২৫ আগস্ট ২০১৯

বাংলাদেশের হেড কোচ এবং লক্ষ্য

-

বাংলাদেশ ক্রিকেটের এখন দুঃসময় চলছে। বিশ্বকাপ ও শ্রীলঙ্কা সফরে শুধুই ব্যর্থতার ইতিকথা। হতাশাজানক এই অধ্যায় থেকে বেরিয়ে আসার জন্য ক্রিকেটারেরা সচেষ্ট থেকেছেন। চেষ্টার কোনো কমতি ছিল না। কিন্তু নিজেদের চেনা ছন্দ উপহার দিতে পারেননি। কোথায় যেন কমতি ছিল। বিশ্বকাপ ও লঙ্কা সফরে টাইগারদের দুর্বলতা প্রকট হয়ে ফুটে উঠেছে। ব্যাটিং, বোলিং ও ফিল্ডিং বিভাগে সাদামাটা নৈপুণ্য ব্যথিত করেছে লাখো কোটি কিক্রেটমোদীকে। ফলে কোচিং স্টাফে যে পরিবর্তন আসন্ন তা কিন্তু বোঝা গিয়েছিল। বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ শাসক বিসিবি হেড কোচ স্টিভ রোডসকে চুক্তি থেকে রেহাই দিলো।
এরপর বোলিং কোচ কোর্টলি ওয়ালশ ও যোশির বিদায়। তবে এদের বিদায় করে থেমে থাকল না বিসিবি। হেড কোচের জন্য বিভিন্ন দেশে যোগাযোগ করল তারা। নামীদামি কোচরা নিজেরা যোগাযোগ করে না। তাদের এজেন্ট রয়েছে। তাদের সাথে যোগাযোগের পর বিসিবি বেশ কয়েকজন স্বনামধন্য কোচের নাম প্রকাশ করেছে। গ্যারি কারস্টেন, হেসন, ডোমিঙ্গ, হাতুরাসিংহে, আর্থার কি উজ্জ্বল এক একটি নাম। ইতোমধ্যে এক সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাহলোÑ অ্যাশেজ শেষ হওয়ার পর ইংল্যান্ডের কোচ বেলিস চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন। ফলে ইংল্যান্ডের কোচের ইঁদুর দৌড়ে রয়েছেন গ্যারি কারস্টেন ও আর্থার। ফলে এরা দুইজন বাংলাদেশের কোচ হিসেবে কাজ করার ব্যাপারে তেমন আগ্রহ দেখাননি। এ ছাড়া ভারতও তাদের কোচ রবি শাস্ত্রীর পরিবর্তে নতুন একজন কোচ নেবে। এই দুই দেশের কোচ নিয়োগের পর বিসিবি জোরেশোরে হেড কোচের ব্যাপারে মাঠে নামবে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আরো জানা গেছে, বিসিবি হেসনের ব্যাপারে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে ভারত এবং পাকিস্তান হেসনের ব্যাপারে তাদের আগ্রহের কথা জানিয়েছে। ভারতের কোচিং-এর শর্ট লিস্টে হেসনের নাম আছে। তার সাথে যদি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কথা চূড়ান্ত হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশকে অন্য কিছু ভাবতে হবে। এ ছাড়া ডোমিঙ্গোর সাথে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে বলে জানা গেছে। সাবেক কোচ হাতুরাসিংহেকে নেয়ার ব্যাপারে বিসিবির একটি মহল আগ্রহ দেখিয়েছে। যদিও বাংলাদেশের অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ ও সাবেক ক্রিকেটার জানিয়েছেন, হাতুরাসিংহেকে পুনরায় বাংলাদেশের কোচ করা যৌক্তিক হবে না। বিসিবির কর্মকর্তারা অবশ্য কোচ নিয়োগের ব্যাপারে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।
তবে চমক দেখিয়েছে বিসিবি বোলিং কোচ নেয়ার ব্যাপারে। পেস বোলিং কোচ হিসেবে ল্যাংভেল্ট ও স্পিন কোচ হিসেবে ড্যানিয়েল ভেট্টোরিকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এরা দুইজন বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের সাথে কাজ করার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন। এখন শুধু হেড কোচের জন্য অপেক্ষা।
বাংলাদেশের বোলিং শক্তি যে একেবারে সাদামাটা তা বিশ্বকাপ ও লঙ্কা সফরে পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে। এই বিভাগ নিয়ে বিসিবিকে দীর্ঘমেয়াদি চিন্তাভাবনা করতে হবে। দলের পেস ব্যাটারি হিসেবে পরিচিত মুস্তাফিজুর রহমান, রুবেল হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, আবু হায়দার রনি, শফিউল ইসলাম রয়েছেন দলে। কিন্তু এরা বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানদের ওপর ইনিংসের শুরুতে প্রাধান্য বিস্তার করতে পারছেন না। ফলে যেকোনো দল স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে বড় স্কোর গড়তে সক্ষম হয়। তাই সারা দেশে ‘বোলার হান্ট’ কার্যক্রম নিতে হবে বিসিবিকে। নতুন প্রতিভা খুঁজে তাদের পরিচর্যা করতে হবে। তাহলেই নতুন পেসার পাওয়া যাবে। যারা বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে মাঠ কাঁপাবে। ব্যাটিংয়েও দৈনদশা চলছে। দুই-একজন ছাড়া আর কারো উইলো ঝড় তুলতে পারছে না। কেউ বা আবার ক্রিজে সেট হওয়ার পর বাজে শট খেলে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে সাজঘরে ফিরে আসছেন। শট সিলেকশনে যতœবান হওয়ার জন্য ব্যাটসম্যানদের পাখি পড়ার মতো উপদেশ দেন কোচেরা। কিন্তু মাঠে এর কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না।
ব্যাটসম্যানদের দলের প্রতি কোনো কমিটমেন্ট আছে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। খেলতে হয় খেলা এমন মনোভাব প্রতিটি ব্যাটসম্যানের মধ্যে কাজ করে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে হবে। না হলে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ হতে বেশি দেরি হবে না। এ ছাড়া ফিল্ডিং নিয়েও অনেক কথা রয়েছে। বাংলাদেশের ফিল্ডিং এতই সাধারণ ও দুর্বল, যা চোখে দৃষ্টিকটু ঠেকেছে। ক্যাচ মিস, রান করতে না পারা এগুলো ছিল টাইগারদের নিত্যসঙ্গী। কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না যে চেষ্টা করলে ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করা সম্ভব। দুর্দান্ত ফিল্ডিং অপর দলের মনোবল ভেঙে দিতে পারে। তাই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে বাংলাদেশকে। মাঠে জীবন বাজি রেখে সেরা ফিল্ডিং দেখাতে হবে। তাহলে সেরা দলের তকমা পেয়ে যাবে টাইগারেরা।
আগামী মাসে আফগানিস্তানের সাথে টেস্ট ম্যাচ। এই ম্যাচের আগে বাংলাদেশ কোচ পাবে কি না তা বলা যাচ্ছে না। তবে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরে আফগানিস্তানকে পরাজিত করে জয়ের ধারায় ফিরতে হবে বাংলাদেশকে। এটাই এখন একমাত্র লক্ষ্য।

 


আরো সংবাদ