১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

স্বল্প বেতনে পছন্দের কোচ ডমিঙ্গো

-

নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ মাইক হেসন। বড় নাম, তাই বেতনও বেশি। যাকে পেতে বেশ আগ্রহী ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই কিউই কোচকে নিয়োগ দিলে মাসে ৩০ হাজার ডলার অর্থাৎ, ২৫ লাখ টাকা খরচ করতে হতো বিসিবিকে। তা ছাড়া নানা রকম শর্তের তালিকাতো ছিলই। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত খরচের পথে হাঁটতে হয়নি বিসিবিকে। স্বল্প বেতনে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী কোচ পেয়েছে টাইগাররা। তাতে বেশ লাভই হলো বিসিবির।
তাতেই কপাল পুড়েছে হেসনের। আগে বাংলাদেশে ইন্টারভিউ দেয়ার কথা থাকলেও অতি লোভে শিডিউল দিয়েছে ভারতকে। দাদারা রবি শাস্ত্রীকে নিয়োগ দেয়ায় আশাহত হেসনের সুযোগ হয়নি বাংলাদেশেরও কোচ হওয়ার। ফলে রিক্ত হস্তে ফিরে যেতে হয়েছে হেসনকে।
গত শনিবার টাইগারদের প্রধান কোচ হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার রাসেল ডমিঙ্গোর নাম ঘোষণা করে বিসিবি। তামিম-সাকিবদের দেখভাল করা কোচ ডমিঙ্গোকে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ডলার বেতন দিতে হবে বিসিবির। বাংলাদেশী মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, সেই সাথে সারা বছর টাইগারদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি। ইতোমধ্যে তিনি জানিয়েও দিয়েছেন তার কোনো ছুটির প্রয়োজন নেই।
সবশেষ টাইগারদের সাবেক ইংলিশ কোচ স্টিভ রোডসকে ২২ হাজার ডলার অর্থাৎ সাড়ে ১৮ লাখ টাকা করে বেতন দিতে হয়েছে বিসিবিকে। তবে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দামি কোচ ছিলেন চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। লঙ্কান এই কোচকে মাসে ২৫ হাজার ৮০০ ডলার অর্থাৎ ২১ লাখ ৭৩ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়েছে বিসিবিকে। সেই হিসাবে স্বল্প খরচেই নতুন কোচ ডমিঙ্গোকে পেল বাংলাদেশ।
অবশ্য হেসনের পেছনে চন্ডিকা হাথুরুসিংহের চেয়ে বেশি খরচ করতে রাজি ছিল বিসিবি। কিন্তু তার জুড়ে দেয়া শর্তগুলোর কারণে পিছিয়ে আসতে হয়। হেসনকে বেশি বেতন দিলেও তাকে সারা বছর পেত না টাইগাররা। তাই হেসনকে ছেড়ে ডমিঙ্গোকেই বেছে নেয় বিসিবি। মূলত ডমিঙ্গোর কোচিং আগ্রহই এগিয়ে রেখেছে তাকে। ঈদের আগে সাক্ষাৎকার দিতে বাংলাদেশে আসেন ডমিঙ্গো। তার সাক্ষাৎকারে বেশ সন্তুষ্ট হন বোর্ড কর্তারা। সাক্ষাৎকারে কোচ জানিয়েছেন, দল নিয়ে তার পরিকল্পনা এবং কিভাবে কাজ করতে চান তিনি। এ ছাড়া ছুটি নিয়েও কোনো শর্ত নেই প্রোটিয়া এই কোচের।
সব সময় ক্রিকেটারদের পাশে থাকার আগ্রহের কারণেই ডমিঙ্গোকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বিসিবি। মনের মতো কোচ পেয়ে প্রশংসায় বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেই ফেললেন, ‘তিনি (ডমিঙ্গো) হচ্ছেন অনেক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন কোচ। কোচিংয়ের প্রতি তার আগ্রহ এবং কোচিং দর্শন দেখে আমরা মুগ্ধ হয়েছি। একটি দলকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে কী কী প্রয়োজন- এসব সম্পর্কে তার পরিষ্কার ধারণা রয়েছে। আমরা দেখেছি বছরে কে সবচেয়ে বেশি সময় ধরে আমাদের সার্ভিস দিতে পারবে। সে হিসেবে এগিয়ে থাকা ডমিঙ্গোকেই বেছে নিয়েছি।’

 


আরো সংবাদ