১৬ জুন ২০১৯

গণধোলাইয়ের শিকার প্রেমিকসহ ৩ জন, উদ্ধারকারী পুলিশ অবরুদ্ধ ৬ ঘন্টা

-

রাজশাহীর পুঠিয়ায় প্রেমিকার সাথে দেখা করতে গিয়ে গ্রামবাসীর গণধোলাইয়ের শিকার হয়েছে প্রেমিকসহ তার দুই বন্ধু। খবর পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ তাদের উদ্ধার করতে গেলে গ্রামজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মসজিদে মাইকিং করে উদ্ধারকারী পুলিশদের প্রায় ছয় ঘন্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।

আজ সোমবার সকালে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

গতকাল রোববার দিবাগত রাতে উপজেলার ভালুকগাছি-হাড়গাতি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে গণধোলাইয়ের ওই ঘটনা ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভালুকগাছি ইউপি চেয়ারম্যান তাকবির হাসান বলেন, ধোপাপাড়া গ্রামের হাতেম আলীর ছেলে ও রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র হায়দার আলীর সাথে হাড়গাতি গ্রামের মেয়ে ও স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর এক ছাত্রীর সম্প্রতি মোবাইলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে সূত্রে প্রেমিক হায়দার আলী তার প্রতিবেশী দু’বন্ধুকে নিয়ে রোববার দিবাগত রাতে ওই প্রেমিকার বাড়ির নিকট যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করেন। এ ঘটনায় থানা পুলিশ ও গ্রামবাসীদের মধ্যে অপ্রতিকর ঘটনা ঘটেছে বলে শুনেছি।

প্রত্যক্ষদর্শী রাশেদুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে ওই ছেলে ও মেয়ে রাতের আঁধারে মেলামেশা করতো। বিষয়টি গ্রামের লোকজন টের পেয়ে গতরাতে হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়। আটককৃত তিনজনকে গ্রামবাসীরা মারধর করে পায়ে লোহার রড় ঢুকিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলে গ্রামের লোকজন বিষয়টি চেয়ারম্যানের মাধ্যমে গ্রামেই সমাধান করবে বলে তাদের চলে যেতে বলেন। সে সময় পুলিশের আহত তিনজকে উদ্ধার করে নিয়ে যেতে চাইলে গ্রামের লোকজন তাদের ওপর চড়াও হয়। এক পর্যায়ে পাশের মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোকজন জড়ো করে। পরে গ্রামের লোকজন উদ্ধারকারী পুলিশদের সারারাত অবরুদ্ধ করে রাখে।

এ ব্যাপারে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রামবাসীদের বাধার কারণে আহতদের সকালে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ওই মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলার দায়ের করা হচ্ছে। অপরদিকে পুলিশের কাজে বাধা দেয়ায় ৪ জনের নাম উল্লেখ করে ও আরো ১৫/২০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে আলাদা একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।


আরো সংবাদ