২০ নভেম্বর ২০১৯

গেমস টিটির ক্যাম্পে ফের পুলিশ ফেঁসে যেতে পারেন মাহবুব বিল্লাহ

-

ডিসিপ্লিন ভঙ্গের দায়ে ফেঁসে যেতে পারেন ছয়বারের জাতীয় টেবিল টেনিস (টিটি) চ্যাম্পিয়ন খন্দকার মাহবুব বিল্লাহ। আগামী কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় এজেন্ডা হিসেবে তার বিষয়টি থাকবে। ডিসিপ্লিন ভঙ্গ, সতীর্থদের উসকানি, খেলোয়াড়দের অশোভন উক্তি এবং আবাসিক ক্যাম্পে বিশৃঙ্খলা তৈরির দায়ে বাদ পড়তে পারেন গেমস টিটির ক্যাম্প থেকে।
বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের নিয়মানুযায়ী যারা দুই বেলা ক্যাম্প করতে পারবে তারাই এসএ গেমসের ক্যাম্পে থাকবে। মৌমিতা আলম রুমি এবং সালেহা সেতু সেটি ফুলফিল করতে পারেননি বিধায় বাদ পড়েছেন তারা। তাতেই চটেছেন রুমির স্বামি মাহবুব বিল্লাহ। ফেডারেশনের বিরুদ্ধে নড়াইলে গিয়ে খুদে টিটি খেলোয়াড় এবং সিনিয়র কয়েকজনকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মাহবুব ও রুমি। তা ছাড়া ক্যাম্পে থাকা মৌ (এসএসসি পরিক্ষার্থী) এর সাথে তার মা থাকেন। মাহবুব তাতেও বাগড়া দেন। এসব বিষয়ে ফেডারেশন গত ১৯ অক্টোবর শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে মাহবুবকে সতর্ক করে একটি নোটিশ দেয়। যেটিকে মাহবুব লাভ লেটার বলে উল্লেখ করে বলেন গেমসে তো তারা পদকের জন্য যাবে না, সেখানে তারা যাবে পিকনিক করতে।
পরদিনই মাহবুব বিল্লাহ প্র্যাকটিসের জায়গায় পানি ঢেলে রাখেন যাতে কেউ অনুশীলন করতে না পারেন। ছয়বারের জাতীয় চ্যাম্পিয়নের এমন ঘটনায় বিরক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হয় ফেডারেশন। পল্টন থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা এসে বিষয়টিকে স্বাভাবিক করে দিয়ে যান এবং মাহবুব তার কৃতকর্মের জন্য ক্ষমা চান।
ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, ‘এক্সিকিউটিভ বডির সভায় বিষয়টি উত্থাপিত হবে। তারা যে সিদ্ধান্ত নেন সেটিই হবে। ক্যাম্প থেকে মাহবুব বাদও পড়তে পারেন আবার ভালো রেজাল্টের জন্য থাকতেও পারেন। তাকে অনেকবার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এবার শেষ সুযোগ। ক্যাম্পের অন্যান্য খেলোয়াড় জাভেদ, পরাগ ও হৃদয় এসে ক্ষমা চেয়েছে। বলেছে আর এমনটি হবে না। দেখি তাদের কথার উপর কতটা বিশ্বাস রাখা যায়।’
ক্যাম্প কমান্ডার সামসুল আলম আনুর মতে, ‘বর্তমানে যে দলটি আছে তাদের মাঝে কেউ বাদ পড়লে ক্যাম্পে বিন্দুমাত্র শক্তির ঘাটতি হবে না।’
মাহবুব বিল্লাহ ম্যাটে পানি ঢালার বিষয়ে বলেন, ‘আমি আগেও ম্যাট পরিষ্কার করেছি, তখন কেউ কিছু বলেনি। যেহেতু আমরা নিজেরাই খেলি সেহেতু নিজের মতো করে পরিষ্কার করি। হয়তো পানি একটু বেশি পড়েছে। তাতেই সবাই বিপক্ষে বলছে। আমার কোনো গেস্ট এলে সবার অসুবিধা হয়। যখন মৌয়ের আম্মু থাকে তখন তো কিছু হয় না। তা ছাড়া তাদের সবার আমার রুমটিই কেন দরকার হবে। আমার বিপক্ষে গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। বিওএর দুই বেলা নিয়মে যদি রুমি ও সালেহা বাদ পড়ে তাহলে ব্যাডমিন্টনে এলিনা এক বেলা অনুশীলন করে কিভাবে টিকে আছে। মূলত টিটি ফেডারেশনই চায়নি ওরা খেলুক।’

 


আরো সংবাদ