২৬ মার্চ ২০১৯

তাবলিগের দুই গ্রুপে টানাপড়েন অব্যাহত

তাবলিগের দুই গ্রুপে টানাপড়েন - ছবি : সংগৃহীত

তাবলিগের দুই গ্রুপের টানাপড়েন অব্যাহত রয়েছে। কাকরাইল মারকাজে পালাবদল করে দুই গ্রুপ অবস্থান নিলেও টঙ্গী ময়দান এককভাবে সাদ বিরোধীদের দখলে রয়েছে। এ দিকে কাকরাইল মারকাজ থেকে নির্দিষ্ট সময় অবস্থান শেষে চলে যাওয়ার সময় সাদবিরোধীরা কয়েক লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে বলে মাওলানা সাদের অনুসারীরা অভিযোগ করেছেন। তবে সাদবিরোধীরা জানিয়েছেন, তারা কোনো রকমের মালামাল নিয়ে যাননি। বরং বিক্রি করে কাকরাইলে নিজেদের হেফাজতে রেখেছেন। 

বাংলাদেশে তাবলিগ জামাতে দীর্ঘদিন থেকে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। দিল্লির নিজামুদ্দিনের মুরব্বি মাওলানা সাদ কান্ধলভির একক আমিরত্ব ও তার কিছু বক্তব্যকে কেন্দ্র করে এ বিরোধ দেখা দেয়। এ জন্য গত ইজতেমায় মাওলানা সাদ কান্ধলভি বাংলাদেশে এলেও টঙ্গীর মাঠে অবস্থান করতে পারেননি। কাকরাইল থেকেই তিনি দিল্লিতে ফিরে যেতে বাধ্য হন। এর পর থেকে দুই গ্রুপের মতপার্থক্য আরো বেড়েছে। এর মধ্যে গত ১ ডিসেম্বর টঙ্গীতে জোড় ইজতেমাকে কেন্দ্র করে তাবলিগ জামাতের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এতে একজন নিহত ও বহু লোক আহত হন। তবে এর আগে কাকরাইল মারকাজের দখল নিয়ে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কাকরাইল মারকাজে দুই গ্রুপের অবস্থান ঠিক করে দেয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এতে সাদপন্থীদের দুই সপ্তাহ এবং সাদবিরোধীদের চার সপ্তাহ থাকার সুযোগ দেয়া হয়। সাদবিরোধীরা চার সপ্তাহ অবস্থান শেষে গতকাল কাকরাইল মারকাজ ছেড়ে চলে যায়। এরপর সকালে সাদ অনুসারীরা কাকরাইলে আসেন। কিন্তু তারা এসে অনেক কিছুই পাননি বলে তাবলিগের সাথীরা জানিয়েছেন। দোতলার দোকানের দায়িত্বে থাকা সাথী মো: সেলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, ইতঃপূর্বে দুই সপ্তাহ অবস্থান শেষে আমরা যখন কাকরাইল মারকাজ ছেড়ে যাই তখন তাদের সবকিছু বুঝিয়ে দিয়ে যাই। কিন্তু তারা আমাদের কোনো কিছুই বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি। বরং আমরা এসে পুরো দোকান খালি দেখছি। তখন আমরা নগদ ছয় লাখ টাকা এবং আরো আট লাখ টাকার মালামাল রেখে যাই। কিন্তু আমরা সকাল ৮টায় আসার পর এর কিছুই পাইনি। দোকান পুরো খা খা করছে। ফ্রিজের মালামালও নিয়ে গেছে তারা। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। 

একই অভিযোগ করেন রান্নাঘরের দায়িত্বরত সাথী আজিজুর রহমান। তিনি বলেন, রান্নাঘরে একটি ফ্রিজ ছিল, কিন্তু এখন এসে পাচ্ছি না। এ ছাড়া বড় বড় গামলাসহ অনেক কিছুই নেই। 
তাবলিগের সাথী হুমায়ুন বলেন, সাদবিরোধী ওয়াসিফুল ইসলামের ঘরে তালা দেয়া ছিল। কিন্তু ওপরের পাটিশন ভেঙে অনেক জিনিসপত্র তারা নিয়ে গেছে। 

তাবলিগের সাথী মোরসালিন বলেন, কাকরাইল মারকাজে মাওলানা সাদের অনুসারী পাঁচ ফায়সাল আছেন আর বিরোধীদের আছেন চারজন। অথচ বিরোধী চারজনকে চার সপ্তাহ সময় দিলেও সাদপন্থীদের মাত্র দুই সপ্তাহ সময় দেয়া হয়েছে, যা অন্যায় সিদ্ধান্ত। এ ছাড়া টঙ্গী ময়দান এককভাবে সাদবিরোধীদের দেয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। 

তাবলিগের সাদবিরোধী সাথী মুফতি জহির ইবনে মুসলিম নয়া দিগন্তকে বলেন, বিগত সময়ে সাদ অনুসারীরা যখন চলে যায় তখন তারা বেশ কিছু টাকা নয়ছয় করেছিল। এ জন্য আমরা সতর্ক থেকে সব মালামাল বিক্রি করে নিজেদের হেফাজতে কাকরাইলেই রেখেছি। কেউ এ টাকা নিয়ে যায়নি। 

তাবলিগের সাদবিরোধী আরেক সাথী মুফতি আমানুল হক নয়া দিগন্তকে বলেন, সাদ অনুসারীদের মধ্যে দু’জন ফায়সাল আছে, এ জন্য তারা দুই সপ্তাহ থাকার সুযোগ পান। আর আমাদের চারজন ফায়সাল থাকায় আমরা চার সপ্তাহ থাকার সুযোগ পাই। আমরা সঙ্ঘাত এড়িয়ে চলতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কাকরাইল থেকে কোনো ধরনের মালামাল সরানো হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের আগের কর্মকাণ্ডের কারণে আমরা মালামাল বিক্রি করে টাকা কাকরাইলে নিজেদের হেফাজতে রেখেছি।


আরো সংবাদ

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সেনা ও নৌবাহিনীতে অনারারি কমিশন প্রদান স্বাধীনতা দিবসের বাণীতে বিএনপি সার্বভৌমত্বকে বিপন্ন করতে দেশী-বিদেশী মহল ততপর শেখ হাসিনার হাতেই বাংলাদেশ নিরাপদ : পানিসম্পদ উপমন্ত্রী রাষ্ট্রবিরোধী অপপ্রচারের অভিযোগে সাবেক ছাত্রদল নেতা আশেক গ্রেফতার এক মিনিট ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি পালন ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ষ ঘুষ না খাওয়ার শপথ পড়ালেন অর্থমন্ত্রী ষ নারায়ণগঞ্জের এমপি খোকাকে নির্বাচনী এলাকা ছাড়ার নির্দেশ বিএনপি নেতা রবিউল আউয়ালের সন্ধান দাবি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গাইবান্ধার ৯ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন

সকল