১২ ডিসেম্বর ২০১৯

বগুড়ায় ৬ রুটে অঘোষিত বাস ধর্মঘট

শেরপুর-ধুনট সড়ক - ছবি : নয়া দিগন্ত

পরিবহন আইন নিয়ে আতঙ্কে বগুড়ায় ছয়টি রুটে অঘোষিত বাস ধর্মঘট শুরু করেছে শ্রমিকরা। এই বাস ধর্মঘটের বিষয়ে বাস মালিক বা শ্রমিক সংগঠন কেউ দায় নিচ্ছে না। তারা বলছেন, নতুন আইনের ভয়ে শ্রমিকরা নিজে থেকেই বাস বন্ধ রেখেছে। তবে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে বলে মালিক সমিতি জানিয়েছে।

বগুড়ার যেসব রুটে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে সেগুলো হলো, বগুড়া-থেকে নওগাঁ, বগুড়া-সান্তাহার, বগুড়া-আক্কেলপুর, বগুড়া-আবাদপুকুর, বগুড়া-গাইবান্ধা। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গত শনিবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। হঠাৎ করে পরিবহণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওইসব রুটের যাত্রীরা বিকল্প হিসেবে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রাকে কিংবা সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তারা গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছে।

এদিকে, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগের সুযোগ নিচ্ছে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক চালকরা। তারা যাত্রীদের বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার জন্য তাদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছেন।

বগুড়া সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান জানান, দুপুর ২টার দিকে সদর থানা পুলিশ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে গিয়ে পরিবহণ মালিক-শ্রমিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিতিতে চালকদের সাথে বৈঠক করেন। সেখানে পুলিশের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয় যে, যেসব চালক বিআরটিএ অফিসে হালনাগাদ করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছেন তাদের কোনো হয়রানি করা হবে না। পুলিশের এমন আশ্বাসে চালকরা বাস চালানোর সিদ্ধান্ত গ্রহন করলেও গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত ওসব রুটে বাস চালাচল শুরু হয়নি।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের হিসাব অনুযায়ী আন্তঃজেলা ও আভ্যন্তরীণ রুটে প্রায় সাত শ’ বাস চলাচল করে। তবে সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দেয়া তথ্য অনুযায়ী এসব বাসের প্রায় ৯০ শতাংশেরই ফিটনেস নেই। এমনকি চালকদেরও লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি।

পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত পহেলা নভেম্বর নতুন সড়ক আইন কার্যকর হলেও সরকারের পক্ষ থেকে দুই সপ্তাহ তা শিথিল রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। শুক্রবার সেই সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ায় যে কোন সময় অভিযান চালানো হবে। এমন শঙ্কা থেকেই চালকরা বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন।

বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বসে থাকা নওগাঁ-বগুড়া রুটের বাস চালক আব্দুল বারীক জানান, তারা স্বেচ্ছায় মালিকের কাছে চাবি জমা দিয়ে এসেছেন। কারণ নতুন আইনে তাদের পক্ষে বাস চালানো সম্ভব নয়। তার মতে আইন তৈরির আগে পুলিশের হয়রানি বন্ধ করা ও শ্রমিকদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন ছিল।

একই রুটের অপর এক বাসের হেলপার জনি জানান, সড়কে অনেক কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে। কিন্তু নতুন আইন অনুযায়ী সব দোষ শ্রমিকদের নিতে হবে। আইন এত কঠোর করা হয়েছে যে, তারা শ্রমিকদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়। বাস চলাচল বন্ধ রাখার কারণে বগুড়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের সামনে এখন সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও ব্যাটারি চালিত ইজিবাইকের ভিড় বেড়েছে। তবে যাত্রীদের কাছ থেকে বাসের তুলনায় ভাড়া দেড় থেকে দ্বিগুণ আদায় করা হচ্ছে।

দুপঁচাচিয়াগামী যাত্রী আশরাফুল ইসলাম জানান, বগুড়া থেকে দুপচাঁচিয়া বাসের ভাড়া ৩০ টাকা। কিন্তু সুযোগ পেয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এখন আমাদের কোনো উপায় নেই। তারা যা দাবি করবে তাই দিতে হবে।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সামছুদ্দিন শেখ হেলাল জানিয়েছেন, তাদেরকে না জনিয়েই কয়েকটি রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে শিগগিরই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে তিনি জানান।

বগুড়া মোটর মালিক গ্রুপের শাহ আক্তারুজ্জামান ডিউক জানান, মূলত চালকরা ভীত সন্ত্রন্ত হয়েই বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।


আরো সংবাদ