১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯

বিসিবির পরিচালনায় ‘বিপিএল বঙ্গবন্ধু’

বিপিএলে আমূল পরিবর্তন। বিগব্যাশের আদলে ঘরোয়া লিগ। সার্বিক পরিচালনায় বিসিবি। থাকছে না কোনো ফ্রাঞ্চাইজি। নামকরণ হবে ‘বিপিএল বঙ্গবন্ধু’
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স : ফাইল ছবি -

বিপিএল নিয়ে বিরাজ করছিল একটা অনিশ্চয়তা। সাকিবসহ প্রধান কয়জন খেলোয়াড়ের দল বদল করে ফেলা, কারো কারো নতুন নতুন বিদেশী খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে যাওয়া। এরপর বিসিবি কর্তৃক সব ফ্রাঞ্চাইজির সাথে নতুন করে চুক্তি করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়া ছাড়াও এক বছরে দু’টি বিপিএল আয়োজন কতটা যৌক্তিক। এমন সব বিষয় সামনে এসে ভিড় করে। বিপিএল সঠিক সময়ে আদৌ হবে কি নাÑ এ নিয়ে যখন আলোচনা-সমালোচনা তুঙ্গে তখনই বিসিবি সভাপতি দিলেন নতুন এক ঘোষণা। এনসিএলের মতো বিপিএলও এবার বিসিবিই চালাবে। কোনো ফ্রাঞ্চাইজির তত্ত্বাবধানে থাকছে না এবার দল। তবে নামগুলো ঠিক থাকবে। কিন্তু খেলোয়াড়দের ভাতা, যাওয়া-আসাসহ যাবতীয় সব দলের সব খেলোয়াড়ের সব খরচাদি বিসিবিই বহন করবে এবং নতুন করে এ বিপিএল বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করার ঘোষণা দিয়ে এটাকে বিপিএল বঙ্গবন্ধু নামে অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এতে করে দীর্ঘদিন ধরে চলা ফ্রাঞ্চাইজিভিত্তিক চলা বিপিএলে এলো আমূল পরিবর্তন এবং এটা পূর্ব-নির্ধারিত ৬ ডিসেম্বর থেকেই শুরু হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। গতকাল মিরপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান এসব কথা। কেন এমন পরিবর্তন? এর কারণ জানিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘বড় কারণ হচ্ছে, আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী। আমরা চাচ্ছি, এবারের বিপিএল আমরা বঙ্গবন্ধুর নামে উৎসর্গ করব। ‘বঙ্গবন্ধু বিপিএল’ আয়োজন করে এ বছর আমরা (বিসিবি) এটা চালাব।’ বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এবার ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর নতুন চুক্তি হওয়ার কথা। তাদের সাথে আমরা বসেছিলাম। তাতে যে আলোচনা হয়েছে এবং সংবাদমাধ্যমে আমরা যা দেখেছি, সব কিছু থেকে আমি বলতে পারি, কয়েকটি ফ্রাঞ্চাইজির বেশ কিছু দাবি-দাওয়া আছে। ওই দাবিগুলো বিপিএলের অরিজিন্যাল মডিউলের সাথে পুরোপুরিই সাংঘর্ষিক। কোনোভাবেই মানিয়ে নিতে পারছি না।’ তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকটি ফ্রাঞ্চাইজি বলেছে যে, এই বছর দু’টি বিপিএল না হোক, সেটিকেই তারা বেশি উপযুক্ত মনে করেন। খেলবে না, তা নয়। তবে এক বছরে দু’টি খেললে তাদের ওপরে চাপ বেশি পড়ে যায়। সবকিছু মিলিয়ে আমরা ঠিক করেছি, এবারের বিপিএল বিসিবি নিজেরাই চালাবে। এবার আর কোনো ফ্রাঞ্চাইজিকে আমরা দিচ্ছি না।’ তা হলে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক, ইতঃপূর্বে বিশাল বাজেট নিয়ে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো দল গঠন করত। দেশী খেলোয়াড়দের যেমন পারিশ্রমিক দিতেন, তেমনি বিদেশী নামীদামি ক্রিকেটার তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে নিয়ে আসতেন। এ ছাড়াও বড় মাপের কোচও তারা আনতেন প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে। এক কথায় বিশাল বড় এক বাজেটে অনুষ্ঠিত হতো বিপিএল। বিসিবি চালালে এত অর্থ কোথায় পাবেন বা এটা কিভাবে হবে? বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘প্রত্যেকটি দল যা ছিল, নাম ঠিক থাকবে। শুধু সব ব্যবস্থাপনায় বিসিবি। ক্রিকেটারদের থাকা-খাওয়া, টাকা-পয়সা, সব আমরা করব। আমি মনে করি, এতে সবাই খুশি হবেন। যারা এবার করতে চাচ্ছিলেন না, তারা তো অবশ্যই খুশি হবেন। যারা আর্থিক ক্ষতির কথা বলছেন, তারা তো আরো বেশি খুশি হবেন। তাদের পুরো টাকা বেঁচে যাবে। তাইতো আমরা ঠিক করেছি, আমরাই চালাব।’ তিনি বলেন, ‘এটা অনেকটা অস্ট্রেলিয়ার (জনপ্রিয়) বিগব্যাশের কথা চিন্তা করতে পারেন। ওই একই রকম ফরম্যাট।’ বিসিবি সভাপতি প্রতিটা দল যেহেতু পুরনো নামেই থাকছে, তাই এসব দলের ক্ষেত্রে স্পন্সর নিতে অনাপত্তি দিয়েছেন। তিনি বলেন, তবে দলগুলোর নামেই যেহেতু থাকছে, তারা যদি স্পন্সর করতে চায় তাতে আপত্তি নেই। এমনকি দলের স্পন্সরশিপ নিলে বিদেশী কোচ ও বিদেশী ক্রিকেটারও দলের জন্য তারা নিয়ে আসতে পারবেন। তিনি একই সাথে জানান দেন গত বছরের মতো এবারো সেই সাত দলই থাকছে।
আসলে বিসিবি এবার ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর সাথে বসার পর বিভিন্ন দাবি দাওয়া শোনার পর থেকে কিছুটা ক্ষিপ্তও ছিলেন। কারণ বিসিবির পৃষ্ঠপোষকতায় বিপিএল হলেও সেখানে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো যে কিছু দাবি-দাওয়া উপস্থাপন করেছিল সেটা তারা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি। এতেই বিসিবির ক্ষোভের সূচনা এবং বিসিবির নিয়ম মেনে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি যদি পরের আসরেও না আসেÑ তাহলে পরবর্তীতেও বিসিবিই চালাবে বিপিএল বলে জানান দিলেন তারা। আসলে বিপিএলটা ক্রিকেটের স্বার্থেই রাখতে চায় বিসিবি। এখানে ফ্রাঞ্চাইজিরা এটাকে ব্যবসায়ের উপলক্ষ করে ফেলবে এটা হতে দিতে চায় না বিসিবি।
নিয়মনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা সব আইন লিখে বুকলেট ছাপিয়ে দেবো। তার পর সেসব মেনে কেউ যদি আসতে চায় তো আসবে, নইলে আমরাই চালাব।’ তিনি আরো বলেন, ‘একটা কথা মনে রাখবেন, আমরা চাই, বিপিএলে যারা আসবে, তারা দেশের ক্রিকেটের উন্নয়নের জন্য, ক্রিকেটারদের উন্নয়নের জন্য আসবেন। ব্যবসা করার জন্য নয়। এখানে লাভের সুযোগ নেই।’ বিগত সময়ে ফ্রাঞ্চাইজির লাভ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আর্থিক ক্ষতিই যদি হয় ফ্রাঞ্চাইজিগুলোর, ৮০ লাখ টাকার ক্রিকেটারকে ৪ কোটি টাকা দিয়ে নিত না। ক্ষতি হলে নিশ্চয়ই এত টাকা দিয়ে নিত না। অবশ্যই লাভ করে, আরো লাভ করতে চায়?’ বিসিবির এমন সিদ্ধান্ত বিপিএলের ভবিষ্যৎ অন্ধকারের পথে কি-না এমন এক প্রশ্নের অবতারণা হলে তিনি বলেন, ‘অন্ধকার কেন। আমরা চালাব! কী অন্ধকার। বিসিবি চালাতে পারে না? অন্ধকার কিভাবে দেখছেন। আমি তো দেখছি না।’
বিসিবির সব প্রস্তাবনা মেনে ফ্রাঞ্চাইজিগুলো যদি রাজি হয়? পাপন বলেন, ‘এগুলো সব শেষ। আর কোনো সুযোগ নেই। এখন সবাইকে নিয়মের মধ্যে আসতে হবে।’

 


আরো সংবাদ