২২ অক্টোবর ২০১৯, ৭ কার্তিক ১৪২৪, ১ সফর ১৪৩৯

বইয়ের ব্যবহার ও যতœ আত্তি

-

অনেকেরই বইয়ের প্রতি নেশা বা ঝোঁক আছে। এই নেশার জন্য কাউকে কাউকে ডাকা হয় বইয়ের পোকা বা বইপাগলা। কিন্তু রোজকার জ্ঞান-বিনোদনের সঙ্গী বইয়ের ব্যবহার অনেকে জানেন না। মানুষের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বইয়ের ব্যবহার মানে নিলাম আর পড়লাম নয়। এরও আলদা যতœ লাগে। বইয়ের ব্যবহার, যতœ ও গুছানোর মধ্য দিয়েও বইয়ের মালিকের রুচির প্রকাশ পায়। বই ভর্তি শেলফ দেখতে সবারই খুব ভালো লাগে। অন্যান্য জিনিসের মতো ঘর সাজাতে বইয়ের ব্যবহার সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখে। মনকে আলোকিত ও প্রসারিত করার প্রথম উপকরণ বই। তারপর সৌন্দর্যবর্ধক হিসেবে কাজ করে। বই ব্যবহারেরও কিছু আদবকেতা রয়েছে। আসুন জেনে নেয়া যাক সেগুলোÑ

বই পড়ার সময় কী করা উচিত-উচিত নয়

১. বইতে কলম বা পেন্সিল দিয়ে দাগ দেয়া উচিত নয়। যদি কোনো শব্দ বা বাক্য দাগাতেই হয়, তবে ছোট করে হালকা করে দাগান। অন্যের পড়তে সমস্যা হতে পারে।

২. বইয়ের পাতা কখনো ভাঁজ করবেন না। এর বদলে পেজমার্ক ব্যবহার করুন। এতে বই খুঁজে পেতে সহজ হবে, ভালো থাকবে। বইয়ের পাতায় স্টিলের পেপার ক্লিপ ব্যবহার করা উচিত নয়, এতে মরচে পড়ে পাতা নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৩. পাতা উল্টাতে থুথু ব্যবহার করবেন না। ব্যাপারটা আন-হাইজিনিক। নিজের কিংবা লাইব্রেরির হোক, কখনো বইয়ের পাতা ছিঁড়বেন না। প্রয়োজনে নোটবুকে তথ্যটি টুকে নিন।

৪. বই পড়তে পড়তে বিশেষ করে মোটা, বড় বই উল্টে রাখবেন না। বইয়ের বাইন্ডিং ছিঁড়ে যেতে পারে। অনেকেই বইয়ের মধ্যে ফুল রাখেন, এটা ঠিক নয়। বইয়ের ছেঁড়া পাতা, পুরনো নথিপত্রে সেলোটেপ লাগানোর আগে বইয়ের সংরক্ষণের জন্য তা নিরাপদ কি না জেনে নিতে হবে।

৫. লাইব্রেরির এক সেকশনের বই আরেক সেকশনে রাখবেন না। এতে অন্য কারো বই খুঁজে সহজ হবে। সহজে বই খুঁজে পেতে নিজের সংগ্রহের বই বিষয় বা লেখকের নাম অনুসারে লেবেলিং ও ট্যাগ লাগিয়ে বই গুছিয়ে রাখুন।

৬. বই সরাসরি রোদে না রাখাই ভালো। বই ড্যাম্প হতে পারে। তাই স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায় বই সংরক্ষণ করা উচিত নয়। বইয়ের আলগা বা ছেঁড়া পাতা থাকলে বাঁধিয়ে নিন।

৭. বুকশেলফে গাদাগাদি করে বই রাখা উচিত নয়। পোকার অত্যাচার থেকে রক্ষা পেতে নিমপাতা শুকিয়ে বা ন্যাপথলিন বুকশেলফে রেখে দিন। বইয়ের রাখার স্থান মাঝে মধ্যে পরিষ্কার করুন।

বই দেয়া-নেয়ার নিয়ম

বই সবসময় কিনে পড়া সম্ভব নয় বলে দেয়া-নেয়া খুব সাধারণ একটি ব্যাপার। কিন্তু অনেকেই বই পড়তে নিয়ে ফেরত দেন না। বই দেয়া-নেয়ার সময়ও কিছু ব্যাপার মনে রাখা উচিতÑ

১. কাউকে বই ধার দিতে হলে যাকে দিচ্ছেন তার নাম, বইয়ের নাম এবং যোগাযোগের ঠিকানা লিখে রাখুন।

২. বই যেভাবে ধার নিয়েছেন, সেভাবেই ফেরত দিতে চেষ্টা করুন। 

৩. বই ফেরত দেয়ার সময় মলাট করে ফেরত দিন। এতে আপনার সুরুচি প্রকাশ পাবে।

৪. ধারকৃত বই নিলে যথাসময়ে তা ফেরত দিন। এতে সময়ানুবর্তী মনোভাব প্রকাশ পায়। দেরি হলে বইয়ের মালিককে জানিয়ে দিন আরো কিছু সময় লাগবে। 

বইয়ের প্রতি সত্যিকারের ভালোবাসা প্রকাশে আদবকেতা মেনে চলুন। বইয়ের যতœ নিন, বইকে ভালোবাসুন।

শ্রাবণী মুকুল

 


আরো সংবাদ

নিরীক্ষা জটিলতায় বাতিল হচ্ছে রবির হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ খেলা চলাকালেই গ্যালারিতে ঘুম শাস্ত্রীর! নেটদুনিয়ায় তোলপাড় ঢাবির ক ইউনিটের ফলে ভুল : দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সাদা দলের নিজেকে ‘স্যার’ বলতে বাধ্য করতেন ওমর ফারুক চৌধুরী হেরিটেজ হ্যান্ডলুম ফেস্টিভ্যাল শুরু কাল কেরানীগঞ্জে বিএনপির কমিটি গঠন নিখোঁজের ৮ দিন পর ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার নিরীক্ষা জটিলতায় বাতিল হচ্ছে রবির হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রাথমিক শিক্ষকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করতে পরিপত্র মহাসমাবেশ ঘিরে টানটান উত্তেজনা দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি সাদা দলের টঙ্গীতে বেগম জিয়ার কারা ও রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

সকল