২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

  শোল মাছের সাগর যাত্রা

-

সে দিন মুষল ধারে বৃষ্টি। সেই ভোরবেলা থেকে। এখনো থামেনি। চারিদিকে অন্ধকারে ছাওয়া। বেলা বেড়ে গেছে। কিন্তু সূর্যের দেখা নেই। মেঘ বৃষ্টির মেঘের আড়ালে। শোল মাছটা এক লাফে ডোবা থেকে উঠে এলো। বৃষ্টির মধ্যেই সে লাফ দিয়ে দিয়ে সামনে এগোতে থাকে। রাস্তায় লোকজন নেই। তাই তো ও মনের আনন্দে চলতে থাকে। বিলের কোনার ডোবায় থেকে থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে। ও যেন এখন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। মনের ভেতর ওর কত রকম ভাবনা। বন্দিজীবন ছেড়ে ও আজ বনের পাখির মতো যেন ডানা মেলে উড়তে চায়। মন ভরে পৃথিবীকে দেখতে চায়। জানতে চায়।
বেশ কিছু দূর যেতেই শোলটা হাঁপিয়ে উঠল। কিছু দূর যেতেই রাস্তার পাশে দেখতে পেল একটা বাঁশবাগান। তার উত্তরে একটি পুকুর। তার চার দিকে পাড় ও গাছপালার বাসা। পুকুরটা বেশ পছন্দ হলো শোল মাছটির। এ পুকুরেই সে লাফ দিয়ে পড়ে খানিক্ষণ জিরিয়ে নিলো। মন খুশিতে ডগমগ। জন্মাবার পর থেকে ওই ডোবাতেই সে বড় হয়েছে। একবার ধরাও পড়েছিল একটি ছেলের বড়শিতে। তখন খুব ছোট বলে ছেলেটা ওকে দয়া করে ছেড়ে দিয়েছিল। কিন্তু বড়শি থেকে ছাড়াতে ওর গাল রক্তে ভরে গিয়েছিল। ব্যথাও হয়েছিল বেশ। তবে দু-চার দিন যেতে ও একদম সুস্থ হয়ে গিয়েছিল। বিশ্রামের পর টাপুর-টুপুর বৃষ্টির মধ্যে পুকুরের এ মাথা ও মাথা সাঁতার কাটতে লাগল শোল মাছটা। এ পুকুরটাতে এসে শোলটা অনেক বন্ধু পেয়ে গেল। রুই, কাতলা, মৃগেল, পুঁটি, গ্রাসকার্প, সিলভারকার্পসহ আরো অনেককে। মনের সুখে সাঁতার কেটে বেড়ায় পানির নিচে। এখনো সে ডুব সাঁতার কেটে বেড়ায় সারা পুকুর জুড়ে।
এমনি করে দিন কেটে যায়। বেশ কয়েক মাস কেটে গেল। একদিন শোল মাছটার ডিম থেকে অনেকগুলো পোনা ফুটল। শোলটা পোনা মাছগুলো নিয়ে পুকুরের পাড়ঘেঁষে চড়ে বেড়ায়। পোনাগুলো একবার পানির ওপরে আবার পানির নিচে চলে যায় মা শোলটার সাথে সাথে। পুকুরপাড়ের পূর্ব দিকটায় একটা বড় লিচু গাছ। তার পাশে জলপাই আর নারকেল গাছও আছে ক’টি। লিচু গাছের ডালটায় বসে থাকে একটি মাছরাঙা। চুপটি করে বসে থেকে নজর রাখে শোলের পোনাগুলোর দিকে। একদিন খপ করে উড়ে এসে ক’টি পোনাকে ঠোঁটে তুলে নিয়ে গেলে মা শোলটা খুব কান্নাকাটি করল ওর পোনাগুলোর জন্য। ভাবল, পোনাগুলোকে বাঁচাতে হবে। পানির ওপরে আর নয়। সব সময় পানির নিচে আগলে রাখবে। কিন্তু ওরা মায়ের কথা শোনে না। হুটহাট করে উপরে চলে আসে। মাছরাঙাটা শুধু যে শোল পোনাগুলোকে শিকার করে তা নয়, ছোট ছোট পুঁটি মাছ ঠোঁটে তুলে নিয়ে ডালে বসে খায়।
