২২ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ঘুষের নবতর রূপ

আমাদের দেশে সব শ্রেণী-পেশার মানুষ শিক্ষিত-অশিক্ষিত নির্বিশেষে ঘুষ ও ঘুষখোর শব্দ দু’টির বিষয়ে সম্যক অবহিত। ঘুষের আক্ষরিক ইংরেজি ইৎরনব. প্রলোভন, লোভন, বিলোভন, প্রণোদনা, উৎকোচ, বকশিশ, সন্তুষ্টকরণ প্রভৃতি ঘুষের সমার্থক। যে ব্যক্তি ঘুষ নেয় বা খায়, তাকে ঘুষখোর বলা হয়। সাধারণ অর্থে আমরা ‘ঘুষ’ বলতে বুঝি বেতনের বাইরে অর্থ বা দ্রব্যসামগ্রীর বিনিময়ে কোনো ব্যক্তিকে কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা প্রদান বা কোনো ব্যক্তি কর্তৃক কোনো ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ।

আমাদের মূল দণ্ড আইন ‘দণ্ডবিধি, ১৮৬০’-এ ও ‘দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭’-এ ঘুষ অথবা ইৎরনব-কে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। দণ্ডবিধিতে ঘুষ অথবা ইৎরনব-কে এৎধঃরভরপধঃরড়হ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। অপর দিকে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এ ঘুষ বা ইৎরনব-কে ঈৎরসরহধষ গরংপড়হফঁপঃ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এৎধঃরভরপধঃরড়হ অর্থ সন্তুষ্টকরণ, উৎকোচ, বকশিশ প্রভৃতি। পক্ষান্তরে, ঈৎরসরহধষ গরংপড়হফঁপঃ অর্থ অপরাধমূলক অসদাচরণ।

উভয় আইনের ভাষায় বকশিশ বা অপরাধমূলক অসদাচরণ বিষয়ে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী হিসেবে যদি নিজ অথবা অপর কোনো ব্যক্তির জন্য তার বৈধ বেতনবহির্ভূত কোনো ধরনের বকশিশ গ্রহণ করে বা গ্রহণে সম্মত হয়, তবে সে বকশিশ গ্রহণ বা অপরাধমূলক অসদাচরণ করেছে বলে গণ্য হবে।

দণ্ডবিধি একটি সাধারণ আইন। আইনটি ঔপনিবেশিক শাসনামলে ১৮৬০ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত হয়। দণ্ডবিধিতে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক বকশিশ বা ঘুষ গ্রহণের সর্বোচ্চ সাজা তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড। উপমহাদেশ বিভক্ত হওয়ার বছর, ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রণীত দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে সরকারি কর্মচারী কর্তৃক অপরাধমূলক অসদাচরণের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড অথবা অপরাধমূলক অসদাচরণের সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পদের রাষ্ট্রের বরাবরে বাজেয়াপ্তি।

দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ একটি বিশেষ আইন হওয়ায় এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৬১ থেকে ১৬৫-এ ধারাগুলোতে বর্ণিত সরকারি কর্মচারী কর্তৃক কৃত অপরাধগুলো দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫ ধারায় বর্ণিত অপরাধগুলোর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এসব অপরাধ ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর ৩ ধারা অনুযায়ী দায়রা জজ অথবা অতিরিক্ত দায়রা জজ অথবা সহকারী দায়রা জজ সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ জজ আদালত দ্বারা বিচার্য। তা ছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এবং দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর কিছু অপরাধ ফৌজদারি আইন সংশোধন আইন, ১৯৫৮-এর তফসিলভুক্ত হওয়ায় প্রথমোক্ত দু’টি আইনে বর্ণিত অপরাধগুলো এবং শেষোক্ত আইনের কিছু অপরাধ বিশেষ জজ আদালত দ্বারা বিচার্য।

বাংলাদেশসহ পৃথিবীর যেকোনো দেশেই সমাজ গতিশীল। গতিশীল সমাজে আইন স্থবির থাকলে সে আইন সময় ও যুগের চাহিদা মেটাতে সমর্থ হয় না। তাই সময় ও যুগের পরিবর্তনের সাথে আইনকে যুগোপযোগী করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। এ প্রয়োজনীয়তা পূরণকল্পে ক্ষেত্রবিশেষে প্রচলিত আইনে সংযোজন, বিয়োজন বা প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সংশোধনী আনয়ন করা হয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়।

