মধ্যে রয়েছে। কাশ্মিরে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬টি সশস্ত্র সংগঠন সক্রিয় রয়েছে, যাদের ভারতের থিংক ট্যাংক ‘ইনস্টিটিউট ফর কলফ্লিক্ট ম্যানেজম্যান্ট’ চরমপন্থী হিসেবে শনাক্ত করেছে (Global war on Terror : Bangladesh perspective; September 2007, Page : 94)। তারা দ্রুত কাশ্মিরি যুবকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়াস পেতে পারে। এমনিতেই এই এলাকায় রোহিঙ্গা সমস্যা, আসামের ‘এনআরসি’ সমস্যা ইত্যাদিতে প্রধানত মুসলমানরা উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তার ওপর নতুন করে কাশ্মিরের এই সমস্যা তাদের আরো উদ্বেগ ও হতাশার দিকে ঠেলে দেবে। তারা বিচারহীনতার শিকার বা নির্যাতিত জাতি হিসেবে নিজেদের আবিষ্কার করবে। ফলে নতুন করে উগ্রবাদের উপাদান যুক্ত হতে পারে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ভারতের একটি অতি পুরনো সমস্যা। কাশ্মিরের এই নতুন যাত্রা সমগ্র ভারতকে বারুদের ওপর বসিয়ে দিয়েছে। যেকোনো তুচ্ছ ঘটনায় দেশের যেকোনো স্থানে এই ভয়াবহ দাঙ্গা নামক কৃত্রিম দুর্যোগ সৃষ্টি হতে পারে। উল্লেখ্য, ১৯৪৭ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত ভারতে মোট ১৩,৯০৫টি সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হয়েছে।
ভারত সরকার তাদের সংবিধান থেকে ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদ বাতিল করায় কাশ্মির সঙ্কট আরো ঘনীভূত হয়ে পড়ছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই সারা বিশ্বের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে নাজুক পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে। পুরো বিশ্বব্যবস্থায় মেরুকরণের পাশাপাশি সশস্ত্র প্রতিরোধে নতুন করে উৎসাহ উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে পারে। বিশ্ব নেতাদের এখন আর নিছক উদ্বেগ প্রকাশ করার অথবা কূটনৈতিক ভাষায় সংশ্লিষ্টদের ‘সংযমী’ হওয়ার উপদেশ দেয়া যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এই উদ্ভূত সমস্যার আশু সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ; প্রয়োজন সুন্দর এই পৃথিবীর শান্তির জন্য উভয়পক্ষকে সমঝোতা করতে বাধ্য করা। হ
লেখক : নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং পিএইচডি গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ই-মেইল ঃ [email protected]

 


আরো সংবাদ