২৩ নভেম্বর ২০১৯

‘চৌকিদার চোর হ্যায়’

অন্য দৃষ্টি
-

ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছিলেন, ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’। অর্থাৎ যিনি পাহারাদার তিনিই চুরি করছেন। প্রথমবার লোকসভা নির্বাচনের আগে মোদি প্রচারণার সময় জোরগলায় জানিয়েছিলেন, তিনি শাসক হবেন না, রক্ষক হবেন। চৌকিদার হয়ে দেশের সম্পদ পাহারা দেবেন। ক্ষমতার এক মেয়াদ শেষে ২০১৯ সালের নির্বাচন সামনে রেখে ভারতীয় কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এ চৌকিদারকে ‘চোর’ বলে উপহাস করেছেন রাহুল। মোদি ও তার সরকারের বিরুদ্ধে ফ্রান্স থেকে অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কেনার ব্যাপারে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রক্ষকের পরিবর্তে ভক্ষকের তকমা দেন বিরোধীরা। মোদির পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দিলে আদালতের সমনে চুপসে যান রাহুল। ক্ষমা চেয়ে সে যাত্রা পার পেলেন তিনি।
বাংলাদেশে এখনো কেউ কাউকে ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ সম্বোধন করেননি। তবে খবর চাউর আছে, সুইস ব্যাংকে বড় অঙ্কের অর্থ জমিয়েছেন অনেক বাংলাদেশী নাগরিক। বাংলাদেশের টাকায় সেকেন্ড হোম ও বেগমপাড়া গড়ে উঠেছে মালয়েশিয়া ও কানাডায়। পাচার হওয়া অর্থের দিক দিয়ে ‘গরিব’ বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে। দেশে ‘অলৌকিকভাবে’ ধনী হয়ে যাচ্ছেন শত শত মানুষ। তারা ক্ষমতাসীন রাজনীতিক কিংবা বর্তমান শাসকদলের সাথে জড়িত। দেশে ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার কোটি টাকা লোপাট হওয়া এখন অতি সাধারণ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঋণ পুনঃতফসিল ও মওকুফ করে দেয়ার ঘটনা ঘটছে বারবার। যারা ব্যাংক থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ঋণ নেন, তাদের পোয়াবারো। এ দিকে সাধারণ মানুষ সে তুলনায় অনেক কম, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়ে পরিবারসহ আত্মহত্যা করেছেন; দেশে এমন ঘটনাও ঘটছে।
বাংলাদেশে দুর্নীতি মামুলি ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্নীতির অঙ্কটি এখন এতই বড় যে, হাজার কোটি টাকাও ধর্তব্য নয়। বালিশ, বিছানার চাদর কেনা, আর সেগুলো ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে ব্যয় দেখানো হচ্ছে কোটি টাকা। তাই ব্যাংকের লুট হয়ে যাওয়া হাজার কোটি টাকার অঙ্ক ‘ক্ষুদ্র’ মনে হয়। তৎকালীন অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বলেছেন, হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি খুব একটা বড় দুর্নীতি নয়। উন্নয়নের ডামাডোলে যে দুর্নীতি; এর অঙ্ক মস্তবড়। অঙ্কটি কত হলে তা ‘বড় দুর্নীতি’ বলে গণ্য করা যায়, সেই সাবেক মন্ত্রী বলতে পারবেন। সাধারণ মানুষ দেখছেন; বালিশ কিনতেই কোটি টাকা লোপাট হচ্ছে। চুরি, ডাকাতি ও অর্থ লুট করাকে দুর্নীতি বলে বাংলাদেশে আর গণ্য করা হচ্ছে না। এগুলো ডাল-ভাত হয়ে গেছে। দেশের মানুষের কাছে এসব গা-সওয়া হয়ে গেছে। ১২০ কোটি মানুষের দেশ ভারতেও দুর্নীতি হয়ে থাকে। সেগুলোর অঙ্ক বাংলাদেশের সাথে পাল্লা দেয়ার পর্যায়ে পৌঁছেনি। এরপরও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদি ‘চৌকিদার চোর হ্যায়’ অপবাদ পেয়েছেন।
অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এ দেশে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়া দুর্নীতির মূল কারণ চিহ্নিত হচ্ছে না। যারাই দুর্নীতি করছেন, কেবল তাদেরই এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। যারা এর সুবিধাভোগীÑ তারা থাকছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অথবা দুর্নীতির সহযোগিতা যারা করছেন, তাদের মধ্যে বিশেষত নেপথ্য ব্যক্তিদের দোষারোপ করার দুঃসাহস পাচ্ছেন না কেউ। এ কারণে দেশে কিছু কিছু অন্যায় অনিয়ম মাত্রাতিরিক্ত সীমা লঙ্ঘন করছে। নির্ধারিত নারী কোটার একজন সংসদ সদস্য বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যলয়ের (বাউবি) অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সশরীরে একবারও পরীক্ষার হলে যাননি। কিন্তু তার হয়ে এ পর্যন্ত আটজন পরীক্ষা দিয়েছেন। বরং এটি এক দিন কিংবা দুই দিনের সাধারণ অনিয়ম নয়। দিনের পর দিন এটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। খবরে প্রকাশ নরসিংদীর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য তামান্না নুসরাত বুবলী বাউবির তিন বছর মেয়াদি বিএ প্রোগ্রামে এ পর্যন্ত ১৩টি পরীক্ষার একটিতেও অংশ নেননি। তদুপরি সংসদের সহকারী একান্ত সচিব ওমর ফারুকের নেতৃত্বে একদল পরীক্ষার হল পাহারা দিতেন। তারা সবাই ছিলেন বুবলীর দলীয় সাঙ্গোপাঙ্গ। দীর্ঘ দিন ধরে প্রশাসনের চোখের সামনে এমন অপকর্ম করা হলেও কেউ টুঁ-শব্দটি করতে সাহস পাননি।
তামান্না আততায়ীর হাতে নিহত নরসিংদীর সাবেক পৌরমেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা লোকমান হোসেনের স্ত্রী। নরসিংদী-গাজীপুর সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য তিনি। তার এক দেবর নরসিংদী পৌরসভার মেয়র ও শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি। আরেক দেবর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলের অত্যন্ত শক্তিশালী চক্র জেঁকে বসেছে। ওই দুষ্টচক্র যা চাইবে, তাই হবে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ফেনীতে দলের এমপি জয়নাল হাজারী কেমন ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন তা অনেকের মনে আছে। এমন অবস্থা তখন আরো অনেক জায়গায় হয়েছিল। এবার দলটি টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় রয়েছে। ‘হাজারী কায়দা’য় নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ এখন আরো পাকাপোক্ত হয়েছে। এমন পরিস্থিতি প্রায় সারা দেশে বিস্তৃত হয়েছে।
গাজীপুরও ক্ষমতাসীন চক্র নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। ফলে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছেন নারী সংসদ সদস্য তামান্নার ঘনিষ্ঠ লোকজন। তারা সবাই মিলে তার পুরো একটি কোর্স ‘সম্পন্ন’ করে দিচ্ছিলেন। তিন বছরের এ কোর্স সম্পাদনে তিনি অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছিলেন। চারটি সেমিস্টার তিনি ‘সফলভাবে’ উতরে যাচ্ছিলেন। বিষয়টি সবাই জানেন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষা পদ্ধতি সহজ। যারা নানা কারণে নিয়মিত পড়াশোনা চালাতে পারেন না, তারা এ সহজতার সুযোগ নেন। কিন্তু তামান্না যে সুযোগটি নিলেন; তা স্পষ্টভাবেই সীমাহীন দুর্নীতি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তিনি