ক’দিন ধরে লক্ষ করল শোল মাছটা Ñ একটি সাপ ওর পোনাগুলোকে ধরার জন্য পুকুরে নামে। সাপটা দেখতে তত লম্বা নয়। গায়ে হলুদের ওপর কালো কালো ফোঁটা ফোঁটা দাগ। মহা মুশকিলে পড়ল শোল মাছটা। কত সময় ওদের আগলে রাখা যায়। তাই পুকুরের একদম গভীরে কাদা সরিয়ে একটি বাসা তৈরি করল। পোনাগুলো সেখানে রাখে। শোল মাছটা ওদের জন্য বাইরে বেরিয়ে খাবার নিয়ে আসে।
দিন যেতে যেতে পোনাগুলো বেশ বড় হয়ে যায়। ওরা মা শোলটার কোলছাড়া হয়ে যায়। যে যার মতো থাকে। মা শোলটা নিশ্চিন্ত মনে এবার থাকতে লাগল। কিন্তু বেশি দিন সে ভাবনাহীন থাকতে পারল না। একদিন সকাল হতে না হতেই পুকুরের মালিক জেলেদের নিয়ে এসে সারা পুকুর ঘিরে ধরল জালে। তারপর এক প্রান্ত আড়ালে রেখে জালের ভেতর বেড় খাওয়া মাছগুলোকে জাল টানতে টানতে এক পাড়ে নিয়ে আসতে লাগল। শোল মাছটা ভাবল আজ তো ধরা পড়েছি। বাঁচার একটা শেষ চেষ্টা করে দেখি। এই বলে সে পুকুরে মাঝামাঝি লাফ দিয়ে জালের বাইরে চলে গেল। জাল থেকে ছাড়া পেয়ে এক ছুটে ওর সেই বাসায় চলে গেল। প্রতিজ্ঞা করল আর এখানে নয়। বাঁচতে হলে আবার বেরিয়ে পড়তে হবে এখান থেকে। কিছুদিন পর আবার বর্ষা চলে এলো। শোল মাছটা এক বর্ষণমুখর রাতে আবার বেরিয়ে পড়ল যখন পুকুরের পানি কানায় কানায় থই থই করছে। এবার লাফাতে লাফাতে অন্ধকারে অন্য পথ ধরে একটি নদীর কাছে এস গেল। পানির স্রোতে নদীতে নেমে গেল শোল মাছটা। এত বড় থই থই বিশাল পানির নদী সে কখনো দেখেনি। মনে মনে ভাবল এবারে আমার আর কোনো বিপদ নেই। মনের সুখে ক’দিন যেতে না যেতেই ওর ভুল ভাঙল, দেখল একদল জেলে। নৌকায় করে এসে মাঝ নদীতে জাল নামিয়ে দিচ্ছে। শোলটি ভয়ে চুপসে গেল। বিপদ ওর পিছু ছাড়ছে না। সে ছুটে নদীর এক কিনারে গিয়ে পালিয়ে থাকল। তখন সবে জোয়ার লেগেছে নদীতে। কানায় কানায় পানিতে পূর্ণ। এত পানি দেখে ওর আবার ভয় করতে লাগল। কিছু সময় পর শোল মাছটা দেখল ভাটির টান শুরু হয়ে গেছে। পানি দ্রুত নেমে চলে যাচ্ছে দুরন্ত বেগে। শোলটি সেই স্রোতে ভেসে চলল অজানার উদ্দেশ্যে। কোথায় যাবে জানে না। মনে মনে ভাবল হয়তো সাগরে চলে যাবে। যে সাগরের নাম আগেই শুনেছে। একদিকে আনন্দ ও ভয়ে সে শিউরে উঠল।


আরো সংবাদ

খেলা চলাকালেই গ্যালারিতে ঘুম শাস্ত্রীর! নেটদুনিয়ায় তোলপাড় ঢাবির ক ইউনিটের ফলে ভুল : দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সাদা দলের নিজেকে ‘স্যার’ বলতে বাধ্য করতেন ওমর ফারুক চৌধুরী হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল শুরু কাল কেরানীগঞ্জে বিএনপির কমিটি গঠন নিখোঁজের ৮ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার নিরীক্ষা জটিলতায় বাতিল হচ্ছে রবির হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে পরিপত্র মহাসমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সাদা দলের টঙ্গীতে বেগম জিয়ার কারা ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া বিভাগ হলেই ফরিদপুর হবে সিটি করপোরেশন

সকল