১৮ নভেম্বর ২০১৯

আ’লীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বাগবাটি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড সদস্য বকুল হায়দার বকুলকে (৫২) দুর্বৃত্তরা শনিবার রাতে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ রাতেই নিহত বকুলের একান্ত সহযোগী রফিকুল ইসলাম (৫৫) সহ চারজনকে আটক করেছে।

আটক রফিকুল বাগবাটি ইউনিয়নের দত্তবাড়ি গ্রামের আবুল হোসেন মাস্টারের ছেলে ও নিহত বকুলের প্রতিবেশি অপরজন হলেন খুনের ঘটনার পর মোটর সাইকেলের পাশে দাঁড়িয়ে রফিকুলকে মোবাইলে কথা বলতে দেখা আজিবর রহমান। অপর আটকদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

এদিকে বকুল হায়দার হত্যার প্রতিবাদে রোববার সকালে এলাকাবাসি দত্তবাড়ি এলাকায় একটি বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

পুলিশ আটক রফিকুল ইসলামের কাছে থেকে বকুল হত্যার গুরুত্বপূর্ণ ক্লু পাওয়ার আশা করছে। এছাড়া এ হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিত বলেও ধারণা করছে পুলিশ।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, আওয়ামী লীগ নেতা বকুল হায়দার গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েলেও তার সাথে থাকা তার একান্ত সহযোগী রফিকুল ইসলাম তাকে উদ্ধারে তৎপর না হয়ে মোটর সাইকেলের পাশে দাড়িয়ে মোবাইল ফোনে অন্য এক ব্যক্তির সাথে কথা বলা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন।
তার এমন সন্দেহজনক আচরণের এক প্রত্যক্ষদর্শীকে পেয়ে পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়ে সিরাজগঞ্জ ডিবি ও সদর থানা পুলিশ যৌথভাবে এ খুনের ঘটনা তদন্ত করছেন। তদন্তের স্বার্থে প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তির নাম তিনি এ মুহুর্তে জানাতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, সামাজিক, পেশাগত ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের জের ধরে প্রতিবেশী রফিকুলের ইন্ধনে আওয়ামী লীগ নেতা বকুল হায়দার খুন হয়েছে কিনা বা নেপথ্যে অন্য কোন স্বার্থ আছে কিনা, এসব বিষয় পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ডিবির ওসি মোঃ ওয়াহেদুজ্জামান জানান, নিহত বকুল হায়দারের সহযোগী রফিকুল ইসলাম ধরা পড়ায় খুনের মোটিভ উন্মোচন অনেকটাই সহজ হতে পারে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ দাউদ বলেন, পূর্ব শক্রতার কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ঘটনার পর সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) ফোরকান শিকদার, ডিবি ও পিবিআই গোয়েন্দা পুলিশসহ সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সাগর হোসেন বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে বাগবাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইউপি সদস্য বকুল হায়দার পিপুলবাড়িয়া বাজার থেকে মোটর সাইকেলযোগে বাড়ি ফিরছিলেন। তিনি পিপুলবাড়িয়া-ভেওয়ামারা সড়কের দত্তবাড়ি বাজার সংলগ্ন ব্রীজ এলাকার উত্তরপাশে তার বাড়ির সামনে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে পিছন থেকে গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়।

পরে মুমূর্ষু অবস্থায় এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরো জানান, ময়না তদন্ত শেষে রোরবার দুপুরে নিহতর লাশ পুলিশ তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর বাদ জোহর দত্তবাড়ি মাদ্রাসা মাঠে জানাজার নামাজ শেষে বাড়ির পাশের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এদিকে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ হত্যার ঘটনায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।


আরো সংবাদ