১৬ জানুয়ারি ২০১৯

বুআজিজির ‘আরব বসন্ত’

-

২০১০ সালের ডিসেম্বর মাসে তিউনিসিয়ার এক গভর্নর অফিসের সামনে অসহায় ফেরিওয়ালা নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে আত্মহনন করেছিলেন। জীবনযুদ্ধে মোহাম্মদ বুআজিজি নামের লোকটি এক পরাজিত সৈনিক। তিনি কোনোভাবেই পরিবারের ভরণপোষণ করতে সক্ষম হচ্ছিলেন না। তার দুঃখ এবং সংসার-সংগ্রাম দুঃখী অনেক তিউনিসিয়ানের জীবনগাথার মতোই। তিউনিসিয়ার মন্দ অর্থনীতি, বেকারত্ব ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে অতিষ্ঠ মানুষের কাছে বুআজিজি নতুন বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তা ছিল সংগ্রাম ও বিদ্রোহের বার্তা। তিউনিসিয়া থেকে সে বার্তা আরব বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। বুআজিজি সংগ্রামের প্রতীকে পরিণত হন। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংঘটিত ঘটনাবলির জের ধরে তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলীর ২৩ বছরের শাসন শেষ হয় গণবিক্ষোভের কারণে।

মোহাম্মদ বুআজিজি ২৬ বছরের এক ফেরিওয়ালা। গ্রামের বাড়ি সিদি সালাহায়। তিন বছর বয়সে তার বাবা মারা যান। একটি ছোট কক্ষে তাদের ছয় ভাইবোনের লেখাপড়া ও বেঁচে থাকার সংগ্রাম। ১০ বছরেই বুআজিজিকে সংসারের হাল ধরতে হয়। তার এক বোনের ভার্সিটিতে পড়ার খরচও জোগাতে হয়। বুআজিজি মাসে ১৪০ ডলার আয় করতেন। সেনাবাহিনীতে যোগ দেয়ার জন্য আবেদন করে ব্যর্থ হন। তিনি সব সময় অন্যকে সহায়তা করতে চাইতেন। অনেক সময় হতদরিদ্রদের বিনামূল্যে তার বিক্রির ফল দিতেন। রাস্তায় ফল বিক্রির কারণে তিনি পুলিশের মার খেয়েছেন অনেকবার। নানা অপমানও সয়েছেন পুলিশের হাতে। লাইসেন্স ছাড়া ফল বিক্রি করায় পুলিশ তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় ‘টু পাইস’ কামিয়েছে। পয়সা দিতে অস্বীকার করায় তাকে মালামালসহ কয়েকবার আটক করা হয়েছে। ওদের কত দেবেন, কত দিন দেবেন? সামান্য পুঁজি কত আর ভার সইবে?

এভাবে ধারদেনার পরিমাণ দাঁড়ায় ২০০ ডলারের মতো। পুলিশ তাকে আবার থামিয়ে দেয়। বলা হলো, ব্যবসার পারমিট বা লাইসেন্স না হলে আর ফেরি করা যাবে না। বুআজিজি স্টেট অফিসে যোগাযোগ করে দেখলেন, ফেরি করার জন্য কোনো পারমিট লাগে না। অথচ পারমিটের জন্য ফায়জা হামদি নামে এক মহিলা পুলিশ তাকে হেনস্তা করেছেন। তার গালে চড় মারেন, মুখে থু থু দেন। আরব সংস্কৃতিতে মুখে থু থু দেয়া খুবই অপমানজনক কাজ। ওই পুলিশ তার ইলেকট্রনিক মাপযন্ত্রও ছিনিয়ে নিয়ে গাড়িটি ধাক্কা দিয়ে নর্দমায় ফেলে দেন। এরপর বুআজিজি গভর্নর অফিসে গেলেন। তবে তার আবেদন সেখানে নাকচ করে দেয়া হয়। তদুপরি সাক্ষাৎকারের আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়। বুআজিজি তখন বলেন, ‘যদি সাক্ষাতের অনুমতি না দেন গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যা করব।’ তার কথা কেউ শোনেনি। ঘণ্টাখানেক পর গভর্নর অফিসের সামনের ব্যস্ত রাস্তায় অনেক লোকজনের সম্মুখে নিজের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন বুআজিজি। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘আমার বাঁচার কোনো পথ খোলা ছিল না।’