দুর্নীতি-সংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান এবং তদন্ত পরিচালনার জন্য স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন অনুভূত হলে ২০০৪ সালে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন প্রণয়নপূর্বক দুর্নীতি দমন আইন, ১৯৫৭ এবং দুর্নীতি দমন (ট্রাইব্যুনাল) অধ্যাদেশ, ১৯৬০ রহিত করা হয়। বাংলায় প্রণীত এ আইনটিতেও ‘ঘুষ’কে সংজ্ঞায়িত না করে দুর্নীতি সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, ‘দুর্নীতি’ অর্থ এ আইনের তফসিলে উল্লিখিত অপরাধগুলো। উল্লেখ্য, এ আইনের তফসিলে দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর অধীন শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর অধীন কিছু ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

আইনের ভাষায়, সরকারি কর্মচারীদের যেসব কার্যকলাপকে বকশিশ অথবা অপরাধমূলক অসদাচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, সাধারণ্যে তা ‘ঘুষ’ হিসেবে সমধিক পরিচিত। আর এ কারণেই সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে যিনি ঘুষ খান বা নেন, তিনি সামাজিকভাবে ঘুষখোর হিসেবে আখ্যায়িত।

সাধারণ অর্থে আমরা ‘দুর্নীতি’ বলতে বুঝি কোনো ব্যক্তি যখন অন্যায়ভাবে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অর্থ অর্জন করে। পৃথিবীর সব ধর্মেই দুর্নীতিকে পরিহার করতে বলা হয়েছে। যে সমাজে দুর্নীতিবাজরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে, সে সমাজ অসুস্থ এবং সেখানে সৎ ও ন্যায়পরায়ণদের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকা কঠিন।

স্কুলে নবম ও দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নকালে আমাদের পাঠ্যসূচিতে মানবিক বিভাগের ছাত্রদের জন্য ইসলামিক স্টাডিজ নামক ১০০ নম্বরের একটি বিষয় ছিল। ইসলামিক স্টাডিজ বইয়ে অন্যান্য বিষয়ের পাশাপাশি ৪০টি হাদিস অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ ৪০টি হাদিসের মধ্যে একটি হাদিসের প্রধান পাঠ্যাংশ ছিল- ‘আররাশি ওয়ালমুরতাশি ফিননার।’ যার বাংলা অর্থ হচ্ছে- ‘ঘুষদাতা ও ঘুষ গ্রহণকারী উভয়ই জাহান্নামি।’ হাদিসটির ব্যাখ্যা আলোচনা করলে অতি সহজেই বোঝা যায়, ইসলাম ঘুষ গ্রহণ বা প্রদান কোনোটিকেই অনুমোদন করে না। ইসলামে ঘুষ গ্রহণকারী ও ঘুষ প্রদানকারী উভয়কেই একই মাপের অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে এবং আরো বলা হয়েছে- উভয়ের স্থান হবে জাহান্নামে, যেখানে উভয়কেই আগুনে জ্বলতে হবে। অন্য সব ধর্মও ঘুষ গ্রহণ ও ঘুষ প্রদানকে অনুমোদন করে না। যারা ধর্মে বিশ্বাস করে না, তারা নীতিশাস্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। পৃথিবীতে এমন কোনো নীতিশাস্ত্র নেই, যেখানে ঘুষ গ্রহণ বা প্রদানকে অনুমোদন করা হয়েছে। একজন ব্যক্তি যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয়, তখন তাকে সোজা বাংলায় ঘুষখোর বলা হয়। আমাদের দেশে এখনো বেশির ভাগ লোকের মধ্যে বদ্ধমূল ধারণা, ঘুষ গ্রহণ অপরাধ- কিন্তু ঘুষ প্রদান অপরাধ নয়। বাস্তব জ্ঞান বা শিক্ষার অভাবেই তাদের মধ্যে এ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘুষ বা দুর্নীতি একটি অপরটির সমার্থক। ঘুষের আদান-প্রদান নগদ টাকা বা দ্রব্যসামগ্রীর মাধ্যমে হয়ে থাকে। একটি কাজ তখনই ঘুষের পর্যায়ে পড়বে যখন কাজটি করার জন্য কার্য সম্পাদনকারী ব্যক্তিকে নগদ বা দ্রব্যসামগ্রীর মাধ্যমে কোনো কিছু দেয়ার জন্য বাধ্য করা হয়। আমাদের দেশে অনেক সময় দেখা যায়, ঘুষ প্রদান ছাড়া কাজ আদায় হচ্ছে না এবং ত্বরিত কাজ আদায়ের জন্য একজন ভুক্তভোগী বাধ্য হয়েই ঘুষ দিচ্ছেন। আবার অনেক সময় দেখা যায়, মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা কর্ণধার, যিনি মন্ত্রীর মর্যাদায় আসীন, প্রচলিত নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে অজানা কারণে মাসের পর মাস নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদান না করে কালক্ষেপণ করছেন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে, এই কালক্ষেপণের পেছনে অন্যায়ভাবে প্রাপ্তির আকাক্সক্ষা কাজ করছে। এ ছাড়া জ্যেষ্ঠতা, মেধা, যোগ্যতা, দক্ষতা, সততা প্রভৃতিকে উপেক্ষা করে নিজের পছন্দের ব্যক্তিকে কোনো পদে নিয়োগ দেয়ার মধ্যেও দুর্নীতির হীন উদ্দেশ্য নিহিত থাকে।

