২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া জয়ের জন্য লড়বে

-

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের পর অ্যাশেজ সিরিজ। দুই বনেদি ক্রিকেট পরাশক্তির লড়াই। এই অ্যাশেজকে ঘিরে যে উত্তেজনা তার কোনো তুলনা নেই। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া এদেরকে ঘিরে কত শত নান্দনিকতা ক্রিকেটকে উজ্জ্বল করেছে তা বলে শেষ করা যাবে না। এবারের অ্যাশেজ টেস্ট সিরিজ ক্রিকেট বিশ্বে আলো ছড়াবে তা বলাই বাহুল্য। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ শিরোপা জিতেছে। ফলে তারাই যে ফেভারিট তা অনেক ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ উচ্চারণ করেছিলেন। কিন্তু প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরে বসে তারা। এরপর সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর দৃপ্ত শপথ নিয়ে ইংল্যান্ড লর্ডস টেস্ট খেলতে নামে। বৃষ্টিবিঘিœত এই টেস্ট নানা নাটকীয়তায় ভরা। অস্ট্রেলিয়া ব্যাকফুটে চলে যায়। ক্রিকেটের অনুপম সৌন্দর্য তার বিদ্যুৎছটা ছড়িয়ে শেষ পর্যন্ত লর্ডস টেস্ট ড্র হয়ে যায়।
সিরিজে এগিয়ে থেকে অস্ট্রেলিয়া আজ তৃতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি। ইংলিশরা লর্ডসে তাদের স্বরূপে ফিরতে পেরে মানসিকভাবে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন। কিন্তু লড়াকু দল হিসেবে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া তাদের ছেড়ে কথা কইবে এমনটি ভাবার কোনো অবকাশ নেই। তবে দলের ব্যাটিং নিয়ে বেশ চিন্তিত অসি থিংক ট্যাংক। কারণ দুই টেস্টেই তারা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে। ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নার তার নিষেধাজ্ঞা পেরিয়ে খেলতে নেমেছেন টেস্ট। কিন্তু নিজের ছন্দ ফিরে পাচ্ছেন না। মারকুটে ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিত ওয়ার্নার দুই টেস্টে শুরুতেই আউট হয়েছেন। এমনকি খাজা উসমান ও ব্যানক্রফটও ব্যর্থ হয়েছেন উইলো নাচন দেখানোর ক্ষেত্রে। শুধু ব্যতিক্রম ছিলেন শাস্তি কাটিয়ে দলে ফেরা সাবেক অধিনায়ক স্টিভ স্মিথ। তিনি প্রথম টেস্টে দুই ইনিংসে দু’টি সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তার কারণে অস্ট্রেলিয়া জয় দিয়ে অ্যাশেজ সিরিজ শুরু করেছে। লর্ডসে ব্যাট করার সময় ইংল্যান্ডের গতিদানব জোকরা আর্চারের আগুন ঝরানো বাউন্সারে ঘাড়ে আঘাত পান। পড়ে যান। পরে ডাক্তারদের সেবায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ব্যাট করেন এবং ৯২ রান করে আউট হয়ে যান। দ্বিতীয় ইনিংসে তার আর ব্যাট করা সম্ভব হয়নি। তবে আইসিসির নতুন নিয়ম অনুযায়ী স্মিথের বদলি হিসেবে ব্যাট করতে নামেন লাবুশান। তার ব্যাটিং অসি শিবিরে স্বস্তি এনে দিয়েছে। তবে তৃতীয় টেস্টে স্মিথ খেলছেন না, যা অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে বড় আঘাত। এতে তাদের শক্তি কমে যাবে। ওয়েড ও অধিনায়ক পেইন আছেন লোয়ার মিডল অর্ডারে। ওয়েড ইতোমধ্যে সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। শেষ দিকে পেসার কামিন্সের ব্যাটিং দলকে নির্ভরতা এনে দেয়।
আক্রমণে আছেন হ্যাজেল উড, কামিন্স ও মিডল। দলের সেরা অস্ত্র মিশেল স্টার্ককে দুই টেস্টে খেলানো হয়নি। তিনি অবশ্য বলেছেন, সতীর্থরা ভালো করছেন। ফলে মাঠের বাইরে থাকতে তার আপত্তি নেই। স্পিন ডিপার্টমেন্টে আছেন নাথান লিয়ন। তার দিনে তিনি হয়ে উঠেন ভয়ঙ্কর হয়ে।
ইংল্যান্ড লর্ডসে চমৎকার নৈপুণ্যে দেখিয়েছে। নতুন অস্ত্র হিসেবে জো রুট পেয়েছেন জোকরা আর্চারকে। তার গতি অসি ব্যাটসম্যানদের প্রতি মুহূর্তে বিপদে ফেলেছে। তার শট পিচ বাউন্সারগুলো সাপের মতো ছোবল হেনেছে। ফলে এই টেস্টেও তিনি হবে ইংল্যান্ডের সেরা অস্ত্র। এ ছাড়া অপর পেসার ব্রড রয়েছেন তার ফর্মের তুঙ্গে। ইংলিশ ব্যাটিংলাইনআপ বেশ লম্বা। তবে শীর্ষ ব্যাটসম্যানরা নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারছেন না। জেসন রয় কিংবা জো রুট নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাওয়ার জন্য লড়ছেন। তবে লর্ডসের নায়ক বেন স্টোকস সেঞ্চুরি করে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তিনি উইলো হাতে হেসে উঠলে যেকোনো বোলার সাধারণ মানে নেমে আসতে বাধ্য। বেয়ারস্টোও রান তোলার ক্ষেত্রে স্বাচ্ছন্দ্য। ফলে ইংল্যান্ড এই টেস্টে ফেভারিট।
হেডেংলিতে এই টেস্ট শুরু হবে বিকেল ৪টায়।

 


আরো সংবাদ