১২ ডিসেম্বর ২০১৯

প্রাপ্তিতে বড় নাম নাইম

-

মোহাম্মদ নাইম। বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের ক্রান্তিলগ্নের এক সৈনিক! তামিম ইকবাল অনেকটা একাই চলছেন ওই পথে। তার সাথে অনেককেই পার্টনার করা হলেও সমাধান নেই। সৌম্য সরকার। লিটন দাস। এ ছাড়াও অনেককেই পরখ করা হয়েছে। ভারত সিরিজে নামের প্রতি সুবিচার করেছেন এ তরুণ। যে পারফরম্যান্স করেছেন, তাতে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের দুশ্চিন্তার কালো মেঘ কেটে গিয়ে আলো দেখার মতোই। তিন ম্যাচেই ছিলেন দায়িত্বপূর্ণ। দিল্লিতে জয়ী ম্যাচে করেছিলেন ২৬। লিটন ৮ রান করে আউট হলেও তিনি আউট হন ৫৪ তে। রাজকোটে করেছেন ৩৬। ওই ম্যাচে লিটনের সাথে ওপেনিং জুটিতে আসে ৬০ রান। লিটন ওই সময় আউট হলেও নাইম দলীয় ৮৩ তে আউট। এরপর শেষ ম্যাচের কথা তো সবারই মনে থাকার কথা। লিটন ও সৌম্য ১২ রানে পরপর আউট হয়ে যাওয়ার পর ওই নাইম মিথুনকে নিয়ে দলীয় রান নিয়ে যান ১১০ এ। ১২৬ এ আউট হন তিনি ১৭৫ রানের টার্গেটে। এরপরও ম্যাচে হার। নাইম করেছিলেন ৮১ রান ৪৮ বলে। দুই ছক্কা ও ১০ চারের সাহায্যে। তিন ম্যাচের সিরিজে নাইমই সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ১৪৩ করেছেন তিনি। তার পরে রয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। তার রান ১০৮। রোহিত শর্মা ৯৬। অন্য দিকে বল হাতে সর্বাধিক ৮ উইকেট নিয়েছেন দিপক চাহার। ওই ম্যাচে ৬ ছাড়া বাকি দুই ম্যাচে নেন একটি করে। তার পরে অন্যরা রয়েছেন ৪ উইকেট করে নিয়ে। কিন্তু শেষ ম্যাচে চাহার ম্যান অব দ্য ম্যাচ ঠিক আছে। কিন্তু ম্যান অব দ্য সিরিজও চাহার হন কিভাবে? নির্ঘাত নাইমের কৃতিত্বটা ম্লান করে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। সিরিজ সেরা নিশ্চিন্তেই পাওয়ার কথা মোহাম্মদ নাইমের। বিশেষ করে ১৭৫ এর টার্গেটে সূচনায় দুই উইকেট হারানোর পরও যে দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচটা বাংলাদেশের হাতে রেখেছিলেন। তবু আফসোস ম্যাচ হাতছাড়াতেই সবার। কিন্তু ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার যে ছিনতাই হয়ে গেছে।
ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ অধিনায়ক যে প্রাপ্তিগুলো দেখছেন তার মধ্যে মোহাম্মদ নাইমও রয়েছেন। কারণ এ সিরিজ নাইমের ক্যারিয়ারের প্রথম কোনো সিরিজ। তিনি বলেন, ‘আসলে সে অনেক পরিশ্রম করেছে। এবং দুর্দান্তও খেলেছে। কিন্তু সেটা দলের জন্য কোনো কাজে এলো না। সব ম্লান, জিততে না পারায়। তিনি বলেন, ‘খুবই দৃষ্টিনন্দন ছিল ওর ইনিংসটা। আমার খারাপ লাগছে ও এত সুন্দর একটা ইনিংস খেলেছে, আমরা ফিনিশ করতে পারিনি। মিডল অর্ডারদের ব্যর্থতা ছিল। এই কারণে আমার হতাশাটা আরো বেশি। সুন্দর একটা ইনিংস খেলেছে, খুব ভালো ব্যাটিং করেছে। ওর জন্য হলেও আমরা যদি ভালো করে শেষ করতে পারতাম তাহলে অনেক কৃতিত্ব পেত নাইম।’
তবে এটা ঠিক, ক্যারিয়ারটা সবে শুরু। যে ব্যাটিং সে এ সিরিজে করেছে। তাতে দেখা গেছে অনেক আত্মবিশ^াস। প্রতিটা ম্যাচেই খেলেছে সে আত্মবিশ^াস নিয়ে ঠাণ্ডা মাথায়। এটাই তাকে অনেক দূরে নিয়ে যাওয়ার হাতছানি দিচ্ছে। যে শটসগুলো খেলেছে, সেটাও দৃষ্টিনন্দন। ভারতীয় বোলাররা বিস্ময়ের চোখেই দেখেছেন! নাইমের আত্মবিশ^াস আরো বেড়ে গেলে বাংলাদেশের ওপেনিংয়ের দুর্বলতা পুষিয়ে দেবে এ প্রত্যাশা এখন সবার।

 


আরো সংবাদ