সরকারের বিভিন্ন পদে কর্মরত বেশির ভাগ ঘুষখোর সৎ ও অসৎ-এর চিরন্তন ব্যবধান ঘুচাতে, নিজের নিমজ্জিত ও কলঙ্কিত ভাবমর্যাদা পুনরুদ্ধারে এবং সততার আদর্শে উজ্জীবিতদের সুনাম ও সুখ্যাতিতে ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠদের বিরুদ্ধে বিষোদগারের মাধ্যমে নিজের জ্বালা নিবারণের ব্যর্থ প্রয়াসে লিপ্ত হয়। কিন্তু ঘুষখোরের ঘুষ গ্রহণে নিত্যনতুন অভিনব পন্থার অবলম্বন কি তাদের ঘুষের কালিমা থেকে মুক্ত করতে পেরেছে? এর উত্তর- ঘুষের ব্যাপ্তি বিষয়ে মানুষের চিন্তা-চেতনার উৎকর্ষ ঘটায়, এরা ঘুষ গ্রহণে কৌশলের পরিবর্তন করলেও তা সচেতন মানুষের দৃষ্টিকে বেশি দিন এড়িয়ে রাখতে সক্ষম হয়নি।

যিনি প্রকৃত অর্থেই সৎ, তার পক্ষে কখনো বস্তুনিষ্ঠ ও অকাট্য প্রমাণ ছাড়া অপরকে অসৎ আখ্যায়িত করার ঘটনা দৃশ্যমান হয় না। এ ক্ষেত্রে অবশ্য ইতর, অসভ্য ও তথাকথিত সততার লেবাসধারীদের কথা আলাদা।

কথিত সততার লেবাসধারী জনৈক অসৎ কর্মকর্তা কর্মপেশা হিসেবে এ ধরায় বিধাতার প্রতিভূরূপে বিবেচিত পেশাকে বেছে নিয়েছিল। জ্ঞানের দৈন্য, যোগ্যতার সীমাবদ্ধতা, সামর্থ্যরে কমতি ও সততার ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও বিচারাঙ্গনের সাথে সংশ্লিষ্ট জনৈক প্রভাবশালী জ্ঞাতি ভাইয়ের আশীর্বাদে পদোন্নতি তার ক্ষেত্রে কখনো বাধা হিসেবে দেখা দেয়নি। এমনকি, দেশের সর্বোচ্চ আইনের অযোগ্যতা এবং কনিষ্ঠতা বিধাতার প্রতিভূ হিসেবে বিবেচিত উচ্চতর পদ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। এ কর্মকর্তা বিভিন্ন বিচারিক পদ বিশেষত জেলার মুখ্য বিচারিক পদে কর্মরত থাকাকালে পেশকার নামধারী কর্মচারীর অর্থানুকূল্যে যাবতীয় পথ্য ও কর্মক্ষেত্রের আপ্যায়ন ব্যয় নির্বাহ করতেন। কিন্তু তার চরিত্রের এ স্খলন তার দৃষ্টিতে তথাকথিত সততার ওপর কোনো কালিমা লেপন করতে পারেনি। এ কর্মকর্তা নিজেকে মহানুভব হিসেবে প্রতিষ্ঠার ব্যর্থ প্রয়াসে নিজের বেতনের অর্থের একটি অংশ অনাথ আশ্রমে ব্যয়ের ধারণা দিতে সচেষ্ট ছিলেন।

