১৪ অক্টোবর ২০১৯
দিনাজপুরে সাংবাদিক সমাবেশে বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী

৯ম ওয়েজবোর্ডের ত্রুটি-বিচ্যুতি সংশোধন করে নতুনভাবে ঘোষণা করতে হবে 

দিনাজপুরে সাংবাদিক সমাবেশে বিএফইউজে’র সভাপতি রুহুল আমিন গাজী - নয়া দিগন্ত

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী বলেছেন, ৯ম ওয়েজবোর্ডের ত্রুটি-বিচ্যুতি অবিলম্বে সংশোধন করে নতুনভাবে ঘোষণা না করা হলে ঢাকায় মহাসমাবেশের মাধ্যমে চুড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রে সাংবাদিক-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ঐক্যবদ্ধ এই চুড়ান্ত আন্দোলনের জন্য আমরা সাংবাদিকরা প্রস্তুত হচ্ছি-রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা আপনারাও প্রস্তুত হোন। সূর্যোদয়ের সময় এসে গেছে। কাজেই চুড়ান্ত আন্দোলনের জন্য আমাদের প্রস্তুত হবার কোন বিকল্প নেই।

মঙ্গলবার সকালে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুর আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সাংবাদিকদের বিদ্যমান সুবিধা বাতিল করে মালিকদের স্বার্থ রক্ষাকারী নবম ওয়েজবোর্ড সংশোধন, সাংবাদিক হত্যা নির্যাতন বন্ধ ও বন্ধ মিডিয়া খুলে দেয়ার দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সভাপতি জিএম হিরু’র সভাপতিত্বে সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন-বিএফইউজে মহাসচিব এম আবদুল্লাহ।

অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন-দিনাজপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ রেজিনা ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আলহাজ এ্যাডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, আলহাজ মাহবুব আহম্মেদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মকশেদ আলী মঙ্গলিয়া, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর একেএম মাসুদুল ইসলাম মাসুদ, জেলা মহিলাদলের সাধারণ সম্পাদক ও দিনাজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর শাহিন সুলতানা বিউটি, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবুজার সেতু প্রমূখ।

সাংবাদিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক মোঃ আতিউর রহমান আতিকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন দিনাজপুরের সাধারণ সম্পাদক মাহফিজুল ইসলাম রিপন। অনুষ্ঠানে দিনাজপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দসহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএফইউজে’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমাদের টার্গেট গণতন্ত্রের জননী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি। দেশের গণতন্ত্রের মুক্তি। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা। দেশে আজ কারো অধিকার নেই। এসবই গণতন্ত্র না থাকার কুফল। আন্দোলন ছাড়া দাবি-দাওয়া দিয়ে এসবের প্রতিষ্ঠা অসম্ভব। কেননা, রাতের ভোটের সরকার এসব দাবির কোন কিছুই দিতে পারবে না। কাজেই চুড়ান্ত আন্দোলনের স্বার্থে সাংবাদিক-জনতা ঐক্য ঐক্য গড়তে হবে। এ ঐক্য না হলে মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না। 

বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, যিনি এ দেশে মানুষের জন্য স্বামীহারা, পুত্রহারা হয়েছেন, তিনি জেলে ধুঁকে ধুঁকে মরবেন তা হতে পারে না। তার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে। এদেশ থাকবে আর বেগম জিয়া জেলে থাকবেন, তা কোনভাবে হতে পারে না। তিনি বলেন, দিনে বিএনপি আর রাতে আওয়ামী লীগ এই চরিত্র নিয়ে আন্দোলন করতে পারবেন না। এ চরিত্র থাকলে গণতন্ত্র কোনদিন প্রতিষ্ঠিত হবে না। গণতন্ত্র ও বেগম জিয়ার মুক্তির জন্য আন্দোলন করতে হবে।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, আমরা শুধুমাত্র সাংবাদিকদের দাবী নিয়ে এখানে আসিনি। আমরা এসেছি এদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম করতে, মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। আমরা গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার পূণঃপ্রতিষ্ঠা করতে চাই। কারণ গণতন্ত্র ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সাংবাদিকদের স্বাধীনতা থাকবে না। সাংবাদিকরা সাংবাদিকতা করতে পারবেন না। তিনি আরো বলেন, শহীদ জিয়া প্রেস ইনস্টিটিটিউট (পিআইবি) প্রতিষ্ঠা করেছেন। জাতীয় প্রেসক্লাব তিনিই প্রতিষ্ঠা করে দিয়েছেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের পশ্চিম পাশের বিল্ডিংটি বেগম জিয়া করে দিয়েছেন। মীরপুরে সাংবাদিকদের জন্য জমিটিও বেগম খালেদা জিয়া দিয়েছেন। শহীদ জিয়াই এক দলীয় শাসন থেকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন। রাতের ভোটের সরকার গণতন্ত্র দেবে না। গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করতে হবে। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের স্বার্থে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে বিএফইউজে’র মহাসচিব এম আবদুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকদের জন্য বেতন কাঠামোই ওয়েজবোর্ড। আর এই ওয়েজবোর্ড শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলেই কার্যকর হয়েছে। অন্যান্য ওয়েজবোর্ডে সাংবাদিকদের সুবিধা বাড়ানো হলেও নবম ওয়েজবোর্ডে কামানো হয়েছে। আগের ওয়েজবোর্ডে একজন সাংবাদিক চাকরী ছেড়ে দেয়ার পর যেখানে ৮০ মাসের বেতন পেত বর্তমান নবম ওয়েজবোর্ডে মাত্র ৪০ মাসের বেতন পাবেন। ফলে নবম ওয়েজবোর্ডে ধারাটি সংশোধন করতে হবে। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ৩৭ জন সাংবাদিক খুন হয়েছে ও অনেক সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। যারা আজ আমাদের সাথে আসছেন না, তারাও সরকারের এই জুলুম নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাবেন না। এম আব্দুল্লাহ বলেন, সাংবাদিকরা ঐক্যবদ্ধ হলে জাতীয়তাবাদের সুদিন বেশী দূরে নয়।


আরো সংবাদ