১৪ অক্টোবর ২০১৯

ভারতে ‘ফরেনার’ বিতাড়নের নবসূচনা

গত ১০ জুন ভারতের হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার কেন্দ্রে ঘোষণা দিয়েছে, এখন থেকে ভারতের সব রাজ্যের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটদের ক্ষমতা দেয়া হলো ও তাদের উৎসাহিত করা হলো তদন্ত করে বিদেশী হিসেবে পরিচিতদের খুঁজে বের করতে।

মুসলিম বিদ্বেষী কট্টর বিজেপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও মনে হচ্ছে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমানদের ওপর অহেতুক এই তথাকথিত বিদেশী চিহ্নিত করার পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। কারণ, ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক কারণে পশ্চিমবঙ্গের বিপুলসংখ্যক বাঙালি মুসলমানের বসবাস রয়েছে। আসাম ছিল তাদের এই মুসলমান তাড়ানোর প্রথম ও পরীক্ষামূলক ক্ষেত্র। এবার নরেন্দ্র মোদির সরকার আবার ক্ষমতায় এসে এই প্রক্রিয়া এখন সারা ভারতে সম্প্রসারিত করার ঘোষণা দিয়েছে অতি সম্প্রতি, অর্থাৎ গত ১০ জুন। এটি ভারতের রাষ্ট্র পরিচালিত অহিন্দু নাগরিকদের দেশ থেকে তাড়ানোর এক অপকৌশল। কারণ বিজেপির প্রকাশ্য ঘোষণা হচ্ছে, ভারত হবে একটি হিন্দুরাষ্ট্র। তাই শুধু মুসলমানই নয়, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকেরা এভাবে বিদেশী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে ভারত থেকে দেশছাড়া হতে পারে, নয়তো আশ্রয় নিতে হতে পারে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক দেশে মানবসৃষ্ট আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের শিকার হয়ে অনেক মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। কিন্তু এদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। একমাত্র আর্জেন্টিনা এসব মানুষকে কোনো হয়রানি ছাড়া সে দেশে নতুন করে জীবন শুরু করতে দিতে রাজি। কিন্তু পাশের ভারত ফ্যাসিস্ট হিন্দুত্ববাদী সরকারের অধীনে পরিণত হয়েছে এক হিন্দু দুর্গে। ভারতের নতুন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুসলমানদের অভিহিত করেছেন উইপোকা বা ঘুণপোকা বলে। মমতা ব্যানার্জি সম্ভবত সবাইকে স্বাগত জানানোর নীতি অব্যাহত রাখবেন। কিন্তু ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল আদেশ’-এর ক্ষমতা বলে যেকোনো ফ্যাসিবাদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শুধু পশ্চিমবঙ্গ ছাড়া ভারতের বাকি সব রাজ্যে এ ব্যাপারে কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এ ধরনের তথাকথিত সন্দেহভাজন বিদেশীদের খবর নিকটস্থ পুলিশ প্রশাসনকে জানাতে বলেছে বলে গণমাধ্যমের খবরে প্রকাশ।

এ কথা ঠিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ভারতে প্রায় ২০ কোটি থেকে ৫০ কোটি মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে শরণার্থীর মতো জীবনযাপন করছে। ৬০ কোটির মতো মানুষ দুর্ভোগের শিকারে পরিণত হয়েছে সরকারিভাবে ঘোষিত অতিশয় শুষ্ক অঞ্চলের অধিবাসী এবং ভূমিহীন ও বেকার হওয়ার কারণে। কিন্তু ভারত থেকে এ ধরনের দুর্ভোগে নিপতিত লোকেরা রাষ্ট্রীয়ভাবে একমাত্র নাইজেরিয়ায় প্রত্যাবাসন করতে পারে। আর এই আর্জেন্টিনার দূরত্ব ভারত থেকে শত শত কিলোমিটার দূরে। ২০১৮ সালের মার্চে ‘ফেডারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কন্টেন্টিয়াস চেম্বার ইন আর্জেন্টিনা’-এর বিচারকদের একটি প্যানেল একটি অ্যান্টি-মাইগ্রেশন ডিক্রিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। এই ডিক্রি এর এক বছর আগে দেশটির নির্বাহী বিভাগ পাস করার উদ্যোগ নিয়েছিল।

আর্জেন্টিনার ‘মাইগ্রেশন আইন ২০০৬’ এভাবেই ঠিকে যায়। এটি আর্জেন্টিনার জাতীয় সংবিধানের একটি প্রভিশনের ইলাবরেশন। এই সংবিধানের মাধ্যমে আর্জেন্টিনাকে গঠন করা হয়েছিল একটি ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন’ হিসেবে। আর এই ন্যাশনাল ইউনিয়নের লক্ষ্য ছিল : “ “[to] guarantee justice, secure domestic peace, provide for the common defense, promote the general welfare and secure the blessings of liberty to ourselves, to our posterity, and to all men of the world who wish to dwell on argentine soil : invoking the protection of God, source of all reason and justice.”

