২৯ জানুয়ারি ২০২০

আরো দুই অ্যাথলেট হাসপাতালে

-

এসএ গেমসের চতুর্থ দিনে সোনাজয়ী কারাতেকা মারজানা আক্তার প্রিয়া ঘাড়ে আঘাত পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। গতকাল গেমসের পঞ্চম দিনে বাংলাদেশের আরো দুই অ্যাথলেট হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা হলেন স্প্রিন্টার জহির রায়হান ও আবু তালেব। নেপালের দশরথ রঙ্গশালায় অ্যাথলেটিকসের ৪০০ মিটার স্প্রিন্টে হিটে জহির রায়হান তৃতীয় ও আবু তালেব অষ্টম হয়ে ফাইনালে উন্নীত হন; কিন্তু অসুস্থতার কারণে তারা আর ফাইনালে অংশ নিতে পারেননি।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর উচ্চতা ৪ হাজার ৬০০ ফুট। মিটারের হিসাবে ১ হাজার ৪০০। সঙ্গত কারণে এখানে নিঃশ্বাস নিতে একটু সমস্যা হয়। তার ওপর নেপালে হাড় কাঁপানো শীত। সকাল সকাল তাপমাত্রা থাকে ৬ ডিগ্রিতে। দিনের বেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ওঠে ১৯ ডিগ্রি পর্যন্ত। হঠাৎ করে এমন উচ্চতা ও আবহাওয়ায় অনেকেরই সমস্যা হচ্ছে।
একজন অ্যাথলেটের জন্য এর চেয়ে পীড়াদায়ক আর কী হতে পারে। প্রায় পাঁচ মাস ক্যাম্প করে তিন বছরের স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য যদি ট্র্যাকেই নামতে না পারেন। এমনটিই ঘটেছে দুই অ্যাথলেট জহির রায়হান ও আবু তালেবের বেলায়। নিজের পছন্দের ৪০০ মিটার দৌড়ের ইভেন্টটি খেলতে পারলেনই না। শঙ্কা রযেছে আজ হতে যাওয়া ৪ গুণিতক ১০০ মিটারের রিলেতেও।
হিটে বাংলাদেশের জহির রায়হান তৃতীয় এবং আবু তালেব অষ্টম হয়ে ফাইনালে উন্নীত হন। তবে অসুস্থতার কারণে তারা ফাইনালে অংশ নিতে পারেননি। রেস শেষে দু’জনই শ্বাসকষ্ট অনুভব করায় পাশের ব্লু ক্রস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পবন রাওয়াল জহির সম্পর্কে বলেন, ‘জহিরের পালস রেট স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। এ অবস্থায় আমরা তাকে ফাইনালে অংশ নেয়ার অনুমতি দিতে পারছি না।’
বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুর রকিব মন্টু জানান, ‘জহির এবং তালেবেকে ইতোমধ্যে হাসপাতাল থেকে রিলিজ দেয়া হয়েছে এবং তারা দু’জনই হোটেলের রুমেও চলে গেছে। আজকে তাদের ফুল বেড রেস্টে থাকতে হবে ডাক্তারের নির্দেশে। কাল বিকেলে আমাদের ডাক্তার তাদের ফিটনেস সার্টিফিকেট দেবে। তবে তারা ৪০০ মিটার স্প্রিন্টের ফাইনালে খেলতে পারছে না। তবে আমরা আশাবাদী জহির-তালেব শুক্রবার আরেকটি ইভেন্টে ৪ গুণিতক ৪০০ মিটার এবং শনিবার ৪ গুণিতক ১০০ মিটার রিলে দৌড়ে অংশ নিতে পারবে।’
এই ইভেন্টে অংশ নিতে না পেরে জহির ও তালেব অনেক হতাশ হয়েছে। বিশেষ করে জহির অনেক বেশি আপসেট ছিল। সে বলেছে ওই ইভেন্টে অংশ নিতে পারলে একটা কিছু অর্জন করতে পারত নিশ্চিতভাবেই। ডাক্তার যখন জানিয়ে দিলো এই ইভেন্টে খেলতে পারবে না, তখন তিনি চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।
মন্টু আরো বলেন, ‘জহির যেন শেষ পর্যন্ত ৪০০ মিটার দৌড়ে অংশ নিতে পারে, এ জন্য আমরা ১০ মিনিট পর্যন্ত দৌড়ের ইভেন্টটি থামিয়ে রেখেছিলাম। আশাবাদী ছিলাম ও সুস্থ হয়ে অংশ নিতে পারবে; কিন্তু ওর পালস অস্বাভাবিক হয়ে যাওয়াতে (১৩০-এর ওপর) ও অসুস্থবোধ করায় দৌড় ইভেন্টে আর ফিরে আসতে পারেনি। এ জন্য অনেক আপসেট ছিল সে। এখন দেখা যাক আল্লাহ ভরসা জহির বাকি দু’টি ইভেন্টে অংশ নিতে পারে কি না।’


আরো সংবাদ