১৮ নভেম্বর ২০১৯

স্বামী দাবি করায় চুরির অপবাদে নারীকে নির্যাতন, মূল অভিযুক্ত আটক

শিল্পী খাতুনকে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত রাফিকে গ্রেফতার করা হয়েছে - ছবি : নয়া দিগন্ত

বগুড়ায় মো: রাফি (২৬) নামে রড মিস্ত্রিকে স্বামী দাবি করায় তিনি ও তার লোকজন শিল্পী খাতুন (৪০) নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে ফুলকপি চুরির অপবাদ দিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতন করে। ওই ঘটনায় শিল্পীর ভাই শিবগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে রাফিসহ অজ্ঞাত ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে পুলিশ রাফিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।

শুক্রবারে খুঁটির সাথে বেঁধে শিল্পীকে মারধরের ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি জেনে এলাকাবাসী ফেসবুকে ছবিসহ পোস্ট দেয়। এরপর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পুলিশের টনক নড়ে।

শিল্পী খাতুন জানান, তিনি বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের মেয়ে। তিনি ঠেঙ্গামারা এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনে শ্রমিকের কাজ করেন। সেখানে কাজ করার সুবাদে শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়নের অনন্তবালা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রডমিস্ত্রি মো: রাফির সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ৮-৯ মাস আগে তারা বিয়ে করেন এবং ঠেঙ্গামারা এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দস্পতি হিসেবে বসবাস করছিলেন।

শিল্পী খাতুন আরো জানান, স্বামী রাফি ১৫-২০ দিন ধরে তার খোঁজখবর না নেয়ায় তিনি ঘর ভাড়ার টাকা নিতে শুক্রবার সকালে শিবগঞ্জের অনন্তবালা গ্রামে রাফির বাড়িতে যান। তখন রাফি ও তার বাড়ির লোকজন জমি থেকে কপির গাছ উপড়ে ফেলে তাকে চুরির অপবাদ দেন। এরপর তাকে জমিতে বাঁশের খুঁটির সাথে বেঁধে নির্যাতন করেন।

রায়নগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম শফি জানান, অনন্তবালা গ্রামে জমির কপি নষ্ট করায় গ্রামের লোকজন শুক্রবার সকালে শিল্পী নামে এক নির্মাণ শ্রমিককে আটক করেন। খবর পেয়ে তিনি গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে পরিষদে আনেন। ওই নারী তার কাছে অভিযোগ করেন, রাফি তাকে গোপনে বিয়ে করেছে। খোঁজ না রাখায় তিনি স্বামীর কাছে এসেছিলেন। কিন্তু স্বামী ও তার লোকজন তাকে কপি চোর সাজিয়ে খুঁটির সাথে বেঁধে রেখে নির্যাতন করেন। এরপর তিনি (চেয়ারম্যান) শিবগঞ্জ থানায় খবর দিলে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।

চেয়ারম্যান আরো জানান, এর আগেও শিল্পী ওই গ্রামে রাফির স্ত্রীর দাবিতে এসেছিলেন। তখন স্থানীয়রা রাফির পরিবারের কাছে কিছু টাকা আদায় করে তাকে দিয়েছিল।

শিবগঞ্জ থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ওই মেয়ে খারাপ চরিত্রের। জমির কপি নষ্ট করায় জনগণ তাকে আটক করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যানের ফোন পেয়ে তাকে থানায় আনা হয়েছিল। ভ্রাম্যমান আদালতে নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে আলাপও করা হয়েছিল। বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারভুক্ত না হওয়ায় তিনি নিয়মিত মামলার পরামর্শ দেন।

ওসি আরো জানান, ওই নারীর ভাই মোমিন হোসেন বাদী হয়ে রোববার রাফিসহ ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করলে দুপুরে রাফিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর কবির জানান, কপির ক্ষেত নষ্ট করার অভিযোগ পুলিশ এক নারীকে তার ভ্রাম্যমান আদালতে আনার কথা বলেছিল। কিন্তু আদালতের এখতিয়ারে বাইরে হওয়ায় পুলিশকে নিয়মিত মামলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল।


আরো সংবাদ