২২ আগস্ট ২০১৯

প্রস্তুত এশিয়ার সর্ববৃহৎ ঈদগাহ দিনাজপুর গোর-এ শহীদ

দিনাজপুর গোর-এ শহীদ - ছবি : সংগৃহীত

দেশের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ মিনার দিনাজপুর গোর-এ শহীদ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠ। এ উপলক্ষে ইতোমধ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এ ছাড়াও নামাজে আসা মুসল্লিদের নিরাপত্তায় তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। 

এরই মধ্যে মাঠের বিভিন্ন জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে চারটি আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর পর্যবেক্ষণের টাওয়ার। মাঠের আরেকটি অংশে ঘের দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন যানবাহনের গ্যারেজ। এ ছাড়াও পাশের স্টেশন ক্লাব, সার্কিট হাউজ, শিশু একাডেমি ও জেলা গণ-গ্রন্থাগারেও যানবাহন রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জানা যায়, দিনাজপুরের ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম প্রান্তে ২০১৫ সালে এ ঈদগাহের নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর এটি নামাজের জন্য পুরো প্রস্তুত করা হয়। এ ঈদগাহে রয়েছে ৫২টি গম্বুজের দুই ধারে ৬০ ফুট করে দু’টি মিনার, মধ্যের দু’টি মিনার ৫০ ফুট করে এবং প্রধান মিনারের উচ্চতা ৫৫ ফুট। এসব মিনার আর গম্বুজের প্রস্থ হলো ৫১৬ ফুট। দেশের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক গোর-এ শহীদ ময়দানের পশ্চিম দিকে প্রায় অর্ধেক জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এ ঈদগাহ মিনারটি। প্রত্যেকটি গম্বুজে দেয়া হয়েছে বৈদ্যুতিক বাতি সংযোগ। মিনার দু’টির উচ্চতা ৫০ ফুট, যে মেহরাবে খতিব বয়ান করবেন, সেটির উচ্চতা ৫০ ফুট। ৫২টি গম্বুজ ২০ ফুট উচ্চতায় স্থাপন করা হয়েছে। গেট দু’টির উচ্চতা ৩০ ফুট। 

ঈদগাহটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে তিন কোটি ৮০ লাখ টাকা। প্রতি বছর দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায়। দিনাজপুরবাসী আশা করছে, এবার থেকে ৫২ গম্বুজের ঈদগাহ মাঠে সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। দিনাজপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এই বড় ঈদ জামাতের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার আন্তরিক তত্ত্বাবধানেই তৈরি হয়েছে এ মিনার। দেশের সবচেয়ে বড় ঈদের নামাজে ইমামতি করবেন দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদের খতিব মাওলানা শামসুল হক কাসেমী। ঈদুল আজহার জামাত সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে জেলা প্রশাসন ও দিনাজপুর পৌরসভার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এ ছাড়াও যদি বৈরী আবহাওয়া হয় তাহলে বড় মাঠের পাশে মসজিদসহ আশপাশের এলাকার মসজিদগুলোতে একযোগে নামাজ আদায় করা হবে। 

দিনাজপুর পুলিশ সুপার সৈয়দ আবু সায়েম জানান, সাত লক্ষাধিক মুসল্লির অংশগ্রহণে ঈদের জামাতকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তার জন্য নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। ঈদগাহের চার পাশে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে মুসল্লিদের তল্লাশির পর জামাতে প্রবেশ করানো হবে। ঈদগাহ প্রাঙ্গণে সক্রিয় থাকবেন সাদা পোশাকে পুলিশ ও র্যাব সদস্যসহ অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। এ ছাড়া মাঠের নিরাপত্তার জন্য নির্মিত হয়েছে চারটি বড় পর্যবেক্ষণ টাওয়ার।


আরো সংবাদ