১৫ নভেম্বর ২০১৯

মালান-মরগানে বিশ্বরেকর্ড

-

নেপিয়ারে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে তৃতীয় উইকেট জুটিতে মাত্র ৭৬ বল মোকাবেলা করে ১৮২ রান করেন ইংল্যান্ডের ডেভিড মালান ও অধিনায়ক ইয়োইন মরগান। যার মাধ্যমে টি-২০ ক্রিকেটে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন তারা। মালান অপরাজিত ১০৩ ও মরগান ৯১ রান করেন। তাদের দু’জনের ব্যাটিং তাণ্ডবে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৭৬ রানে হারালো ইংল্যান্ড। এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা আনল ইংলিশরা। জয় দিয়ে সিরিজ শুরু করেছিল ইংল্যান্ড। তবে পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজে লিড নিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। নেপিয়ারে সিরিজ বাঁচানোর মিশনে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। শুরুটা ভালো হয়নি তাদের। দলীয় ১৬ রানে প্রথম প্যাভিলিয়নে ফিরেন ওপেনার জনি বেয়ারস্টো। ৮ রান করেন তিনি। তবে অন্য ওপেনার টম বান্টন বড় ইনিংস খেলার চেষ্টা করেছেন। তবে ২০ বলে ৩১ রানে থেমে যান তিনি। দলীয় ৫৮ রানে ২ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। এরপর অষ্টম ওভারের তৃতীয় বলে জুটি বাঁধেন মালান-মরগান। ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন তারা। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ফোটান মালান-মরগান দু’জনই। ৩১তম বলে হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন মালান। তবে মাত্র ২১ বলে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ নেন মরগান। টি-২০ ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের পক্ষে দ্রুত হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডের মালিক হন মরগান। ইংল্যান্ডের পক্ষে ২২ বলে দ্রুত হাফ সেঞ্চুরি করেছিলেন জশ বাটলার। মালান-মরগানের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৬ ওভার শেষে ২ উইকেটে ১৬৫ রানে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড। এমন অবস্থায় শেষ ৪ ওভারে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য ছিল অন্তত ২০০ রানের সংগ্রহ দাঁড় করানো। কিন্তু শেষ ৪ ওভারে আরো বেশি ভয়ঙ্কর রূপ নেন মালান-মরগান। শেষ ৪ ওভারে ৭৬ রান তুলে ইংল্যান্ড; যা টি-২০ ক্রিকেটে যেকোনো দলের সর্বোচ্চ রান। ১৮তম ওভারের শেষ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মালান। নিউজিল্যান্ডের পেসার ট্রেন্ট বোল্টকে ছক্কা মেরে ৪৮তম বলে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তিনি। ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টি-২০ ম্যাচে সেঞ্চুরির দেখা পান মালান। ইংলিশদের হয়ে এই ফরম্যাটে প্রথম সেঞ্চুরি করেছিলেন অ্যালেক্স হেলস, ২০১৪ সালে।
মালানের সেঞ্চুরির পর শেষ ওভারের চতুর্থ বলে মরগান আউট হন। ৭টি করে চার-ছক্কায় ৪১ বলে ৯১ রান করেন তিনি। টি-২০ ক্রিকেটে এটি সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান মরগানের। তৃতীয় উইকেটে মালান-মরগান ৭৬ বল মোকাবেলা করে ১৮২ রানের জুটি গড়েন। টি-২০ ক্রিকেটে তৃতীয় উইকেটে সর্বোচ্চ রানের বিশ্বরেকর্ড গড়েন তারা। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৪১ রানের বিশাল সংগ্রহ পায় ইংল্যান্ড; যা টি-২০ ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ইংলিশদের আগের সর্বোচ্চ দলীয় রান ছিল ১৯ দশমিক ৪ ওভারে ৮ উইকেটে ২৩০। ২০১৬ সালে মুম্বাইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওই স্কোর করেছিলো ইংল্যান্ড। সেঞ্চুরি তুলে ১০৩ রানে অপরাজিত থাকেন মালান। তার ৫১ বলের ইনিংসে ৯টি চার ও ৬টি ছক্কা ছিল। বল হাতে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে স্পিনার মিচেল স্যান্টনার ৩২ রানে ২ উইকেট নেন। জয়ের জন্য ২৪২ রানের লক্ষ্যে মারমুখী মেজাজে শুরু করে নিউজিল্যান্ডের দুই ওপেনার মার্টিন গাপটিল ও কলিন মুনরো। ২৭ বলে ৫৪ রান তুলে ফেলেন তারা। কিন্তু এর পরই ছন্দপতন ঘটে নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং লাইনআপে। গাপটিল-মুনরোর দেখানো পথে হাঁটতে পারেননি দলের পরের দিকের ব্যাটসম্যানরা। দলীয় ৮৯ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ হারের পথ দেখে ফেলে নিউজিল্যান্ড। শেষ দিকে অধিনায়ক টিম সাউদির ৪টি ছক্কা ও ২টি চারে ১৬ বলে ৩৯ রান করে দলের হারের ব্যবধান কমিয়েছে। এ ছাড়া মুনরো ২১ বলে ৩০, গাপটিল ১৪ বলে ২৭ ও রস টেইলর ১৪ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ১৯ বল বাকি থাকতে ১৬৫ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। ইংল্যান্ডের লেগ-স্পিনার ম্যাট পারকিনসন ৪৭ রানে ৪ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন ইংল্যান্ডের মালান।
অকল্যান্ডে আগামী ১০ নভেম্বর সিরিজের পঞ্চম ও শেষ টি-২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :
ইংল্যান্ড : ২৪১/৩, ২০ ওভার (মালান ১০৩*, মরগান ৯১, স্যান্টনার ২/৩২)।
নিউজিল্যান্ড : ১৬৫/১০, ১৬.৫ ওভার (সাউদি ৩৯, মুনরো ৩০, পারকিনসন ৪/৪৭)।
ফল : ইংল্যান্ড ৭৬ রানে জয়ী।
ম্যাচ সেরা : ডেভিড মালান (ইংল্যান্ড)।
সিরিজ : পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ২-২ সমতা।


আরো সংবাদ