১০ ডিসেম্বর ২০১৯

বেদনায় নীল বাংলাদেশ

আশা জাগিয়েও হার : দীপক চাহারের হ্যাটট্রিক
-

জয়ের সম্ভাবনায় থেকেও এমন হারে বেদনায় নীল বাংলাদেশ! নিশ্চিত সিরিজ জয়ের ম্যাচ এভাবে হাতছাড়া হয়ে যাবে কল্পনাতেও আসেনি। মোহাম্মদ নাইম ও মোহাম্মদ মিথুনের দুর্দান্ত পার্টনারশিপে গোটা ভারত যখন স্তব্ধ! নতুন এক ইতিহাসের দ্বারপ্রান্তে যখন বাংলাদেশ। অনেক প্রশ্নের উত্তর দেয়া হয়ে যেত এই জয়ে। সে জয় এভাবে ছুড়ে ফেলে দেয়া অনেক কষ্টদায়ক। ভারত শক্তিশালী, নিজ মাঠে তো কথাই নেই। ক’টি দেশ ভারত থেকে টি-২০ সিরিজ জিতেছে সে পরিসংখ্যানও দেখা হচ্ছিল যখন ঠিক সে মুহূর্তে সব ওলটপালট। ধারাবাহিক হারলে কষ্টটাও হতো না; কিন্তু নির্ঘাত জয়ের অবস্থানে থেকে হেরে যেতে হবে? ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। তাই বলে শুধু বাংলাদেশের বেলায়ই বেশির ভাগ সময় প্রযোজ্য হবে সেটিও তো ঠিক নয়। ক্রিকেট ১১ জনের খেলা। শর্টার ভার্সনে ভালো করতে হলেও অন্তত চার-পাঁচজনকে জ্বলে উঠতে হবে। বাংলাদেশ সেটি কি পেরেছে? ব্যাট হাতে রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান আউট হওয়ার পর ভেবেছিল তারা, এ খেলা দেখা অনর্থক! কিন্তু লোকেশ রাহুল (৩৫ বলে ৫২), শ্রেয়াস আইয়ার (৩৩ বলে ৬২) এদের নাম তো অনেকে আগেই শোনেনি। এ দু’য়ের সাথে মনিষ পান্ডের সময়োপযোগী ১৩ বলে করা ২২ রান ভারতকে চ্যালেঞ্জিং পর্যায়ে নিয়ে গেছে। ১৭৪ যে খুব বেশি তা নয়। টি-২০ ক্রিকেটে এ স্কোর চেজ করে জিততে না পারলে তাদের ভালো কিছু চিন্তা করা বোধ হয় উচিতও নয়। ভারত কিন্তু এটাই নিয়েই ডিফেন্স করল। সূচনায় লিটন দাস ও সৌম্যকে হারানোর পরও নবাগত মোহাম্মাদ নাইম ও এ ম্যাচে চান্স পাওয়া মিথুন ১২ থেকে ১১০-এ নিয়ে যান দলীয় স্কোর। বাকি ছিল আরো ৬৫ রান। ৮ ওভারে। এ রানটুকুও কি বাকি সাত ব্যাটসম্যান পারবে না? এর মধ্যে নাইমও ছিলেন। সত্যিই পারল না। অবাক বিস্ময়ের ঘোর যেন কাটছিল না। যে নাইম, মিথুনরা ভারতের বোলারদের সাধারণ মানে নামিয়ে এনেছিলেন। একেকটা বল আছড়ে ফেলেছিলেন সীমানার ওপারে। হাসফাস করছিল যখন ভারতীয় খেলোয়াড়রা। সেই বোলারদের শ্রেষ্ঠত্বের আসনে বসিয়ে দিলেন বাকিরা। কী বিস্ময়ের ব্যাপার। অথচ উইকেটটা ব্যাটিং সহায়ক এবং ফিল্ডিংয়ে যখন ভারতীয়রা, তখন তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ফিল্ডিংও করতে পারছিলেন না শিশিরের কারণে। মুশফিক, মাহমুদউল্লাহ, আফিফ, আমিনুল ইসলামরা এতটাই ব্যর্থ হবেন, জানলে নাইম বোধ হয় আরেকটু সতর্কতার সাথেই খেলতেন!
ভারতের কথাই বলা হচ্ছিল। তিন ব্যাটসম্যানের দায়িত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ের পর দুর্ভোগের মুহূর্তে আবার বোলাররা হাল ধরেছেন। দীপক চাহার, শিবম দুবে ও চাহাল। দীপক চাহার যা করেছেন, সেটি তো রেকর্ডও। ৬ উইকেট নিয়েছেন, সাত রানে। টি-২০ ক্রিকেটে এর চেয়ে দুর্দান্ত নৈপুণ্য আর কী হতে পারে! হেরে যাওয়া লজ্জার নয়। কিন্তু এভাবে উইকেট বিতরণ করে হেরে যাওয়া। চাহার শেষ উইকেট নিয়ে জয়ের আনন্দ, হ্যাটট্রিকের সব কিছুরই উদযাপন করেন মুহূর্তে। শফিউলকে তার তৃতীয় ওভারের শেষ বলে আউট করে নিজের শেষ ও ইনিংসেরও শেষ ওভারের প্রথম দুই বলে মুস্তাফিজুর ও আমিনুল বিপ্লবকে আউট করে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ যে ব্যাটিংয়ে চরম ব্যর্থ ও অক্ষম সে লজ্জায়ও ফেলে দিলো। গোটা ইনিংসের দিকে তাকালে দেখা যাবে নাইম ও মিথুন ছাড়া আর একজন ব্যাটসম্যানও ডাবল ফিগারে যেতে পারেনি। এমন যোগ্যতা নিয়ে ভারত জয় করার চিন্তা করা বোকামি। কেন বাংলাদেশের র্যাংকিং ৯-এ সেটিও এ ম্যাচে প্রমাণিত।
এর আগে ভারতের হায়দরাবাদে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি তিন ম্যাচের টি-২০ সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। সেখানেও ছিল ব্যাটসম্যানদের সীমাহীন ব্যর্থতা। প্রথম ম্যাচে আফগানদের ১৬৭ এর জবাবে, ১২২/১০ বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশের ১৩৪/৮ রানের জবাবে আফগানদের ৬ উইকেটে জয়। এবং শেষ ম্যাচে আফগানদের ১৪৫ এর জবাবে ১৪৪/৬ বাংলাদেশ। অর্থাৎ টার্গেট ১৫০-এর উপরে গেলেই এলোমেলো সব। এভাবে টি-২০ হয় না। যেভানে নর্মাল ম্যাচের স্কোর ২০০-এর কাছাকাছি। আফগানরাও নিয়মিত তাই করে থাকেন বিধায় বাংলাদেশের চেয়ে র্যাংকিংয়ে তারা উপরে। শেষ ম্যাচের আগে হেড কোচ রাসেল ডোমিঙ্গ বলেছিলেন, আমাদের বিগ হিটার নেই, যা ইংল্যান্ডসহ অন্য দেশের আছে। আপাতত এটাই বড় সমস্যা। কারণ এ ফরম্যাট তো আসলে চার ছক্কারই।

 


আরো সংবাদ