আশপাশের লোকজন বুআজিজিকে দ্রুত সেবার ব্যবস্থা করেছিল; কিন্তু আগুন নেভাতে সক্ষম হলেও শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও এর মূল চিকিৎসাকেন্দ্র ১১০ কিলোমিটার দূরে। এই করুণ সংবাদ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট জয়নাল আবেদিন বেন আলীও তাকে দেখতে যান এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানে ফ্রান্স পাঠানোর কথা বলেন। কিন্তু তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। ১৮ দিন বেহুঁশ হয়ে হাসপাতালে থাকার পর ৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন বুআজিজি। তার জানাজায় কমপক্ষে পাঁচ হাজার মানুষ অংশ নেয়। সেখানেই লোকজন প্রতিশোধের শপথ নিয়েছিল।

ওই দিনের জানাজার নামাজ এবং শপথ ‘আরব বসন্তের’ বীজ বপন করেছিল। আত্মহননের সময় পুলিশের বাধা সত্ত্বেও অনেক লোক মিছিল করে। এই প্রতিবাদ মিছিল তার মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকে। বিক্ষোভ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বেন আলীর দুঃশাসনের বিরুদ্ধে যাদের অবস্থান, তারা সঙ্ঘবদ্ধ হতে থাকেন। উন্নত প্রশাসন, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক অধিকার, সেবা খাতের উন্নয়ন, বেকার সমস্যার সমাধান, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, সরকার পরিবর্তন- এসব নিয়ে তিউনিসিয়ার নাগরিকদের অনেক ক্ষোভের শুকনো বারুদে যেন কেউ আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। বেন আলীর পতন হয়, উন্মুক্ত হয় গণতান্ত্রিক নতুন সরকার গঠনের পথ। পতন হয় স্বৈরাচার, যিনি পশ্চিমা কয়েকটি দেশের সহায়তায় টিকে ছিলেন।

তিউনিসিয়ার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মিসর। শুরু হয় ‘রুটি, মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও সমতার’ দাবিতে আন্দোলন। শক্ত ভিতের ওপর দাঁড়ানো মুসলিম ব্রাদারহুড আন্দোলন শুরু করে। ১৮ দিনের গণবিক্ষোভে একনায়ক হোসনি মোবারক পদত্যাগ করেন। সেনাবাহিনী সংবিধান ও সংসদ বাতিল করে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দেয়। মিসরের জনগণ প্রথম দেখতে পায়, গণতন্ত্র কী। ব্রাদারহুডের ড. মোহাম্মদ মুরসি প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হন। ২০১৩ সালে বৈধ সরকারকে উৎখাত করে সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আলসিসি ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করে মুরসিকে জেলে আবদ্ধ করেন। বিক্ষোভরত শত শত ব্রাদারহুড কর্মীকে হত্যা করা হয়। অনেকে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হলেন।

লিবিয়ায় বিভিন্ন দল-উপদল এর আগে সর্বময় ক্ষমতাবান দীর্ঘ দিনের শাসক গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু করে। লিবিয়ার তেল হস্তগত করার জন্য ফ্রান্স আবার উঠেপড়ে লাগে। বিক্ষোভকারীরা গাদ্দাফিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। মার্কিন নেত্রী হিলারি ক্লিনটন তখন বলেছেন, ‘আমরা বিষয়টির দিকে নজর দিতে দিতেই গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়েছে।’ কী অদ্ভুত বক্তব্য। ওই ঘটনার আগেই বিমান ওড়ার জন্য ‘সেফ জোন’ করা হয়। ওই কাজে হিলারির ভূমিকা কোনো অংশে কম নয়। যা হোক, গাদ্দাফির আমলে মানুষ মাথা তুলতে পারেনি, তিনি প্রায় সময় প্রাসাদ ছেড়ে তাঁবুতে বাস করতেন, নিজ হাতে কফি বানিয়ে খেতেন, রাতের বেলায় দরিদ্র ও অসহায় মানুষ খুঁজে বেড়াতেন। পশ্চিমাদের চালে তিনি শেষ হয়ে গেলেন। তবে আজো ফেরেনি লিবিয়ার শান্তি। দলে-উপদলে সবাই রাত-দিন যুদ্ধে লিপ্ত। যেদিন জ্বালানি থাকবে না, সেদিন পর্যন্ত এই যুদ্ধ চলবে বলে মনে হয়। গাদ্দাফির বিকল্প এখন পর্যন্ত তৈরি হয়নি। সেখানে আইএস সংগঠিত ও শক্তিশালী।

