১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

অবশেষে মুখ খুললেন মাহমুদুল্লাহ

-

চোট কাটিয়ে পুরোপুরি ফিট এখন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। কাঁধের ব্যথা থেকে মুক্তি মিলেছে। গতকাল মিরপুরের অ্যাকাডেমি মাঠে নেটে দুই সেশন ব্যাটিং করার পর কোনোরকম অস্বস্তি ছাড়াই বোলিং করলেন পাঁচ ওভার। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে দিলেন নানা প্রশ্নের উত্তর। উঠে এলো অপ্রিয় প্রসঙ্গটিও। এড়িয়ে না গিয়ে বললেন, চাইলে ড্রেসিংরুমে এসে দেখে যেতে পারেন।
গেল বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের সাথে বাংলাদেশ দলের খেলায় দুর্দান্ত রানের পাহাড় গড়েছিলেন টাইগাররা। ৩৮৭ রানের পাহাড় সমান সেই ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। তিনি যখন সেঞ্চুরি হাঁকান তখন ব্যাটিংয়ে সঙ্গী ছিলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। এ সময় তার পাওয়ার হিটিং ব্যাটিং না করায় ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সাকিব। গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়েছিল, সাকিব রিয়াদকে বলেছিলেন, পাওয়ার হিটিং ব্যাটিং করতে। কিন্তু রিয়াদ টেস্টের মেজাজে স্লো মোশনে ব্যাটিং করেন। তার ব্যাটিংয়ে বিরক্ত হয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরে সাকিব অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে বলেছিলেন, আগামী ম্যাচ থেকে যেন রিয়াদকে বসিয়ে রাখা হয়। ওই খবর নিয়ে এত দিন কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি সাকিব বা মাহমুদুল্লাহ। তবে এবার মুখ খুলেছেন মাহমুদুল্লাহ।
তা ছাড়া বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ভারতীয় ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকবাজ এক প্রতিবেদনে সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের পর মাহমুদুল্লাহকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। প্রতিবেদনটিতে আরো বলা হয়েছিল, সেটির অসন্তোষে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ড্রেসিংরুমে নাকি সতীর্থদের সাথে বাজে ব্যবহার করেছেন মাহমুদুুল্লাহ রিয়াদ।
মাহমুদুল্লাহ চাইলে এড়িয়ে যেতে পারতেন। ভুল বোঝাবুঝি যেন ডালপালা মেলতে না পারে সেটি ভেবেই জবাব দিয়েছেন। সতীর্থ ক্রিকেটারদের সাথে কোনো ঝামেলা নেই বলে দাবি করেছেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেছেন, আমার মনে হয় ওসব নিয়ে কথা না বলাই ভালো। শুধু একটা কথাই বলতে চাই, কিছু কিছু বিষয় যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, ওইভাবে আসলে কিছুই হয়নি। উপস্থাপন ভিন্ন রকম হতে পারত। চাইলে আপনারা ড্রেসিংরুমে আসতে পারেন। দেখতে পারেন আমরা একে অপরের প্রতি কতটা আন্তরিক। কিভাবে একে অপরের সাথে কথা বলি।
বাংলাদেশ দলের সিনিয়র এ ক্রিকেটারের দাবি, কোনো ক্রিকেটারের সাথেই ঝামেলা নেই তার। জুনিয়র-সিনিয়র সবাই মিলে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুম সুখী একটি পরিবার। আমার মনে হয় ওই ধরনের ব্যাপার নিয়ে কথা না বলাই ভালো। আমি শুধু এতটুকুই বলতে চাই। মনে হয় না আমার সাথে কোনো টিমমেটের গণ্ডগোল বা কোনো কিছু আছে। আমরা খুব ভালো বন্ধু। ড্রেসিংরুমে চাইলে আপনারা আসতে পারেন। একজন আরেকজনের সাথে কতটুক মজা করি, কত ভালোভাবে সময় কাটাই। আপনাদের ওয়েলকাম জানাই, চাইলে এসে দেখতে পারেন। ছোট হোক বড় হোক আমরা কতটা ভালোভাবে থাকি। আমি শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি যেন সবার সাথে ভালোভাবে থাকতে পারি এবং টিমের জন্য ভালো খেলতে পারি। সব সময় এ কথাটা বলি এবং আজো এটি বললাম, ভবিষ্যতেও বলব যদি সব কিছু ঠিক থাকে।


আরো সংবাদ