ইচ্ছেমতো তার পক্ষে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। অন্য দিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে অসহায় হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত নিশ্চয়ই কারো সৎসাহসিকতায় দুর্নীতিটি প্রকাশ্যে আসে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষও সাহস দেখিয়ে তামান্নার পরীক্ষা বাতিল করে দিয়েছে। সারা দেশে ক্ষমতাসীনদের বেশুমার দুর্নীতি প্রদীপের আলোয় আসতে পারছে না। এর কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন অনেকে।
বুবলী একজন এমপি যিনি রাষ্ট্রের সবচেয়ে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি। তিনি নিজে দেশের জন্য আইন প্রণয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত। সেজন্য প্রকাশ্য শপথ নিয়েছেন। তাসত্ত্বেও কিভাবে তিনি এত বড় একটি অন্যায় করতে পারেন, তা জনসাধারণের কাছে বোধগম্য নয়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, এত বড় অপরাধ করার পরও দল ও সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না। একজন সাধারণ মানুষ যখন আইন ভঙ্গ করেন, তাকে শায়েস্তা করতে বেশি দেরি হয় না। বরং এমনও অসংখ্য নজির রয়েছে; অন্যায় না করেও অনেকে হেনস্তা হয়েছেন। দণ্ড পাচ্ছেন নির্দোষ ব্যক্তি। বিশেষ করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমাতে, সরকারের তরফ থেকে নিরপরাধ মানুষের ওপর খড়গ নেমে আসছে। ফলে আইনের শাসন হচ্ছে নিম্নগামী। তামান্না যে গুরুতর অপরাধ করেছেন, ক্ষমতাসীন দলের একজন সদস্য হিসেবে যদি এরপরও পার পেয়ে যান, তাহলে এ দেশে আইনের শাসনের আর কিছু অবশিষ্ট থাকবে বলে মনে হয় না।
কারা উপ-মহাপরিদর্শক নিজেই কারাগারে
অপরাধীদের ঠিকানা কারাগার। সেখানে তারা কৃত অপরাধের শাস্তি ভোগ করেন। পুনর্বার তারা অপরাধ করবেন না, সেই শিক্ষা পাওয়ার কথা সেখানে। এজন্য কারাগারে থাকা চাই উপযুক্ত পরিবেশ যেখানে একজন অপরাধী অনুতপ্ত হবেন। তাহলে তার মধ্যে জেগে উঠবে অপরাধের প্রতি ঘৃণা এবং তিনি শপথ নেবেন অপরাধ না করার। সেজন্য কারাগার হচ্ছে সংশোধনাগার। এর দায়িত্বে থাকতে হয় এমন একদল লোক, যারা অপরাধীদের মধ্যে সংস্কার ও সংশোধনের চেতনা প্রোথিত করে দেবেন। এ ব্যাপারে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। কারা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিজেরা অবশ্যই হবেন পরিশুদ্ধ মানুষ। কর্তৃপক্ষ যখন কারা প্রশাসনকে নিয়োগ দেবে, সে ধরনের পরিশুদ্ধ মানুষ যাচাই করে নিয়োগ দেবে, এটিই হচ্ছে জাতির বিবেকের দাবি।
বাংলাদেশের কারা প্রশাসনের দায়িত্বে যারা রয়েছেন; তাদের ঠিক এমন চরিত্র কখনো দেখা যায় না। সব সময় এ দেশের কারাগারগুলোর ব্যাপারে মানুষের ধারণা জন্মেছে, এগুলো অপরাধীদের আড্ডাস্থল। অপরাধীদের এক মহাসম্মেলন যেন কারাগার। যারাই কারাগারে কোনো কাজে কিংবা আটক ব্যক্তিদের দেখতে গিয়েছেন; তাদের এমন তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কারাগারে বন্দী আসামি ও কয়েদিদের নিয়ে এ যেন ‘বিরাট বাণিজ্য’। সেখানে চলছে অবৈধ সব কর্মকাণ্ড। সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি জেনেও না জানার ভান করেন। কেউ প্রকাশ্যে তা স্বীকার করেন না। বন্দী আর কারা প্রশাসন মিলে গড়ে উঠেছে এক দুষ্টচক্র। এ চক্র কারাগারকে বানিয়েছে একটি ‘লাভজনক ব্যবসা’। এখানে বন্দীদের অনেকেই রয়েছেন; যারা আজীবন কারাগারে থাকতে পছন্দ করেন। তারা প্রশাসনের আনুকূল্য নিয়ে পুরো ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করেন। ফলে সেখানে সৃষ্টি হয়েছে কোটি কোটি টাকার লাভজনক বাজার।