কিন্তু বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পর জানা গেল, মামলা সংশ্লিষ্ট একাধিক ব্যক্তির সাথে পারিবারিক সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে পারস্পরিক লেনদেনের আবরণে তাদের আর্থিক সহায়তায় অনাথ সেবার কাজগুলো সমাধা হচ্ছিল। বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের নজরে এলে এক সময় এ কর্মকর্তাকে জেলার মুখ্য বিচারিক পদ থেকে অপর একটি জেলায় বিশেষ আদালতে বদলির প্রস্তাব সর্বোচ্চ আদালতের অনুমোদনের জন্য প্রেরণ করা হয়। আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ আদালতে কর্মরত জনৈক কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে তার অবমাননাকর বদলির প্রস্তাব অনুমোদন না করে তাকে পুনরায় অপর জেলার মুখ্য বিচারিক পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। পরবর্তীকালে দেখা গেল এ অকৃতজ্ঞ, বিতর্কিত, অভিনব ঘুষখোর ও হীনমনা কর্মকর্তা উপকারী কর্মকর্তার ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা, দক্ষতা ও সততায় মøান হয়ে তার সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠে। উপকারী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করা হলে তিনি বললেন, ‘এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। কারণ কৃতঘœদের আচরণ এরূপই হয়ে থাকে।’

সরকারের বিভিন্ন কার্যালয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি বছর সংযুক্ত তহবিল থেকে অর্থ বরাদ্দ করা হয়ে থাকে। এ বরাদ্দের একটি অংশ আনুষঙ্গিক খাতের জন্য নির্ধারিত। আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ যেকোনো কার্যালয়ের মুখ্য কর্মকর্তার অনুমোদন সাপেক্ষে ব্যয় করা হয়। অনেক কার্যালয়ের মুখ্য কর্মকর্তার ক্ষেত্রে দেখা যায়, এ অর্থব্যয়ে স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় গ্রহণ করে থাকেন। আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ দিয়ে সাধারণত একটি কার্যালয়ের দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ সংযুক্ত তহবিলের অর্থ বিধায় এ অর্থের ওপর দেশের মানুষের অধিকার রয়েছে। এ অর্থের যেকোনো ধরনের অযৌক্তিক, বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী ব্যয় দুর্নীতির অন্তর্ভুক্ত বিধায় তা ঘুষ গ্রহণের সমতুল্য। কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণ এবং আনুষঙ্গিক খাতের অর্থের বেআইনি ব্যয়ের মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে, প্রথমোক্ত ক্ষেত্রে একজন ব্যক্তির অধিকার ক্ষুণœ হচ্ছে আর শেষোক্ত ক্ষেত্রে দেশের মানুষের অধিকার ক্ষুণœ হচ্ছে।

আলোচ্য কর্মকর্তা জেলায় মুখ্য বিচারিক কর্মকর্তা থাকাকালে আনুষঙ্গিক খাতের অর্থ নিজ প্রয়োজনে যেমন- গাভীর খাবার ক্রয়, পুকুরে মাছ চাষ, গৃহস্থালি সরঞ্জাম ক্রয় এবং বাসভবনের আঙিনায় কৃষিকাজে সার, বীজ, চারা ক্রয় প্রভৃতিতে ব্যয়ের দৃষ্টান্ত স্থাপনের পরও নিজেকে সৎ দাবি করে অপরের সমালোচনায় অনাকাক্সিক্ষতভাবে লিপ্ত হলে তাকে নেহায়েত নির্লজ্জ, বেহায়া, ঘুষখোর ছাড়া আর কী বলা যায়?

একজন প্রকৃত সৎ ব্যক্তিকে কখনো আত্মপ্রচারণায় নিমগ্ন হয়ে নিজের সততার সাফাই গাইতে দেখা যায় না। যিনি প্রকৃত অর্থেই সৎ, তার মূল্যায়ন যথার্থভাবেই মানুষ করে থাকে। আর ঘুষখোরের ঘুষ গ্রহণে যেকোনো ধরনের অভিনবত্ব সচেতন মানুষের দৃষ্টিকে ফাঁকি দিয়ে তাকে ‘ঘুষখোর’ আখ্যা থেকে রক্ষা করতে পারে না। তাই ঘুষখোর, তুমি যত ধরনের ছলচাতুরীই করো না কেন, তোমার জারিজুরি সব ফাঁস হয়ে গেছে। তুমি যে শঠ, ভণ্ড, প্রবঞ্চক, মিথ্যুক, পরশ্রীকাতর, হিংসুক, অযোগ্য, অদক্ষ, অসৎ ও চোর তা আর কারো অজানা নয়। তাই সময় থাকতে পরনিন্দা ও ঘুষ গ্রহণ ত্যাগ করে নিজের পঙ্কিলতায় অবগাহন করো।

লেখক : সাবেক জজ ও সাবেক রেজিস্ট্রার, সুপ্রিম কোর্ট
Email: [email protected]


আরো সংবাদ