১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

মামলায় আপস করে প্রেমিককে বিয়ে করায় নববধূকে পুলিশের মারপিট

বগুড়ার গাবতলীতে রাতের আঁধারে ঘরে ঢুকে সাদা পোশাকে গাবতলী থানা পুলিশ নববধূ ও কলেজছাত্রী মনিরা আক্তার কেমিকে (১৯) মারপিট করেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মনিরা গাবতলী উপজেলার খুপি গ্রামের জাহিদুল ইসলামের কন্যা এবং একই গ্রামের ইমরান হোসেনের সদ্য বিবাহিতা স্ত্রী। তিনি স্থানীয় ফজিলা আজিজ টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউটের ছাত্রী।

তবে অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

আহত মনিরা আক্তার কেমি জানান, দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু বনিবনা না হওয়ায় থানায় অভিযোগ দেয় মা মেরিনা বেগম। এরপর অভিযোগটি গত ১৪ সেপ্টেম্বর গাবতলী থানা পুলিশ ইমরানকে আসামি করে মামলা রেকর্ড করে।

এরপর পুলিশ পরদিন ইমরানকে গ্রেফতার করে। উভয় পরিবারের মধ্যে সমঝোতার পর ইমরান গত ৩১ অক্টোবর কারাগার থেকে জামিন পেয়ে গত ১ নভেম্বর বিয়ে করে কেমিকে।

এ খবর পেয়ে পুলিশ ক্ষুব্ধ হয়ে রোববার রাত অনুমান ১০টার দিকে গাবতলীর খুপি মধ্যপাড়ার তার স্বামীর বাড়িতে এসআই রিপন মিয়া সাদা পোশাকে ৪-৫ জন ফোর্সসহ ঘরের দরজা ভেঙ্গে তাকে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা আপস করায় মারপিট করে আহত করে। পুলিশ দেখে পালিয়ে যান স্বামী ইমরান।

এসময় ১০ হাজার টাকা দাবি করে এসআই রিপন কেমিকে হুমকি দেন। নইলে ইমরানকে অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার করা হবে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে বগুড়া মোহাম্মাদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ব্যাপারে এস আই রিপন মিয়া মারপিটের ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, ওই ঘরে আসামি আছে এমন সংবাদে সেখানে গেলে মনিরা ভীত হয়ে চিৎকার করে। তাকে মারপিট করা হয়নি।

গাবতলী থানার ওসি সেলিম হোসেন জানান, হাসপাতালে ওই নারীর সাথে দেখা করে তার অভিযোগ রেকর্ড করা হয়েছে। অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পেলে রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরো সংবাদ