১৮ অক্টোবর ২০১৯

টানা ৮দিন অনশনের পর প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ৮দিন ধরে অনশন করেন প্রেমিকা বিজলী খাতুন - নয়া দিগন্ত

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে টানা ৮দিন ধরে অনশন করছিলেন প্রেমিকা বিজলী খাতুন। পাশে ছিল না কেউই। যাকে বিয়ের দাবিতে এই অনশন। সেই প্রেমিকই কিনা বিয়ে করবেন না বলে হয়ে গিয়েছিলেন লাপাত্তা। কিন্তু প্রেম কি আর হার মানে! আর তাইতো টানা ৮ দিন অনশনের পর শনিবার রাতে প্রেমিক সবুজের সাথে প্রেমিকা জিলী খাতুনের প্রেমেরে পরিণিতি পায় বিয়ে সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে। তবে প্রেমিকের বাড়িতে দা হাতে অবস্থান নিয়ে থাকা ছবিটি বেশ আলোচনার জন্ম দেয়। সেসময় প্রেমিক পালিয়ে থাকায় দা হাতে আত্মহত্যার হুমকি দেয় প্রেমিকা। ঘটনাটি ঘটেছে বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার শিখর গ্রামে।

জানা যায়, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের শিখর গ্রামের আব্দুস সালামের ছেলে মো: সবুজ মিয়ার সাথে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াকান্দা গ্রামের বিক্রম শেখের কলেজ পড়ুয়া মেয়ের সাথে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকাকে এক নজর দেখার জন্য গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রেমিক সবুজ সিরাজগঞ্জ গিয়ে তারা দু’জনে সাক্ষাৎ করে এবং সারাদিন বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সবুজ বাড়িতে চলে আসে। বাড়িতে আসার পর প্রেমিকা বিজলীকে পছন্দ না হওয়ায় প্রেমিক সবুজ তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।

এরই একপর্যায়ে গত ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার বিকেলে প্রেমিকা বিজলী খাতুন ঠিকানা সংগ্রহ করে শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের শিখর গ্রামের প্রেমিক সবুজ মিয়ার বাড়িতে আসে। প্রেমিকা আসার পর সবুজ বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃস্টি হয়।

এদিকে অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পর শেরপুর থানা পুলিশ প্রেমিক সবুজকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে শনিবার রাতে প্রেমিক ও প্রেমিকার পরিবারের লোকজন সমঝোতার জন্য সবুজের বাড়িতে বসে এবং তাদের বিয়ে দেয়া হয়।

এর আগে অনশনের সময় প্রেমিকা বিজলী খাতুন বলেন, প্রেমিক সবুজ তাকে বিয়ে না করলে দা দিয়ে নিজের গলা কেটে আত্মহত্যা করবো।

এ ব্যাপারে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (শেরপুর সার্কেল) মো: গাজিউর রহমান বলেন, প্রেমিক সবুজ মিয়াকে আটক করলেও মেয়েপক্ষ কোনো অভিযোগ না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়া যায়নি।


আরো সংবাদ

সকল