ইয়েমেনেও তদানীন্তন প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর বিরুদ্ধে ২০১১ সালে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ শুরু করেছিল। ২০১২ সালের নির্বাচনে আবদুল্লাহ মনসুর হাদি জয়লাভ করেন। অবশ্য তিনি একাই ছিলেন প্রার্থী। উত্তরে শক্তিশালী, শিয়া হুতিরা নির্বাচন বর্জন করে। এটি ছিল ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধের ভিত্তি। সৌদি জোটের সাথে হুতির যুদ্ধ নতুন মাত্রা নিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে করুণ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করেছে। সৌদি জোট মূলত কোথাও জয়লাভ করেনি। যুদ্ধের ভয়াবহতায় ইয়েমেনের সমাজ বিধ্বস্ত হয়ে অসংখ্য মানুষ ধুঁকে ধুঁকে মরছে।

সিরিয়ায় ক্ষমতার পরিবর্তনের জন্য ২০১১ সালে বিক্ষোভ ও সঙ্ঘাত শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা আলোচনার প্রস্তাব দেয়। প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ তাদের সাথে কোনো আলাপ না করে দমননীতি অবলম্বন করেন। ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। রাশিয়া সোভিয়েত আমলের মতো ঘাঁটি গড়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সিরিয়ার যুদ্ধে নামে এবং বাশার সরকারকে সহায়তা করতে থাকে। বিভক্ত দল-উপদলের মাঝে ব্যাপক যুদ্ধ শুরু হয়। রাশিয়া সামরিক ঘাঁটি বানায়, সেনা মজুদ করে। তাদের বোমা বর্ষণ ছিল ভয়াবহ- মসজিদ, হাসপাতাল, শিশু, মহিলা, নিরীহ মানুষ কেউ রেহাই পায়নি। সরকারকে সমর্থন করে ইরান সেনা ও যুদ্ধ-উপকরণ দিয়ে। তখন ইসরাইল সুযোগ পেয়ে ইরানি স্থাপনায় টার্গেট করে বোমা বর্ষণ করতে থাকে। ওদের আক্রমণ ছিল নিখুঁত ও ভয়ঙ্কর।

পরিকল্পনামাফিক আক্রমণে সিরিয়ার এক হাজার যুদ্ধবিমান শেষ হয়ে যায়। এতগুলো বিমান দিয়ে ইসরাইলে সহজে হামলা করা যেত। ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধেও অংশগ্রহণ করার আগেই বোমা মেরে পুরো বিমানবাহিনী ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। তারপরও সমরনায়কদের চিন্তায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। এরপর সরাসরি যুদ্ধে নামে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক ও ফ্রান্স। মানবিজে তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র মুখোমুখি যুদ্ধের অবস্থা সৃষ্টি হয়। এর মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাদের বাহিনীকে ফিরিয়ে নিতে শুরু করেন। এ অবস্থায় ফ্রান্স ও রাশিয়া বলছে, ‘অসম্পূর্ণ কাজ’ তারা শেষ করবে। ফ্রান্স যদি কুর্দি ও বাশার বাহিনীকে সহায়তা দিতে থাকে, তবে তুরস্কের সাথে সঙ্ঘাত শুরু হবে। ওই যুদ্ধে এরই মধ্যে পাঁচ লাখ মানুষ মৃত্যুবরণ করেছে। ৮০ শতাংশ সাধারণ মানুষ সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছে। সিরিয়া স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে কমপক্ষে ৪০ বছর দরকার। তবে ইসলামী ঐতিহ্য-নিদর্শন আর ফিরে আসবে না।

বাহরাইনে শাসক খলিফা পরিবারের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হলে চরম দমন-পীড়ন শুরু করা হয়। সৈন্যরা গুলি করে ৮০ জনকে হত্যা করে। হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করে জেলে ভরা হয়।

