২১ নভেম্বর ২০১৯

বগুড়ায় গৃহবধু হত্যার দায়ে স্বামী ও সতীনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে আছিয়া বেগম নামে এক গৃহবধুকে হত্যার দায়ে স্বামী ও সতীনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরো ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। সোমবার বিকেলে বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক আবদুর রহিম আদালতে এ রায় দেন। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেয়া হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- বগুড়ার গাবতলী উপজেলার রানীরপাড়া গ্রামের ছেরাপ মন্ডলের ছেলে সবুজ মন্ডল (৪০) ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুকছানা বেগম (৩২)।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, সবুজ মন্ডল প্রায় ২০ বছর আগে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুল লতিফের মেয়ে আছিয়া বেগমকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই সন্তানের জন্ম হয়। সবুজ মন্ডল বিয়ের প্রায় ১১ বছর পর রুকছানা বেগমকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ বিয়ের পর থেকে সবুজ মন্ডল প্রথম স্ত্রী আছিয়া বেগমের কাছে যৌতুক দাবি করতে থাকেন। এ ঘটনায় গ্রামে শালিস বসলেও সমাধান হয়নি।

এদিকে বোন আছিয়া বেগমের সংসার রক্ষায় মোত্তালেব হোসেন ভগ্নিপতি সবুজকে ৫ হাজার টাকা যৌতুক দেন। সবুজ এতেও সন্তুষ্ট না হয়ে আরো ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করে। এ টাকা দিতে না পেরে সবুজ মন্ডল ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী রুকছানা বেগম গত ২০১৪ সালের ২ আগস্ট আছিয়া বেগমকে মারপিটের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে নিহত আছিয়া বেগমের লাশ ঘরের আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে নিহতের ভাই মোত্তালেব হোসেন গাবতলী থানায় ভগ্নিপতি সবুজ মন্ডল, বোনের সতীন রুকছানা বেগম, দেবর লাল মন্ডল ও আত্মীয় মোমিন প্রামানিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি আশেকুর রহমান সুজন জানান, আছিয়া বেগম হত্যার দায়ে স্বামী ও সতীনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরো ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে সবুজ মন্ডল আগে থেকেই কারাগারে ছিলেন। জামিনে থাকা রুকছানা বেগমকে সোমবার আদালতে হাজির করা হয়। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পলাতক আসামী লাল মন্ডল ও মোমিন প্রামানিককে আদালত খালাস দিয়েছেন।

আসামী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোসলেম উদ্দিন লিটন জানান, রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে আপিল করবো।


আরো সংবাদ