২১ নভেম্বর ২০১৯

এশীয় নীলপরী

-

আজ তোমরা এমন এক ধরনের পাখি সম্বন্ধে জানবে যার নাম এশীয় নীলপরী। কারণ এদের শরীরের একটা বড় অংশই নীল রঙের। সারা পৃথিবীতে এদের আবাস এক বিশাল এলাকাজুড়ে। যার পরিমাণ প্রায় ৩৮ লাখ বর্গকিলোমিটার। তবে ক্রমেই কমে আসছে এদের সংখ্যা। তবে কমেনি আশঙ্কাজনক অবস্থায়। সে কারণে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সঙ্ঘ বা আইইউসিএন এ প্রজাতিকে ঘোষণা করেছে ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত বলে। এ প্রজাতি সংরক্ষিত আছে বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী আইনে। এশীয় নীলপরীর পাশাপাশি রয়েছে ফিলিপাইনের নীলপরীও।
এদের অনেক প্রজাতি আছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম বা উপপ্রজাতি হলো পুয়েল্লা, আন্দামানিকা, মালায়েনসিস, ক্রিনিজেরা, তুরকোসা ও টুইড্ডালে। এশীয় নীলপরীর বিচরণ দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশজুড়ে। এ প্রজাতির মূল আবাসস্থলগুলো হলোÑ ফিলিপাইন, চীন, ব্রুনাই, লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, ভারত ও বাংলাদেশ।
ভাত শালিকের আকারের লালচে দেহের বৃক্ষচারী পাখি হলো এ এশীয় নীলপরী। এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৫-৩০ সেন্টিমিটার। ঠোঁট প্রায় ৩ সেন্টিমিটার, ডানা ১৪ সেন্টিমিটার, লেজ প্রায় ১০ সেন্টিমিটার, পা প্রায় ৯ সেন্টিমিটার। কম-বেশি পার্থক্য আছে স্ত্রী ও পুরুষ পাখির চেহারায়। পুরুষ নীলপরীর ডানা কালো। গলা, বুক, লেজও কালো। ঠোঁট, কান-ঢাকনি ও চোখের মাঝের অংশ কালো। উজ্জ্বল-বেগুনি-নীল হচ্ছে মাথার চাঁদি থেকে কোমর অবধি। ঠোঁট সোজা ও সিসা কালার। লেজতল নীলচে। দেহতল প্রায় ঘোর কালো। এ দিকে স্ত্রী পাখির ডানার শেষর দিক নীলচে ধূসর ও ডানার পালক কালচে। দেহের অনেকাংশ অনুজ্জ্বল সবুজাভ-নীল। কালচে বাদামি ঠোঁট। তবে উভয়ের মিল হলো স্ত্রী-পুরুষের চোখ গাঢ় লাল। পায়ের পাতা ও নখ কালো। মুখ ধূসরাভ। শরীরের তুলনায় ছোট হচ্ছে পা। অপ্রাপ্ত বয়স্ক নীলপরীর চেহারা অনেকটাই স্ত্রী পাখির মতো। অবাক বিষয় হচ্ছে পুরুষ পাখি উজ্জ্বলতম রঙ ধারণ করে বিশেষ সময়ে। এদের আকার চেহারায় পার্থক্য রয়েছে উপপ্রজাতিভেদে। স্বাভাবিক পরিবেশে এরা বাঁচে ১০-১২ বছর। বাসা বানায় ঘন ঝোপে গাছের চেরা ডালে। বাসা বানায় খুব বেশি আর্দ্র এলাকায়। বাসা দূর থেকে পেয়ালার মতো দেখায়। বিভিন্ন পাতা দিয়ে বাসা বানায়। বাসা তৈরি করে কেবল স্ত্রী নীলপরীরা। ডিমে তা দেয় স্ত্রী নিজেই। ডিম ফুটে ছানা বের হয় ১৩-১৪ দিনে। এদের দেখভাল করে বাবা-মা মিলেমিশে। ছানারা বা-মায়ের সাথে থাকে পাঁচ-ছয় সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত। উপযুক্ত পরিবেশে বন্দী থাকলেও ভালোভাবে বংশবিস্তারে সক্ষম এরা।
এশীয় নীলপরীর বৈজ্ঞানিক নাম ইরেনা পুয়েলা ইংরেজি নাম ফেইরি ব্লুবার্ড। এদের বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ শান্ত মেয়ে। এরা ইরেনিডা পরিবারভুক্ত প্রাণী।


আরো সংবাদ