১৯ নভেম্বর ২০১৯

আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারসহ পাঁচ দফা দাবিতে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে মহাসড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ এসে তাদের আন্দোলনে বাধা দিলে পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাধিকবার ধস্তাধস্তি ও বাকবিতণ্ডা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। এরপর সেখান থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মহাসড়কে গিয়ে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। এসময় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে পুলিশ এসে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে চলে যেতে বললে শিক্ষার্থীরা সেখানেই অবস্থান নেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ধস্তাধস্তি হয়।

মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (এসি) মাসুদ রানা ঘটনাস্থলে আসেন এবং দ্রুত রাস্তা ছেড়ে না দিলে তারা লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হবেন বলে হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন।

এর কিছুক্ষণ পর সেখানে প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমানসহ প্রক্টরিয়াল বডি এসে উপস্থিত হন। পরে প্রক্টর তাদের চলে যেতে বললে সন্ধ্যা ৬টায় মশাল মিছিল করার ঘোষণা দিয়ে তারা অবরোধ তুলে নেন। এ সময় তারা পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেন।

তাদের দাবিগুলো হচ্ছে- আবরার হত্যার সঙ্গে জড়িত সকল খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অপসারণ করতে হবে; সকল ধরনের সন্ত্রাসী কার্যক্রম যারা চালাচ্ছে ছাত্রলীগ নামে, সেই সংগঠনকে নিষিদ্ধ করতে হবে; দেশবিরোধী সকল চুক্তি বাতিল করতে হবে ও রাবির শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার হয়রানি এবং হুমকি বন্ধ করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

উল্লেখ্য, বুয়েটের ইলেকট্রিকাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে (২১) রবিবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শের-ই-বাংলা হলের সিঁড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে বুয়েটের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মো. মাসুক এলাহি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে ছাত্র শিবিরের সাথে সম্পর্ক থাকার সন্দেহে আবরারকে হলের ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে মারধর করেন ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা-কর্মী। এ ঘটনায় সিটিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা নিয়ে পুলিশ সোমবার ছাত্রলীগের নয় নেতা-কর্মীকে আটক করেছে। অন্যদিকে আবরারের বাবা চকবাজার থানায় ছাত্রলীগের ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। সূত্র : ইউএনবি।


আরো সংবাদ