১৬ জুন ২০১৯

ইংল্যান্ডের কন্ডিশনিং ক্যাম্পে ব্যস্ততা

বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক যোগ দেবে আইসিসির আতিথেয়তায়
নেটে বাংলাদেশের ওপেনার সৌম্য সরকার। আয়ারল্যান্ডে ত্রিদেশীয় ক্রিকেটে তিনি চমৎকার নৈপুণ্য দেখান : বিসিবি -

আয়ারল্যান্ড ছেড়ে ইংল্যান্ডে পৌঁছে গেছে টিম বাংলাদেশ। ১৫ সদস্যের দলের ১৩ জন রয়েছেন ওই স্কোয়াডে। সিনিয়র দুই ক্রিকেটার অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা দেশে ফিরে এসেছেন, ফ্যামেলি ও পার্সোনাল কিছু কাজের জন্য। আর তামিম ইকবাল পরিবারকে সময় দিচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যে। বাকিরা রয়েছেন হেড কোচ স্টিভ রোডসের ক্যাম্পে। গত পরশু শনিবার ইংল্যান্ডে পৌঁছে অল্প সময়ের একটি কন্ডিশনিং ক্যাম্পে অংশ নেবেন তারা। সেখান থেকে আগামী বৃহস্পতিবার আইসিসির অতিথি হয়ে যাবেন বিশ্বকাপে। অবশ্য এ সময় তারা চলে যাবেন কার্ডিফে। সেখানে দু’টি প্রস্তুতি ম্যাচ রয়েছে। যার একটিতে লড়বে তারা ভারতের বিপক্ষে, অন্যটি পাকিস্তানের বিপক্ষে। বিশ্বকাপের অফিসিয়ালি প্রস্তুতি ম্যাচ ওই দু’টি। মাশরাফিও সরাসরি বৃহস্পতিবার যেয়ে যোগ দেবেন দলের সাথে। তামিমও।
ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে অনুশীলন এ মুহূর্তে বেশ জরুরিও। আয়ারল্যান্ডে যেভাবে খেলেছেন, সে উইকেট, কন্ডিশনের সাথে কতটা মিল রয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের তা অনুধাবন প্রয়োজন। তামিম জানেন, মাশরাফিও। দুই প্রস্তুতি ম্যাচে অংশ নিলেই সেটাতে পূর্ণতা মিলবে। দলের সাথে থাকা অন্যদের এ বিষয়গুলোতে আরো অভিজ্ঞতা প্রয়োজন। কারণ বিশ্বকাপের মূল আসরে প্রতিটা দলের শক্তিই একই রকম। দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিয়ে শুরু। এরপর অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, ইংল্যান্ড কে কার চেয়ে কম। বড় কথাÑ সবার টার্গেটই সেমিফাইনাল। প্রাথমিক পর্যায়ে ওই টার্গেটে পৌঁছার জন্য কিছু দলকে বড় দলগুলো টার্গেট করেই খেলা শুরু করে। বলার আর অপেক্ষা রাখে না, বাংলাদেশ সম্ভবত বড় ওই সব দলেরই টার্গেটের দল। কারণ ইংল্যান্ড কখনই শতভাগ চিন্তা করবে না, দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে তারা জিতেই যাবে। কিন্তু বাংলাদেশের বেলায় তাদের এ আশা থাকবে অন্য যেকোনো দলের চেয়ে অনেক বেশি। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি ম্যাচেই অ্যালার্ট থেকেই খেলতে হবে। ইংলিশ কন্ডিশনে দল কিভাবে খেললে রেজাল্ট মিলবে সেটা ইতোমধ্যে বুঝে ফেলেছেন ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডস। দলকে তিনি সেভাবে তালিম দিচ্ছেন। ফলে মূল আসর ও বিশ্বকাপের প্রস্তুতি ম্যাচের আগে লেস্টারে অনুষ্ঠিত কন্ডিশনিং ক্যাম্পে দলকে তিনি আরো আপডেট করবেন এটাই স্বাভাবিক।
আয়ারল্যান্ডে বাংলাদেশ প্রত্যাশার বেশি সাফল্য পেয়েছে এটা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে ফাইনাল ম্যাচে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও সৌম্য সরকার যেভাবে ব্যাটিং করতে পেরেছেন এটা দলের জন্য বড় পাওয়া। এ টুর্নামেন্টের প্রাপ্তিই শিরোপা এটা ঠিক। ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টানা তিনবার হারানো সেটাও ঠিক আছে। তবে যে জন্য এ আসরের আয়োজন, সেদিক থেকে যদি প্রাপ্তিটা দেখা হয় তাহলে সেটা ওই দুই ক্রিকেটার মোসাদ্দেক ও সৌম্য। এ দুই ক্রিকেটারের আত্মবিশ্বাস এবং এদের পারফরম্যান্স ইংল্যান্ডেও ধরে রাখতে পারলে সেটা হবে অনেক বড় প্রাপ্তি। তামিম, সাকিব, মুশফিক, মাশরাফি, মাহামুদুল্লাহরা প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু এদের সাথে বা এদের ‘বাজে’ দিনে যদি সৌম্য, মোসাদ্দেক বা সাব্বির, মিরাজরা পারফরম্যান্স করে দেন তাহলে তো গ্যাপ পূরণ হয়ে গেল। বাংলাদেশ দল ইতঃপূর্বে এখানেই পিছিয়ে পরত। সিনিয়ররা ভালো করলেও জুনিয়ররা সেভাবে সুবিধা করতে পারতেন না। এবার মনে হচ্ছে জুনিয়ররা আরো একধাপ এগিয়ে। অন্তত তিন ম্যাচে সৌম্য সরকার ও ফাইনালে মোসাদ্দেকের ব্যাটিং তাই প্রমাণ করে। দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন এ দু’জন। অন্তত এসব মেঘা আসরে যা প্রয়োজন ঠিক সেটাই। এটা নিশ্চিত ম্যাচ জিততে হলে রান প্রয়োজন হবে এর বিকল্প নেই। রান লাগবেই। এবং সেটা প্রতিটা ম্যাচেই তিন শ’ প্লাসে থাকার চিন্তা করতেই হবে। যে অভ্যাস অন্য সব বড় দলের থাকলেও নেই বাংলাদেশের। আয়ারল্যান্ডে এ ক্ষেত্রে ভালোই সফলতা দেখিয়েছে। কোচরা সেটা এখন ইংল্যান্ডেও কিভাবে ধরে রাখবেন সেই পরামর্শ দেবেন।

 


আরো সংবাদ