উল্লিখিত আইনের আওতায় আর্জেন্টিনা স্বীকার করে : “the right of migration is essential and inalienable of the person and the Argentina Republic guarantees what is based on the principles of equality and universality.” তবে আর্জেন্টিনায় এ ক্ষেত্রে একমাত্র সমস্যা হচ্ছে, দেশটির সরকার সেখানে বেসরকারি খাতে সব মানুষকে সমান সুযোগ দিতে চায় না। বেসরকারি ব্যাংকগুলো আইডেন্টিফিকেশন কার্ড যাদের নেই তাদেরকে বাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে দেয় না। কিন্তু দেশটি নিজে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তার আচরণে সবার সাথে সমান ব্যবহার করার ব্যাপারে। তবে কোনো লোক যদি আর্জেন্টিনার মাটিতে বসবাস করতে ইচ্ছা পোষণ করেন, তবে তিনি তা করতে পারেন কোনো বাধানিষেধ ছাড়াই।

আর্জেন্টনায় প্রত্যাবাসনের বিষয়টি এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে ‘ভারতের পরিস্থিতির বৈপরীত্য’ বুঝার জন্য। ‘ভারতের ১৯৪৬ সালের ফরেনার অ্যাক্ট’-এর ৩ নম্বর ধারার আওতায় ফ্যাসিবাদী বিজেপি সরকার এখন কেন্দ্রীয় ও রাজ্যপর্যায়ে সেসব সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংক, বেসরকারি স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও হাসপাতালসহ রাষ্ট্রীয় কল্যাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুযোগ সুবিধা দিচ্ছে, যেগুলো সেসব লোককে তাদের সার্ভিস থেকে বঞ্চিত রেখেছে, যাদের ফরেনার বা ইন্ডিয়ান হিসেবে নিবন্ধন নেই। বিপর্যয়কর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তখন, যখন কেউ ভারতে ইউনিয়ন আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার ছাড়া সরকারি চাকরিতে ঢুকতে যান।

বিষয়টি এখন ভারতের সবার কাছেই জানা হয়ে গেছে। এই ধ্বংসাত্মক পরিস্থিতির সাথে এখন যোগ হয়েছে নয়া বিপদ। এখন কোনো ধরনের আইডেন্টিটি কার্ড ছাড়া যে কাউকে যেকোনো দিন বাধ্য করা হতে পারে তাদের নিজ জেলার ফরেনার ট্রাইব্যুনালের সামনে হাজির হতে। সেখানে যদি তিনি ফরেনার হিসেবে চিহ্নিত হন এবং ভারতে আরো ১৮০ দিন থাকতে চান, তবে তাকে নিবন্ধন করতে হবে ফরেনার রিজিওন্যাল রেজিস্ট্রেশন অফিসারের অফিসে। এরা যদি বিভিন্ন জায়গায় চলাচল করেন, তবে তাদের অবশ্যই পুলিশকে আগে থেকেই জানাতে হবে। যদি এরা খারাপ আচরণ করেন, তবে তাদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হবে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ভারত থেকে বের করে তাদের কোন দেশে পাঠানো হবে? যদি এসব লোক উপমহাদেশের হয়ে থাকে, তবে ফ্যাসিবাদী ভারত সরকারের কাছে এরা হবেন ‘সাব-হিউম্যান’। এটি এখনো স্পষ্ট নয়, এদের কোথায় পাঠানো হবে। নরেন্দ্র মোদি শেখ হাসিনাকে নিশ্চিত করেছেন কোনো ফরেনারকে প্রত্যাবাসন করা হবে না। তাহলে কী করা হবে? তাহলে এরা সারাজীবন কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পেই জীবন কাটাবেন। মৃত্যু বরণ করবেন এক দুঃসহ মানবেতর জীবনযাপনের পর। তাদের অবস্থা হবে কি তাদের মতো, যারা আজ বসবাস করছেন আসামের কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। এরা চিহ্নিত হবেন ‘সাব-হিউম্যান’ হিসেবে, যারা শুধু যোগ্য হবেন কারারুদ্ধ অবস্থায় থাকার।