আট বছর পর এখনো পুরনো সমস্যাই আরব দেশগুলোতে রয়ে গেছে। আরব নেতারা ব্যর্থ হয়েছেন নতুন দিকনির্দেশনা এবং নতুন পথের ঠিকানা দিতে। আধুনিকতা, বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা এবং প্রযুক্তির প্রসারে সমাজ ও রাষ্ট্র জীবনের যে পরিবর্তন আসছে, তার সাথে জনগণের চাহিদা, মানসিক বিকাশ, চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন হলেও আরব বিশ্বের নেতারা যেন সেগুলো রপ্ত করতে পারছেন না, তাল মিলিয়ে চলতে পারছেন না। তিউনিসিয়ায় সরকার পরিবর্তন হলেও অবস্থার সামান্যই পরিবর্তন হয়েছে। অর্থনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি। গণতন্ত্রের সুফলের পরিবর্তে রাজনৈতিক বিভেদ বেড়েছে। দলগুলোর পরস্পর এবং নিজেদের ভেতরে ‘মতবাদ’ রোগের প্রাদুর্ভাব হয়েছে। অহরহ মন্ত্রী পরিবর্তন করা হচ্ছে। কাউকে অব্যাহতি দেয়া হচ্ছে, কেউ স্বেচ্ছায় সরে যাচ্ছেন। এ অবস্থায় আরব বসন্তের নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘আরব উইন্টার’ বা শীতল আরব। মানুষ যেন এখন ভয় পায় কোনো বিক্ষোভ করতে। মরক্কো থেকে বাহরাইন, মিসর থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত- আক্ষেপ ও অপেক্ষার দিন গুজরান করছে সাধারণ মানুষ।

আরব বিশ্বে গণতন্ত্র কায়েম ও আর্থিক দুরবস্থা কাটানোর যে স্বপ্ন লালিত হয়েছিল, তা ব্যর্থতার অন্ধকারে ডুবে গেছে। বরং বলা যায়, অবস্থা হয়েছে আরো খারাপ। এ জন্য প্রথমেই যাদের দায়ী করতে হয় তারা হলো মিসরের ‘ডিপ স্টেট’ শক্তি সুপ্রিম কাউন্সিল অব আর্মড ফোর্সেস এবং সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আসাদ, যারা নিজ নাগরিকদের বিরুদ্ধে অব্যাহত নির্যাতন ও দমন-পীড়ন চালাচ্ছে। ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখব, এমন শক্তি ক্ষমতায় থেকেছে বহুদিন কিন্তু তাদের নির্মম পতনও ঘটেছে। ন্যায়বিচার রহিত হলে তাদের কাছ থেকে রাজদণ্ড ছিনিয়ে নেয়া হবেই। এটা প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম। আরবের বিত্তবান শক্তিধর দেশগুলোতে গণতন্ত্র নেই। রাজতন্ত্র হারানোর ভয়ে বিরুদ্ধ পক্ষকে গুম, হত্যা, খুন, গ্রেফতারের বন্যা বইয়ে দেয়া হয়েছে। ফলে যেকোনো সময় পাল্টা শক্তি সক্রিয় হতে পারে। শাসকরাও বোঝেন, পতন হলে তারা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। তাই রাজতন্ত্র বা একনায়কতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে ম্যাকিয়াভেলির মতো সব অন্যায় কাজকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। সৃষ্টি করা হচ্ছে বশংবদ বাহিনী। কুক্ষিগত করা হচ্ছে বিভিন্ন রিসোর্স যেমন- সামরিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক মতবাদ ও গোয়েবলসীয় প্রচারণা।

মনেই হয় না আট বছর আগে এমন এক বড় বিপ্লব হয়েছিল যার নাম ‘আরব বসন্ত’। মনে হচ্ছে মাত্র সেদিনের ঘটনা। এতসব দুঃখগাথার মাঝে বুআজিজিকে এখনো অনুসরণীয় মনে করা হচ্ছে। তিউনিসিয়ায় এই সেদিন, ডিসেম্বরের শেষের দিকে আবদুর রাজ্জাক জরগি নামে ৩২ বছরের এক সাংবাদিক জীবিকার অভাবে যারা কষ্ট পাচ্ছে তাদের জন্য বিপ্লব শুরু করার আহ্বান জানিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহনন ইসলামে অনুমোদিত নয়। বুআজিজির আত্মহনন মানুষকে কতটুকু নাড়া দিয়েছে জরগির মৃত্যু তার প্রমাণ। আবারো তিউনিসিয়ায় আগুন জ্বলছে। তবে এবারের বিক্ষোভ তত প্রচণ্ড নয়। ক্ষমতাসীন সরকারের দলন-পীড়ন ও মানবিক অধিকার হরণের তেজ অনেক কম। তবে এর আয়ু কত দিন?
লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