২৪ জানুয়ারি ২০২০

গৃহবধূর চুল কেটে দেয়া মামলায় জেলহাজতে আওয়ামী লীগ নেতা

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় গৃহবধূর চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আওয়ামী লীগ নেতা আবদুর রশিদ আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। মঙ্গলবার সকালে উল্লাপাড়া আমলী আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নজরুল ইসলাম জামিন  নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।  মামলার অন্য চার আসামি পলাতক রয়েছেন। কোর্ট পরিদর্শক ফজলুল হক এ তথ্য জানিয়েছেন।

এদিকে, রোববার এ ঘটনায় কি ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তা ১১ই ডিসেম্বরের মধ্যে জানাতে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও উল্লাপাড়া থানাকে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কামরুল কাদেরের দ্বৈত বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। ওইদিন ইসরাত হাসান নামে এক আইনজীবী গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আদালত ওই নির্দেশনা দেন।

‘সংবাদ মাধ্যম আসামিকে খুঁজে পেলেও পুলিশ কেন তাদের খুঁজে পায় না’, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন আদালত। অপরদিকে, আদালতের এ নির্দেশনার পর সোমবার সকালে উল্লাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান ও থানার ওসি শাহীন শাহ পারভেজ ওই গৃহবধূর বাড়িতে যান এবং পরিবারের খোঁজ-খবর নেন। তাদের নিরাপত্তায় রোববার রাত থেকে বাড়িতে একজন এস আই এর নেতৃত্বে পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে বলেও জানান ইউএনও। ওসি শাহীন শাহ পারভেজ বলেন, মামলার প্রধান আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। অন্য আসামিদের গ্রেফতার সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। 

অভিযুক্ত আবদুর রশিদ উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি । গত ২৫শে নভেম্বর রাতে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনটি ঘটে। এ ঘটনায় দুই সন্তানের জননী ওই গৃহবধূ নিজেই বাদী হয়ে ২ ডিসেম্বর উল্লাপাড়া মডেল থানায় ওই আওয়ামী লীগ নেতা ও তার চার সহযোগীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১০/৩০ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন, গজাইল গ্রামের মোজাহারের ছেলে মুনসুর (৩৮), বাহের প্রামাণিকের ছেলে আবদুস সালাম (৪৫), নাসির উদ্দিন (৪০) ও শহিদুল ইসলাম (৩২)।

ওই নারীর অভিযোগ, ২৫শে নভেম্বর সন্ধ্যায় তিনি তার এক আত্মীয়র বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেলের খোঁজে বের হন। পথিমধ্যে একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের বাড়ির পাশে উধুনিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর রশিদ ও তার চার সহযোগী ওই নারীর পথরোধ করেন। এসময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় পাওয়া গেছে বলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন তারা। এতে গ্রামের লোকজন ছুটে এলে তাদের সামনে তাকে বিবস্ত্র করে মারপিট করা হয়। পরে  লোকজনের সামনে বটি দা দিয়ে তার মাথার চুল কেটে দেয়া হয়।


আরো সংবাদ