এদের কেউ ভারতের মাটিতে জন্ম নিয়েছিলন কি না, কিংবা দশক দশক ধরে ভারতে কাজ করে আসছিলেন কি না, কিংবা ভারতীয় উপমহাদেশের কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার অন্য কোনো অঞ্চল থেকে এসে এখানে বসবাস করছিলেন কি না; সেটা কোনো বিবেচ্য নয়। এ ধরনের বেশির ভাগ লোকই সেখানে এমনভাবে বসবাস করে আসছিলেন, যেন দীর্ঘ দিন ধরেই তারা সেখানে ছিলেন। রাজ্যের কেন থাবাই তাদের ওপর বিস্তৃত ছিল না। এর ফলে ভারতে তাদের অনেকেরই বাড়িঘর নেই। তারা তা পেতে প্রত্যাশাও করেন না। কারণ, ভারতের একটি শহরে বাড়ি করতে হলে তার ডোমিসাইল স্ট্যাটাস থাকতে হয়। তাদের প্রত্যাশা, স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও কাজের অধিকার। আর যেকোনো রাজ্যই সেই সুযোগ চাইলে দিতে পারে। কিন্তু তাদের সে মানবিক অধিকার না দিয়ে ভারতের সব রাজ্যে এখন তাদের ফরেনার চিহ্নিত করে আটকে রাখার পাঁয়তারা চলছে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে। যেমনটি ক’বছর আগেই শুরু হয়েছে আসামে।

বিজেপি কুটিল প্রশ্ন তুলে বলে, অনেকের অভিযোগ ফরেনারের অজুহাতে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপি সরকার পরিচালিত রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার। যদি তাই হয়, তাহলে পশ্চিমবঙ্গের ৪০ শতাংশ ভোটার কেন বিজেপির পক্ষে ভোট দিলো? এরা নিজেরাই নিজেদের প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বলে, বিজেপি এ রাজ্যে যে কল্যাণ বয়ে এনেছে, সে কারণেই পশ্চিমবঙ্গের মানুষ বিজেপিকে ভোট দেয়। তবে এটি সত্য, বিজেপি গত ২৩ মের নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয় লাভ করেছে আপার কাস্ট ব্রাহ্মণ ও শত শত পশ্চাৎপদ শ্রেণীর সম্প্রদায়ের সাথে কোয়ালিশন করার সুবাদে। এ কারণেই কংগ্রেস, আরজেডি, বিএসপি, এসপি, সিপিআই (এম), সিপিআই অন্যান্য দলকে পরাজিত করা সম্ভব হয়েছে বিজেপির পক্ষে। ভোটাররা রাজ্যকে হয়তো তাদের কাছে কোনো উদ্ধারকারী মনে হয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বিজেপি কেন ফ্যাসিবাদী হওয়ার পথ বেছে নিলো? সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, একটি দেশের নাগরিকবর্গ কতটুকু দুরাচার হতে পারে যখন রাষ্ট্র হয়ে ওঠে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী। ভারতের মতো সেখানে ফরেনারদের শুধু নিবন্ধনই করতে হয় না, বরং সুইস নাগরিকদেরকেও ঠিকানা বদলের সাথে সাথে নিবন্ধিত হতে হয় স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষের কাছে। যদি তা করতে কেউ ব্যর্থ হন, তবে তাকে জরিমানা করা হয়। সেই সাথে তাকে বঞ্চিত করা হয় রাষ্ট্রীয় সেবা ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা থেকে। ফরেনারদের দ্রুত ফেরত পাঠানো হয় তাদের দেশে, হয়তো সে দেশের নাগরিক হিসেবেও তার কাছে কোনো দলিলপত্র না-ও থাকতে পারে। আসলে নাগরিকত্ব হচ্ছে একটি মেকানিজম, যার মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে বৈশ্বিক, জাতীয়, স্থানীয় ও ব্যক্তিগত অন্যায়-অবিচার সম্পর্কে চুপ রাখা যায়। এর বিনিময়ে রাষ্ট্র নাগরিকদের জেনোফোবিয়ার বিপরীতে তাদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে। আর তা থেকেই সূত্রপাত ঘটেছে অনেক অহেতুক গণহত্যা আর জাতিনিধন।

