১৯ জুলাই ২০১৯

নীরবেই প্রস্থান রোডসের

-

গত বছর জুনে ঠিক এমনই এক মেঘলা দুপুরে বিসিবি কার্যালয়ে এসেছিলেন স্টিভ রোডস। সংবাদমাধ্যম এড়িয়ে চলে গিয়েছিলেন বিসিবির প্রধান নির্বাহীর কক্ষে। বাংলাদেশে তার প্রথম দিনটার সাথে শেষ দিনটাও মিলে গেল অদ্ভুতভাবে। গতকালও ছিল সেই মেঘলা দুপুর। গন্তব্য ওই বিসিবি প্রধান নির্বাহীর কক্ষ। এবারো সংবাদমাধ্যমকে এড়িয়ে যাওয়া। পার্থক্যটা হচ্ছে, যে দিন কোচ হয়ে বাংলাদেশে প্রথম এলেন, সে দিন মুখে ছিল হাসি। গতকাল তার ছিটে ফোঁটাও লক্ষ করা যায়নি।
এক বছর বাংলাদেশের প্রধান কোচ থাকার সময় কত কথাই তো বলেছেন। গতকাল বিদায়বেলায় মুখে তালা মেরে রেখেছেন স্টিভ রোডস। বিসিবির সাথে তার সম্পর্কটা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে। বিদায়বেলায় তার বিষণœ মুখটা দেখে অনেকেরই মনে হচ্ছিল এভাবে বিদায় তিনি নিতে চাননি। এক বছরের বাংলাদেশ অধ্যায়ে যিনি কখনোই সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলতে অনীহা প্রকাশ করেননি। সেই রোডস গতকাল বিদায়ক্ষণে একটা কথাও বললেন না। আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ-পর্বটা তার শেষ হলো নীরবেই। প্রস্থানও হলো নীরবে।
বিসিবি বলছে, ‘এটা পারস্পরিক সমঝোতার বিচ্ছেদ।’ তবে রোডস কেন কথা বললেন না, এ নিয়ে বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এটি আসলে যার যার ব্যক্তিগত ব্যাপার। এটি খুবই স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া যে, সম্পর্কের যখন ইতি ঘটে, তখন বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা হয়, তিনি হয়তো এসব বিষয় ব্যক্তিগতভাবে এড়াতে চাইছেন।’
রোডস কিছু না জানালেও গতকাল বাংলাদেশ দলের ইংলিশ কোচের বিসিবি কার্যালয়ে আসা প্রসঙ্গে নিজামউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘এটা আসলে একটা আনুষ্ঠানিকতা ছিল। কিছু আনুষঙ্গিক বিষয় ছিল, অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া। সেগুলো আমরা শেষ করলাম। তিনি সম্ভবত আজ বাংলাদেশ থেকে চলে যাচ্ছেন।’
অথচ গত বুধবার লন্ডনে ইন্টার পার্লামেন্টারি ক্রিকেট টুর্নামেন্টে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, শ্রীলঙ্কা সিরিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন রোডস। ঠিক তার পরের দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন বাংলাদেশ কোচ। বিসিবি সভাপতির কথার সাথে বাস্তবের এ অমিল নিয়ে নিজামউদ্দিন বললেন, ‘আমরা আগেও বলেছি যে সমঝোতার মাধ্যমে বিষয়টি হয়েছে। কিছু শর্ত থাকে। বোর্ড সভাপতি সেটিই বলেছেন যে, তিনি চূড়ান্তভাবে কবে যাবেন বা কী করবেন সেটি কোচেরই সিদ্ধান্ত। আমরা সভাপতিকে রাতে জানিয়েছি বিষয়টি যে, তিনি আজ চলে যেতে চাইছেন।’
স্টিভ রোডস চলে যাওয়ার পর নতুন কোচ সন্ধানের ব্যাপারে বিসিবি কী উদ্যোগ নিচ্ছে? এমন প্রশ্নের জবাবে বিসিবির প্রধান নির্বাহী জানালেন, তারা কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছেন। যত দ্রুত সম্ভব শূন্যস্থান পূরণ করা হবে। শুধু প্রধান কোচই নন, কোচিং স্টাফে আরো কিছু জায়গা দ্রুতই পূরণ করতে হবে বিসিবিকে। রোডসকে প্রধান কোচ হিসেবে নির্বাচিত করার পেছনে বিসিবি ইংল্যান্ড বিশ্বকাপকে প্রাধান্য দিয়েছিল। এবার কোচ নির্বাচনে কোনো কিছু প্রাধান্য নয়, বিসিবি ‘উন্মুক্ত’ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 


আরো সংবাদ