১০ ডিসেম্বর ২০১৯

স্ম র ণ : প্যারীচাঁদ মিত্র

-

প্রখ্যাত সাহিত্যিক প্যারীচাঁদ মিত্রের জন্ম কলকাতায় জুলাই ১৮১৪ সালে। পিতা রামনারায়ণ মিত্র কাগজ ও হুন্ডি ব্যবসায়ী। শৈশবে গুরুমহাশয়ের কাছে বাংলা, পরে মুনশির কাছে ফারসি শেখেন। ইংরেজি শিক্ষার জন্য হিন্দু কলেজের একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি হন। এ কলেজের কৃতী ছাত্র ছিলেন। বহুলালোচিত ডিরোজিওর প্রিয় ছাত্রদের অন্যতম। কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরির চাকরিতে নিযুক্তি লাভ করে লাইব্রেরিয়ান ও সেক্রেটারি পদে উন্নীত (১৮৪৮)। আমদানি ও রফতানি এবং চালের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থোপার্জন ছাড়াও ‘প্যারীচাঁদ মিত্র অ্যান্ড সন্স’ (১৮৫৫) নামে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। বেঙ্গল টি কোম্পানি ও ডারাং টি কোম্পানি বোর্ডের ডিরেক্টর, বঙ্গদেশীয় সামাজিক বিজ্ঞান সভার যুগ্ম সম্পাদক, কলকাতা মিউনিসিপ্যাল বোর্ডের অবৈতনিক ম্যাজিস্ট্রেট, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফেলো এবং বঙ্গীয় আইন পরিষদের সদস্য। তার চেষ্টায় আইন পরিষদে পশুক্লেশ-নিবারণ আইন (১৮৬৯) গৃহীত। তিনি কৃষিবিষয়ে গভীর জ্ঞানের পরিচয় দিয়েছিলেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের সমালোচনা করে ইংরেজিতে প্রবন্ধ রচনা। গরিব চাষিদের রক্ষাকবচ হিসেবে পঞ্চায়েতব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি উত্থাপন।
কৃষিবিষয়ক আধুনিক জ্ঞান ইংরেজি জার্নাল থেকে বাংলায় অনুবাদ করার জন্য তার প্রস্তাবানুসারে অনুবাদ সমিতি গঠন। প্যারীচাঁদ মিত্রের সম্পাদনায় এ সমিতি থেকে কৃষিবিষয়ক পুস্তক প্রকাশিত। কৃষিপাঠ ও Agriculture in Bengal তার কৃষিবিষয়ক বিশিষ্ট গ্রন্থ। প্যারীচাঁদের আর একটি উল্লেখযোগ্য কৃতিত্ব রাধানাথ শিকদারের সহযোগিতায় মহিলাদের হিতকারী মাসিক পত্রিকা প্রকাশ ও সম্পাদনা। এ পত্রিকায় ‘টেকচাঁদ ঠাকুর’ ছদ্মনামে আলালের ঘরের দুলাল উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে এবং ১৮৫৭ সালে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত। ‘বাংলা সাহিত্যের প্রথম উপন্যাস’ হিসেবে এটি আখ্যায়িত। সমাজ-আলেখ্য হিসেবেও এটি সেকালের অন্যতম শ্রেষ্ঠ রচনা। কলকাতার বিত্তবান সমাজের সন্তানদের নীতিহীনতা ও উচ্ছৃঙ্খলতা এতে নিষ্ঠার সাথে অঙ্কিত। গ্রন্থটিতে কথ্য ভাষা ব্যবহার করে বাংলা সাহিত্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। এর নাম হয়েছিল ‘আলালী ভাষা’। সাধু ও কথ্য ভাষার সংমিশ্রণ এর বিশেষত্ব। তার অন্যান্য গ্রন্থ মদ খাওয়া বড় দায়, জাত থাকার কি উপায়, ডেভিড হেয়ারের জীবন চরিত, আধ্যাত্মিকা ও বামাতোষিণী। ‘থিওসফিক্যাল সোসাইটির’ বঙ্গীয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত। ঊনবিংশ শতাব্দীর নবজাগরণের অন্যতম কাণ্ডারি প্যারীচাঁদ মিত্র যেমন নানা সামাজিক দায়িত্ব পালন করেছেন, তেমনি সংস্কৃতবহুল বাংলা ভাষার পরিবর্তে সাহিত্যে চলিত রীতির ব্যবহার এবং বাংলা উপন্যাস রচনার পথিকৃতের দায়িত্ব পালন করেন। পাদ্রি লঙ তাকে ‘ডিফেন্স অব বেঙ্গল’ বলতেন। মৃত্যু কলকাতায় ২৩ নভেম্বর ১৮৮৩ সালে। হ

 


আরো সংবাদ

শোক সংবাদ : আলহাজ মো: শামসুল হক গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের জবাবদিহির সময় এসেছে ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : পর্বসংখ্যা-২২ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় চতুর্থ অধ্যায় : বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি ও জলবায়ু সরকার ক্ষমতা দখল করে টিকে আছে : মির্জা ফখরুল বাংলা প্রথম পত্র গদ্যাংশ : আম আঁটির ভেঁপু গদ্যাংশ : মানুষ মুহম্মদ (স.) এসএসসি পরীক্ষার লেখাপড়া : বাংলা দ্বিতীয় পত্র তৃতীয় অধ্যায় : পরিচ্ছেদ-৩ : সংখ্যাবাচক শব্দ ২০২০ সালের ক্যাডেট কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি : সাধারণ জ্ঞান বিষয় : সাধারণ জ্ঞান এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি : পদার্থবিজ্ঞান প্রথম অধ্যায় : ভৌত রাশি ও পরিমাপ হ্যাটট্রিক স্বর্ণে সোহেল প্রথম ফুটবলে কেন এই ব্যর্থতা

সকল