‘স্ট্যান্ডার্ড অব লিভিং ফ্যাসিজম’-এর ইউরোপিয়ান মডেল হচ্ছে এটাই। ভারতের উচিত নয় এই মডেল অনুসরণ করে ভারতকে ধ্বংস করে দেয়া। গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার সুবাদে স্বেচ্ছাচারী বিজেপি সরকার এ ধরনের গণহত্যা, বিশেষত মুসলমানদের গণহত্যার মুখে ঠেলে দেয়ার একটি আইনি প্রস্তুতি নিয়েই এবার দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় এসেছে। এরা বিশেষত এই গণহত্যা চালাতে চায় পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উরিষ্যা ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে; যেখানে বেশির ভাগ প্রত্যাবাসন ঘটেছে ভারতের জাতীয় সীমান্ত বরাবর। আর সেজন্যই খোলা হচ্ছে শত শত কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প।

জানা যায়, বিশ্বের ২৪টি দেশে রয়েছে প্রচুর চাষযোগ্য জমি। এসব দেশে বিশ্বের এমন ২০০ কোটি মানুষের বসবাসের ব্যবস্থা করা যায়, যাদের নেই পর্যাপ্ত চাষের জমি, যাদের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জীবনযাপন অসম্ভব হয় উঠেছে। এ সমস্যার একটি বৈশ্বিক সমাধান দরকার। প্রত্যাবাসন আজ সারা বিশ্বের এক বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আসলে এখন এই সমস্যা সমাধানে আমাদের দরকার রাষ্ট্রীয় প্রতিশ্রুতি, ঠিক আর্জেন্টিনার মতো। আর্জেন্টিনার ইচ্ছা হচ্ছে, সব হিউম্যান ও নন-হিউম্যান সত্তাকে সব ধরনের জীবনযাপনের সুযোগ করে দেয়া। কিন্তু এমন দেশ আর কোথাও আমরা দেখতে পাই কি? এ ক্ষেত্রে একটি ব্যতিক্রম হিসেবে আমরা পাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে। কিন্তু কেন্দ্রের অধীনে থাকা একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে স্বাধীনভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে আছে কেন্দ্রের নানা বাধা। তাই প্রশ্ন ওঠে, তিনি কি পারবেন বিজেপি সরকারের পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি মুসলিম বিতাড়ন ঠেকাতে? তা কতটুকু সম্ভব হবে, তা সময়েই জানা যাবে। আজকের এই সময়ে পালিয়ে গিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার জায়গার বড়ই অভাব এই বিশ্বে। বিশ্বের ফ্যাসিবাদী দেশগুলো অনেক জনগোষ্ঠীর জন্য এক অমানবিক পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এই মনোভাব চাঙা হচ্ছে। ফলে এসব দেশগুলো ক্রমেই হয়ে উঠছে অমানবিক। বিজেপি সরকারের অধীনে ভারত ক্রমেই রূপ নিচ্ছে তেমনি একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রে।

ভারতের বিবেকবান মানুষ বলছেন, ভারতবাসীর উচিত পশ্চিমবঙ্গের মমতা ব্যানার্জির সাথে মিলে এজন্য লড়াই করা, যাতে বিজেপি গণতান্ত্রিক ভারতকে ফ্যাসিবাদী ভারতে পরিণত করতে না পারে। দ্বিতীয়ত, ভারতীয়দের উচিত মুসলমানদের সাথে মিলে লড়াই করা, যাতে ভারতের মুসলমানেরা সেখানে অবাধে মুক্ত পরিবেশে কোনো ধরনের হয়রানি ছাড়াই থাকার অধিকার আদায় করতে পারে এবং তৃতীয়ত, ভারতীয়দের উচিত মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতার জন্য সমগ্র মানবতার পক্ষে লড়াই করা, যাতে মানুষ রাষ্ট্রীয় সীমানার বাইরেও বিশ্বের মানুষকে ভালোবাসার ও বিশ্বের যেকোনো স্থানে বসবাসের সুযোগ পায়। মনে রাখতে হবে, মানুষের জন্ম হয় মানুষ হিসেবে। কাউকে হিউম্যান আর কাউকে সাব-হিউম্যান ঘোষণা করার অধিকার কারো নেই। শুধু যা সবার জন্য কল্যাণকর, তা-ই গ্রহণযোগ্য। কিন্তু মাথায় রাখতে হবে সে পথে বাধা শুধু ফ্যাসিবাদ।


আরো সংবাদ