২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

আ’লীগ থেকে হিটলার চৌধুরীকে বহিষ্কারের খবরে শহর জুড়ে তোলপাড়

নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌর এলাকার ২নং ওয়ার্ড সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর হিটলার চৌধুরী ভলুকে বহিষ্কার করেছে পৌর আওয়ামী লীগ। ৭ অক্টোবর সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবুর ফেসবুক আইডিতে এ সংক্রান্ত একটি পোস্ট প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সৈয়দপুর জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

ওই পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বিগত ২৪ জুলাই/২০১৯ সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত মোতাবেক সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর বিরুদ্ধে সরাসরি বিরোধিতা করা, নৌকা মার্কার বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত না মানা এবং দলীয় শৃংখলা ভঙ্গেও অপরাধে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিটলার চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগের মাধ্যমে কেন্দ্রে পাঠানো হয়।

বর্তমানে হিটলার চৌধুরী ভলুর সাথে সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের কোন সম্পৃক্ততা নেই। তার পারিবারিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিটলার চৌধুরীর নামের সাথে ‘পৌর আওয়ামীলীগ নেতা’ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে যা কোনভাবেই মেনে নেয়া সম্ভব না। এতে করে আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি। তার পারিবারিক ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের কোন সম্পর্ক নাই। বহিস্কৃত হিটলার চৌধুরীর কোন দায়ভার সৈয়দপুর আওয়ামী লীগ বহন করবে না।

এই স্ট্যাটাসের সাথে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তের রেজুলেশন বহির কয়েকটি পাতার স্কিনশট দেয়া হয়।

হিটলার চৌধুরী ভলু তার দ্বিতীয় স্ত্রী সুরভী ইসলাম পপিকে জবাই করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে নিজে বাদি হয়ে করা মামলার আসামী তারই কর্মী জীবন ও রাজাকে পারিবারিকভাবে চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে কৌশলে গত ৫ অক্টোবর শনিবার রাত আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টার দিকে আটক করে।

পরে তাদেরকে নিয়ে শহরের পুরাতন বাবুপাড়াস্থ বাংলা হাইস্কুল মাঠ সংলগ্ন মোটর সাইকেল মেকার লাল্লুর বাড়িতে যায় এবং সেখানে তাদেরকে নিয়ে শলা পরামর্শ করছিল। এমন সময় পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে হিটলার চৌধুরী আসামী দুজনকে নিয়ে মাইক্রোবাসযোগে টার্মিনাল হয়ে শহরের গোলাহাটস্থ তার নিজ বাসভবনে নিয়ে যায়।

পুলিশ পিছু পিছু তার বাড়িতে গেলে হিটলার চৌধুর লোকজন পুলিশকে বাধা দেয় এবং হট্টগোলের সৃষ্টি করে। এ সুযোগে বাড়ি প্রবেশ করে প্রধান গেট বন্ধ করে দেয় এবং পিছনের দরজা দিয়ে আসামীদের নিয়ে পালিয়ে যায় হিটলার চৌধুরী। এ ঘটনায় পুলিশ হিটলার চৌধুরীসহ ৯ জনের নাম উল্লেখপূর্বক আরও অজ্ঞাত ৬ জনকে আসামী করে আসামী ছিনতাই, পুলিশি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে মামলা করেন সৈয়দপুর থানার এসআই আবু বকর সিদ্দিক।

উপরোক্ত ঘটনার প্রেক্ষিতে হিটলার চৌধুরী নিজেকে নির্দোষ ও পুলিশী হামলায় তার মাসহ পরিবারের লোকজন লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ এনে বাড়িতেই সংবাদ সম্মেলন করে নিজেকে ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন এবং আওয়ামী লীগের একনিষ্ঠ কর্মী দাবি করেন।

এসময় তিনি বলেন, বিএনপি আমলে যতটা নির্যাতিত হয়নি আওয়ামী লীগের সময়ে তার চেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হচ্ছি। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশ হতে তাতে আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে হিটলার চৌধুরীকে পরিচিত করায় সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাবু উপরোক্ত স্ট্যাটাসটি তার ফেসবুক আইডিতে প্রকাশ করেন। এ স্ট্যাটাস প্রকাশের পর থেকে সোস্যাল মিডিয়া সহ শহরের সর্বত্র বিষয়টি তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।


আরো সংবাদ