১৭ নভেম্বর ২০১৯

যে ১১ দাবিতে বিস্ফোরণ ক্রিকেটে

-

আন্দোলনের দানা বেঁধে উঠছিল বেশ কিছু দিন ধরেই। বিশেষ করে বিপিএলে ফ্রাঞ্চাইজি প্রথা বাতিল করে সেখানে সরাসরি বিসিবির তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠানের বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের হঠাৎ ঘোষণার পর থেকে ক্রিকেটারদের মধ্যে জমে থাকা পুঞ্জীভূত ক্ষোভ বেড়ে যায়। সে থেকেই একে-অপরের মধ্যে চলে আলোচনা। সেটারই বিস্ফোরণ ঘটল গতকাল মিরপুর শেরেবাংলায় ১১ দফা দাবির মধ্যে দিয়ে। দাবি না মানা পর্যন্ত ক্রিকেটারেরা আর খেলবেন না কোনো ক্রিকেট। সেটা ঘরোয়া কিংবা আন্তর্জাতিক। এতে হুমকির মধ্যে পড়ে গেল আসন্ন ভারত সফর।
খেলোয়ার কল্যাণ সমিতি নয়। সাধারণ ক্রিকেটারেরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সাকিব, মুশফিক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, নাঈম ইসলাম, এনামুল হক জুনিয়র প্রমুখ সিনিয়র ক্রিকেটারদের নেতৃত্বে ১১ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। আর ওই যৌক্তিক দাবি না মেনে নেয়া পর্যন্ত তারা কোনো ধরনের ক্রিকেট না খেলার অঙ্গীকার করেন। তবে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের যেহেতু সামনে বিশ্বকাপ। তাই তাদের এর আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। তবে বিভিন্ন ক্রিকেটার এক এক করে দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। সর্বশেষ জাতীয় দলের টেস্ট ও টি-২০ ক্রিকেটের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ঘোষণা দেন ধর্মঘটের। এ সময় সাকিব, মুশফিকুর রহীমসহ সব সিনিয়র ক্রিকেটার তাদের দাবিগুলো উপস্থাপন করেন। এবং এর যৌক্তিক ব্যাখ্যাও দেন। শুধু ক্রিকেটারই নন, ক্রিকেটের সাথে সংশ্লিষ্ট গ্রাউন্ডসম্যান থেকে শুরু করে স্থানীয় কোচসহ সবার বেতন বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়। একই সাথে ক্রিকেটে বিরাজমান দুর্নীতি মুক্ত করার দাবি তোলেন তারা। কারণ প্রথম বিভাগ, দ্বিতীয় বিভাগসহ প্রিমিয়ার ক্রিকেটেও রয়েছে বোর্ডের কর্মকর্তাদের পছন্দের দল এবং সেখানে আছে স্বেচ্ছাচারিতা। যার মাধ্যমে যোগ্য কোনো দলকে হারিয়ে দেয়া হয়। অযোগ্যকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহার করে লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়া হয়। এসব ক্রিকেটের প্রসারে বড় বাধা উল্লেখ করে এ আচরণ ও দুর্নীতি দূর করার দাবি করেন তারা।
ক্রিকেটারদের দাবিগুলো হচ্ছে :
১. ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াবের) বর্তমান কমিটিকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে। ক্রিকেটারদের সরাসরি ভোটে ঠিক করা হবে নতুন সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক তথা কমিটি।
২. ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের দলবদলের নিয়ম আগের মতো করতে হবে। যে যার পছন্দমতো দলে যাবে।
৩. এ বছর না হোক, তবে পরের বছর থেকে আগের মতো (ফ্রাঞ্চাইজি পদ্ধতিতে) বিপিএল আয়োজন করতে হবে। স্থানীয় ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বৃদ্ধি করতে হবে।
৪. প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ম্যাচ ফি এক লাখ করতে হবে। চুক্তিভুক্ত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটারদের বেতন ৫০ শতাংশ বাড়াতে হবে। ১২ মাস কোচ-ফিজিও দিতে হবে, প্রতি বিভাগে অনুশীলনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৫. আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যে বল দিয়ে খেলা হয়, ঘরোয়া লিগে সেই বল ব্যবহার করতে হবে। দৈনিক ভাতা ১৫০০ টাকায় কিছু হয় না, তা বাড়াতে হবে। এক ভেনু থেকে আরেক ভেনুতে যাওয়ার জন্য যাতায়াত ভাড়া মাত্র ২৫০০ টাকা। তা বাড়াতে হবে অথবা প্লেন ভাড়া দিতে হবে। হোটেল ভালো হতে হবে, জিম ও সুইমিংপুল সুবিধা থাকতে হবে।
৬. জাতীয় দলে চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারের সংখ্যা অন্তত ৩০ করতে হবে ও বেতন বাড়াতে হবে।
৭. দেশী সব স্টাফদের বেতন বাড়াতে হবে। কোচ থেকে শুরু করে গ্রাউন্ডস স্টাফ, আম্পায়ার সবার বেতন বাড়াতে হবে।
৮. জাতীয় লিগের পর আগে একটি ওয়ানডে লিগ হতো, সেটি ফিরিয়ে আনতে হবে। বিপিএলের আগে আরেকটি টি-২০ টুর্নামেন্ট দিতে হবে।
৯. ঘরোয়া ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত হতে হবে।
১০. ডিপিএলের (ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ) পাওনা টাকা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দিতে হবে।
১১. বিদেশে ফ্রাঞ্চাইজি লিগ দু’টির বেশি খেলা যাবে না, এমন নিয়ম তুলে দিতে হবে। সুযোগ থাকলে সবাই খেলবে।
উল্লেখ্য, ক্রিকেটারদের এ দাবি উপস্থাপনের সময়ে প্রায় ৬০ জনের মতো ক্রিকেটার উপস্থিত ছিলেন, যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পক্ষে।


আরো সংবাদ