২১ নভেম্বর ২০১৯

কালো মুক্তা

-

পার্বত্য দু’টি দ্বীপ আর ৭৬টি প্রবাল প্রাচীর নিয়ে গঠিত তুয়ামোতু। প্রতিটি প্রবালপ্রাচীর ধরে আছে একটা করে লেগুন। আর এই লেগুনগুলোই সুরক্ষা দিয়ে লালন-পালন করে কালো মুক্তার শুক্তি। তাহিতি থেকে দূরত্ব এক হাজার ৫২০ কিলোমিটার। জাপানের অ্যাকয়া নামক মুক্তার যে শুক্তি পৃথিবীর বেশির ভাগ মুক্তা উৎপাদন করে, তুয়ামোতুর কালো মুক্তার শুক্তি তার চেয়ে চার গুণ বড়।
ওই মুক্তার চেয়ে কালো মুক্তা অনেক দুর্লভ, পুরু আর বড়। ঔজ্জ্বল্যের বিচারেও এটা অপেক্ষাকৃত ভালো, আলোর প্রতিফলন খেলা করে মুক্তোর তলায়। আর রকমারি রঙের ব্যাপারটা তো আছেইÑ রুপালি ধূসর, আগ্নেয় শিলার মতো কাচকালো, এমনকি সাদা। সবুজ মুক্তোর চাষ হয় আরো দক্ষিণের গ্যাম্বিয়ার দ্বীপপুঞ্জে।
লেগুনগুলোতে এই শুক্তি ব্যারোমিটারের কাজ করে। বেঁকে বা সরে গিয়ে লেগুনগুলো যখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ক্ষতি হয় শুক্তিগুলোরও; তাদের জন্য প্রয়োজন ৭৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট তাপমাত্রা এবং স্বচ্ছ ও দূষণমুক্ত পানি। বেশির ভাগ জাপানি মুক্তা কৃত্রিমভাবে উৎপাদিত হয় হ্যাচারিতে। কিন্তু তুয়ামোতুর কালো মুক্তা উৎপাদিত হয় প্রাকৃতিকভাবে। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে পলিনেশিয়া থেকে মুক্তা তোলা হতো প্রধানত সেটির বর্ণময় ভেতরের খোলের জন্য, শুক্তি দিয়ে তৈরি হতো বোতাম। তখন মুক্তাকে মনে করা হতো অপ্রত্যাশিত এক প্রাপ্তি। এখন পৃথিবীর প্রায় সব ধরনের মুক্তা মানুষের হাতে উৎপাদিত।
মুক্তাচাষিরা ভাসমান খুদে শুক্তিকে ধরার জন্য লেগুনে ঝুলিয়ে রাখে প্লাস্টিকের মালা। কয়েক মাসের মধ্যেই প্রতিটি মালা ভরে যায় পিনের ডগার মতো খুদে খুদে শুক্তিতে, যেগুলো শিগগিরই বেড়ে রুপার ডলারের আকার নেয়। ছয় মাস পর শুক্তিগুলোকে রাখা হয় ঝুলন্ত ঝুড়িতে। সেখানে তারা বাড়ে আরো দেড় বছর।
তারপর শুক্তিগুলোকে সেখান থেকে সরিয়ে নিখুঁতভাবে চেরা হয় একটার পর একটা। তার ভেতরে জুড়ে দেয়া হয় একটা ম্যান্টল টিস্যু আর আমেরিকান মিঠাপানির শুক্তির একটা গুটিকা।
ম্যান্টল টিস্যু ধীরে ধীরে একটা থলের আকার নেয় আর শুক্তির গুটিকাটিকে ঢেকে দিয়ে উৎপাদন করতে থাকে মুক্তা। সার্জারির পর শুক্তিগুলোকে আবার ফিরিয়ে নিয়ে আসা হয় লেগুনে। তিন বছর পর সেখান থেকে উৎপাদিত হয় পূর্ণ আকারের কালো মুক্তা।
এবার গুণ অনুসারে শ্রেণিবিভাগ করা হয়। কালো মুক্তাগুলোকে বিক্রি করা হয় যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ আর জাপানে।
প্রতি বছর ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া কয়েক লাখ ডলার মূল্যের কালো মুক্তা রফতানি করে। পলিনেশিয়াজুড়ে রয়েছে কালো মুক্তার ৫০০ খামার। সবচেয়ে বড় কালো মুক্তা উৎপাদিত হয় নেঙ্গোনেঙ্গো খামারে, যেগুলোর মাপ ২১ মিলিমিটার।


আরো সংবাদ

সকল