১২ ডিসেম্বর ২০১৯

হতাশাজনক ব্যাটিং

সামীর বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যাচ্ছেন মুশফিকুর রহীম : এএফপি -

ব্যাটসম্যানরা লজ্জায় ফেলে দিলো বাংলাদেশকে। যে দল টসে জিতে কঠিন কন্ডিশন জেনেও ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তাদের ব্যাটিংয়ে আস্থা আছে বলেই বিবেচ্য। কিন্তু মুমিনুল-মুশফিকদের এ ম্যাচ ঘটল উল্টো। বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটে চার দিনের ম্যাচ খেলে প্রস্তুত হয়ে যাওয়া দলটির ব্যাটিংলাইনে যে আস্থাহীনতা, সেটাই ফুটে উঠেছে। ১৫০ রানে অলআউট এটা হতেই পারে, যেকোনো দলের ক্ষেত্রে। কিন্তু বাংলাদেশের এমন চিত্র তো নতুন নয়। সর্বশেষ, জহুর আহমেদে আফগানিস্তানের বিপক্ষেও দ্বিতীয় ইনিংসে চরম ব্যর্থতা ছিল ব্যাটিংয়ে। যে উইকেটে আফগানরা করল প্রথম ইনিংসে ৩৪২, সেখানে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে করে ২০৫ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে আফগানরা ২৬০ করার পর বাংলদেশ বৃষ্টিবিঘিœত ম্যাচে ১৭৩ এ অলআউট হয়ে হেরে যায়। ওই ম্যাচে ড্র করারও সুযোগ ছিল। ক্রিজে টিকে থাকলেও হতো। কিন্তু সেটা হয়নি। সে ব্যাটিং লাইনটাই ইন্দোরে করল অমন পারফরম্যান্স। ফলে এখানে লজ্জার নয় বরং ধারাবাহিকতায়ই থাকল তারা ব্যর্থতার। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ খুব কমই এমন ব্যর্থ হয়েছে। সর্বশেষ ভারত সফরেও বেশ ভালো ব্যাটিং করে গেছেন তারা। ভারতের করা প্রথম ইনিংসে ৬৬৭/৬ ডিক্লেয়ারের জবাবে ৩৮৮ রান করেছিল বাংলাদেশ মুশফিকুর রহীমের অসাধারণ ১২৭ রানের ইনিংসে ভর করে। ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরি দু’টি। ৮২ সাকিব ও মিরাজ ৫১। ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৯/৪ ডিক্লেয়ার করার পর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৫০ এ শেষ করে ইনিংস। পুরনো কথাগুলো টেনে আনার অর্থ ভারতের বিপক্ষে ২০০৭ এর ফেব্রুয়ারিতে ছিল ওই ম্যাচ। অমন পারফরম্যান্সের পর এ ম্যাচে আত্মবিশ্বাস তো বেড়ে যাওয়ার কথা। কারণ ওই ম্যাচ ছিল ভারতের মাটিতে প্রথম টেস্টে। তাহলে দ্বিতীয় ম্যাচে এতটা ব্যর্থতাচ্ছন্ন পারফরম্যান্সের কারণ খুঁজে পান না কেউই।
ভারতের পেস অ্যাটাক সম্পর্কে তাদের অজানা নয় কিছুই। কিন্তু খেলাটা তো ভারতেই। ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ বা অস্ট্রেলিয়ান কন্ডিশনে তো নয়। তাহলে এত কাঁপাকাঁপি কিসের? যেভাবে খেলেছে তারা মনে হচ্ছিল নতুন কোনো দল। যে দলটি ১৯ বছর ধরে টেস্ট ম্যাচ খেলে চলছে দেশ ও দেশের বাইরে। তাদের এমন আত্মবিশ্বাসের অভাবের কী কারণ হতে পারে।
সাকিব, তামিম নেই। ঠিক আছে। কিন্তু অন্য যারা তারা জয়ের জন্য না হোক, অন্তত সম্মান বঁাঁচানোর ব্যাটিংটা তো করবে। ইমরুল কায়েস, সাদমান ইসলাম, মোহাম্মাদ মিথুন, মুমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, লিটন কুমার দাস, মেহেদি হাসান মিরাজ। কার যোগ্যতা খাটো করে দেখার মতো। সবারই অভ্যাস আছে বড় ইনিংস খেলার। অথচ ভারতের সামনে ৫৮.৩ ওভারে অলআউট তো বটেই, কিন্তু যে ব্যাটিংটা হয়েছে সেটাতে বাংলাদেশের অর্জন অনেকটা ম্লানও হয়েছে এতে। ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের এটা প্রথম কোনো পূর্ণঙ্গ সিরিজ। এত দিন তারা আমন্ত্রণ জানায়নি বাংলাদেশ দল বাজে ক্রিকেট খেলে এ কারণেই। স্পন্সর আসবে না। দর্শক আসবে না মাঠে। বিসিসিআইয়ের কথা ছিল এটা। অনেক কিছুর পর এ সিরিজের আয়োজনে কী দেখাল বাংলাদেশ। ভবিষ্যতে পুরনো প্রশ্নটা যদি নতুন করে তারা তোলেন, সেটা কি খুব বেশি বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে?

স্কোর কার্ড
বাংলাদেশ-ভারত
টস : বাংলাদেশ
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
সাদমান ক সাহা ব শর্মা ৬ ২৪ ১ ০
ইমরুল ক রাহানে ব জাদব ৬ ১৮ ১ ০
মুমিনুল ব আশ্বিন ৩৭ ৮০ ৬ ০
মিথুন এলবিডব্লিউ ব সামী ১৩ ৩৬ ১ ০
মুশফিক ব সামী ৪৩ ১০৫ ৪ ১
মাহমুদুল্লাহ ব আশ্বিন ১০ ৩০ ১ ০
লিটন ক কোহলি ব শর্মা ২১ ৩১ ৪ ০
মিরাজ এলবিডব্লিউ ব সামী ০ ১ ০ ০
তাইজুল রানআউট ১ ৭ ০ ০
আবু জায়েদ অপরাজিত ৭ ১৪ ০ ০
এবাদত ব জাদব ২ ৫ ০ ০
অতিরিক্ত (লেবা-৩, ও-১) ৪
মোট (১০ উই:, ৫৮.৩ ওভার) ১৫০
উইকেট পতন : ১/১২, ২/১২, ৩/৩১, ৪/৯৯, ৫/১১৫, ৬/১৪০, ৭/১৪০, ৮/১৪০, ৯/১৪৮, ১০/১৫০।
বোলিং : শর্মা ১২-৬-২০-২, জাদব ১৪.৩-৩-৪৭-২, সামী ১৩-৫-২৭-৩, আশ্বিন ১৬-১-৪৩-২, জাদেজা ৩-০-১০-০।
ভারত প্রথম ইনিংস
রান বল ৪ ৬
আগরওয়াল ব্যাটিং ৩৭ ৮১ ৬ ০ রোহিত ক লিটন ব জায়েদ ৬ ১৪ ১ ০
পুজারা ব্যাটিং ৪৩ ৬১ ৭ ০
অতিরিক্ত ০
মোট (১ উই:, ২৬ ওভার) ৮৬
উইকেট পতন : ১/১৪।
বোলিং : এবাদত ১১-২-৩২-০, আবু জায়েদ ৮-০-২১-১, তাইজুল ৭-০-৩৩-০।

 


আরো সংবাদ