০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

এবার যুব ফুটবলে ভুটানের কাছে হার

ভুটান ২ : ১ বাংলাদেশ
-

২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর। বাংলাদেশের ফুটবলে চরম হতাশা আর লজ্জার দিন। সে দিন থিম্পুর চাংলিমিথান স্টেডিয়ামে ভুটান ৩-১ গোলে হারায় টম সেইন্ট ফিটের বাংলাদেশ দলকে। সে ধাক্কা এখনো বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। ওই ক্ষত শুকাতে না শুকাতে আবার ভুটানের কাছে ধারাশায়ী লাল-সবুজরা। এবার হারের লজ্জা এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ যুব ফুটবলে। গত পরশু বাহরাইনের মানামায় প্রথমার্ধে লিড নিয়েও পাহাড়ি দেশটির কাছে ১-২ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়ে এএফসির এই যুব ফুটবলে ‘ই’ গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে ভুটান। অন্য দিকে কোনো ম্যাচে জয়ের দেখা না পেয়ে অ্যান্ড্রু পিটার টার্নারের দল হয়েছে চার দলের মধ্যে চতুর্থ। এই গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে আগামী বছর উজবেকিস্তানে অনুষ্ঠিতব্য চূড়ান্ত পর্বে খেলার ছাড়পত্র পেয়েছে স্বাগতিক বাহরাইন। গত পরশু গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা ১-১ গোলে ড্র করে জর্দানের সাথে। বাহরাইন ছাড়াও চূড়ান্ত পর্বে উঠেছে কাতার, ইরান, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও তাজিকিস্তান। অন্য দলগুলো চূড়ান্ত হবে নভেম্বরের মধ্যে।
যে দল আগের ম্যাচে শক্তিশালী জর্দানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও ১-১ গোলে ড্র করে তাদের পক্ষে ভুটানের মতো দুর্বল দলের কাছে হারটা অবিশ^াস্য। যেখানে গত ২৭ সেপ্টেম্বর অনূর্ধ্ব-১৮ পুরুষ সাফের সেমিফাইনালে বাংলাদেশ ৪-০তে বিধ্বস্ত করেছিল ভুটানিদের। দেড় মাসের ব্যবধানে সেই ভুটান এতটাই ব্যতিক্রম হয়ে গেল? এবারের এএফসি অনূর্ধ্ব-১৯ ফুটবলের আগের দুই ম্যাচে ভুটান ০-৩ গোলে জর্দান এবং ০-৪ গোলে পরাজিত হয় বাহরাইনের কাছে। তারাই এই প্রথম যুব ফুটবলে জয় পেল বাংলাদেশের বিপক্ষে। অবশ্য ২০১৫ সালে ঢাকার মাঠে এই এএফসির টুর্নামেন্টে তারা ১-১ গোলে ড্র করেছিল সাইফুল বারী টিটুর দলের সাথে।
মানামায় বাংলাদেশ ১৮ মিনিটে অধিনায়ক ইয়াসিন আরাফাতের গোলে এগিয়ে যায়। ৬৫ মিনিটে ভুটান সমতা আনার পর ৯২ মিনিটে করে স্মরণীয় গোল। অনূর্ধ্ব-১৮-১৯ দল এই নিয়ে চার ম্যাচে শেষ সময়ে এসে গোল হজম করল। ম্যানেজার আমের খানের মতে, এই উঠতি ফুটবলারদের শেষ দিকে খেলাটা ধরে রাখার মানসিকতার বেশ অভাব। বাহরাইনের বিপক্ষে তারা দ্বিতীয় এবং তৃতীয় গোল হজম করেছে ৯০ ও ৯৬ মিনিটে। জর্দানের বিপক্ষে প্রথমার্ধের শেষ দিকে গোল খাওয়া। এর সর্বশেষ উদহারণ ভুটানের কাছে ৯২ মিনিটে গোলে খেয়ে হারের লজ্জা। এর আগে গত অনূর্ধ্ব-১৮ সাফের ফাইনালে বাংলাদেশ শেষ সময়ে গোল হজম করে হেরে যায় ভারতের কাছে।
আমেরের মতে, ‘বাহরাইনের বিপক্ষে ভালো খেলা আর জর্দানকে ঠেকিয়ে দেয়ার পর লাল সবুজ ফুটবলারদের মধ্যে অতি আত্মবিশ^াস চলে আসে চলে আসে। তারা ভুটানকে পাত্তাই দিচ্ছিল না। সাথে যোগ হয়েছে গোল মিসের মহড়া।’ জানান, এই ম্যাচে চার গোলের ব্যবধানে জিতলে রানার্সআপ হওয়া যাবে। এই লক্ষ্যে তারা চড়াও হয়ে খেলতে গিয়ে একের পর এর গোল মিস করতে থাকে। মিরাজ, ফাহিম এবং বাপ্পীদের একেক জনেরই তিন গোল করে হওয়ার কথা। সেখানে তারা কোনো গোলই পায়নি। এই মিসের হতাশাই পরে জেঁকে বসে।’ যোগ করেন, ‘এর মধ্যে ভুটান দ্বিতীয়ার্ধে সমতা আনার পর ছন্দ পতন বাংলাদেশী ফুটবলারদের মধ্যে। জয়সূচক গোল করতে গিয়ে পারলেতো গোলরক্ষকসহই উপরে উঠে যায়। তখন রক্ষণভাগ যে পোক্ত রাখতে হবে সে খেয়াল নেই। এভাবে হারের উপক্রম হয়েছিল জর্দানের বিপক্ষেও। যদিও সেদিন রক্ষা হয়েছিল।’ তার পরামর্শ, এখন এই নিয়েও কাজ করতে হবে। ভুটান কিন্তু কোনো ম্যাচেই শেষ দিকে গোল খায়নি।
আমেরের মতে, দলের ২৩ ফুটবলারকে স্কোয়াডে রেখে কি লাভ। যদি ঘুরে ফিরে ১৩-১৪ জনকেই খেলাতে হয় প্রতি ম্যাচে। এমনকি ইনজুরড ফুটবলারকের মাঠে নামাতে হয়েছিল।

 

 


আরো সংবাদ