সর্বশেষ খবর হচ্ছে, খোদ কারা অধিদফতরের উপ-মহাপরিদর্শক বজলুর রশিদ দুর্নীতির দায়ে এখন কারাগারে। তার নগদ টাকার রমরমা বাণিজ্যের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের নজরে এসেছে। বেশ কয়েকজন কারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। রশিদের বিরুদ্ধে পরিচালিত তদন্তে দেখা যাচ্ছে, তিনি রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীতে একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন। ২০১৮ সালের এপ্রিলে বুকিং দিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে তিন কোটি আট লাখ টাকা পরিশোধ করে দিয়েছেন। কিন্তু তার আয়কর বিবরণীতে এর উল্লেখ নেই। দুদক কর্মকর্তার জিজ্ঞাসাবাদে এ পরিমাণ নগদ অর্থের উৎস তিনি দেখাতে পারেননি। স্বচ্ছ তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে পাঠান আদালত। এত দিন যে কারাগার তিনি নিজে চালিয়েছেন, এখন সেখানেই তিনি বন্দী। তবে যে দুষ্টচক্র গড়ে উঠেছে, তিনি এর অংশীজন হতে পারলে ফের নতুন কোনো সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন। জুলাইয়ে আরেকজন শীর্ষ কারা কর্মকর্তা ৮০ লাখ টাকাসহ ধৃত হয়েছেন। এত টাকা তিনি পেলেন কোথায়, তার উত্তর কারা উপ-মহাপরিদর্শক পার্থ গোপাল বণিক দিতে পারেননি। যেন কারাগারগুলো কাঁচা টাকার খনি।
কারাগার থেকে অবৈধ আয় কিংবা দুর্নীতি করে অর্জিত অর্থের সীমা শত কোটি টাকা হয়তো ছাড়াবে না। বাংলাদেশে মোটা দাগের যে দুর্নীতি হচ্ছে; সে তুলনায় কারাগারের দুর্নীতির অঙ্ক ‘সামান্য’ বলতে হবে। এরপরও দুর্নীতি দমন কমিশনের খুব আগ্রহ কারাগার নিয়ে। তাদের এমন আগ্রহ কিছুটা হলেও স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটিকে কর্মতৎপর করেছে। এটা জাতির জন্য নিরাশার মধ্যে কিছুটা হলেও প্রাপ্তি। তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের গায়েও দুর্নীতির কালিমা লিপ্ত হয়, যখন এর এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করতে গিয়ে নিজেই দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন।
পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে গিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছির দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। মিজানকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়ে ঘুষ নিয়েছেন তিনি। আরো কিছু ঘুষ পাইপলাইনে ছিল। লেনদেন নিয়ে এক সময় দেখা দেয় বিরোধ। ঘটনা ফাঁস করে দেন মিজান। ফলে দু’জনেই এখন দুর্নীতির অভিযোগে কারাবন্দী।
বাংলাদেশের রক্ষকদের অবস্থা আমরা বুঝতে পারছি। নিজেরাই এখন সর্ষের মধ্যে এক একজন ভূত হয়ে বসেছেন। যারা সংস্কার ও সংশোধনের কাজ করবেনÑ জাতির কাছে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন; তারা জড়িয়ে পড়ছেন অন্যায়, অনিয়ম আর দুর্নীতিতে। ফলে সংসদ সদস্যরা হয়ে যাচ্ছেন বড় দুর্নীতিবাজ। কারারক্ষক হচ্ছেন ভক্ষক। আর অ্যান্টিকরাপশন নিজেই করছে করাপশন। কোথাও আর রিমেডি মিলছে না। হ
[email protected]


আরো সংবাদ