২৩ আগস্ট ২০১৯

ইরানে সাইবার হামলা

-

যুক্তরাষ্ট্রের আধুনিক ও ব্যয়বহুল সামরিক গোয়েন্দা ড্রোন বিধ্বস্ত ও ভূপাতিত করায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সাইবার হামলা শুরু করেছে। ইরান, ক্ষেপণাস্ত্র ও সাধারণ রকেট প্রক্ষেপণের জন্য যে কম্পিউটার সিস্টেম ব্যবহার করে; সেখানে এই হামলা চালানো হয়। ভূপাতিত করা ড্রোনটির দাম ১৩০ মিলিয়ন ডলার। ওমান উপসাগরে ২০ জুন ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ‘থার্ড খোরদাদ’ নামক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সাহায্যে ‘গ্লোবাল হক’ মডেলের অত্যাধুনিক মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন ভূপাতিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধ শুরু না করলেও নতুন অবরোধ ও সাইবার হামলা শুরু করেছে। সাইবার হামলায় ইরানের যন্ত্রপাতি ‘অকেজো করে দেয়া হয়েছে’ মর্মে ওয়াশিংটন দাবি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সিনিয়র অ্যাডভাইজার ক্রিশ্চিয়ান হুইটন ফক্স নিউজকে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানি সেনাবাহিনীর ওপর হমলা চালাতে হবে।’

এই ঘটনার আগে ১২ মে হরমুজ প্রণালীর কাছে চারটি জাহাজ বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এ জন্য আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দায়ী করেছে। এক মাস পর ১৩ জুন ওমান উপসাগরে দু’টি ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে, ট্যাংকারগুলোর একটি নরওয়ের ‘ফ্রন্ট আল্টএয়ার’ এবং আরেকটি জাপানের ‘কোকুকা কারেজিয়াস।’ একই দিনে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে মাইন পেতে রাখার অভিযোগ আনে। ইরান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আন্তর্জাতিক মহল মনে করে, কোনো উৎসাহী দেশ অপারেটরের মাধ্যমে এই ঘটনা ঘটিয়ে ইরানের ওপর দোষ চাপিয়ে দিচ্ছে। ওমান সাগরের ঘটনায় কি যুক্তরাষ্ট্রের কেরিয়ারগুলো কোনো কাজ দিয়েছে? সামরিক বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলছেন যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কমপক্ষে ১২টি কেরিয়ার দরকার।

‘ইউএসএস হ্যারি এস ট্রুম্যান’ কেরিয়ার বেশ পুরনো। বড় ধরনের কেরিয়ারে ইরানি ছোট ছোট মিসাইল বোটের আক্রমণ কৌশলী ও ভয়াবহ হতে পারে। স্বল্পসংখ্যক কেরিয়ার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। অবরোধ দিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তেমন কিছুই করতে পারবেন না। এতে অনেক সময় প্রয়োজন। এর মধ্যে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের কাজে লাগাবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, আমেরিকার স্বার্থে যেকোনো আঘাত তা শিয়া, মিলিশিয়া, হুতি বা হিজবুল্লাহ যারাই করুক; এ জন্য সরাসরি ইরানকেই দায়ী করা হবে। তিনি এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে ১২ দফা দিয়েছিলেন। বাস্তবে তা টেকেনি। মার্কিন প্রশাসনের বোল্টন ও পম্পেও চাচ্ছেন কোনো ছুতা তৈরি করে ইরানের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দিতে। কার্যত সেদিকেই এখন পরিস্থিতি মোড় নিচ্ছে। সাইবার হমলার একটি বড় উপাদান হলো গোয়েন্দাদের তৈরি ওয়ার্ম।

স্টুক্সনেট ওয়ার্ম আমেরিকার সিআইএ আর ইসরাইলের গোয়েন্দা বিভাগ একসাথে বসে তৈরি করে ২০০০ সালে। এই ওয়ার্মকে ‘মারাত্মক সাইবার অস্ত্র’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কেননা এটি ভৌত অবকাঠামোগত ইউরেনিয়াম যন্ত্রপাতি, যা কোনো প্রোগ্রামের সাহায্যে চালানো হয়, ধ্বংস করে দিতে পারে। এই ওয়ার্ম তখনই ইরানের নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম প্রকল্পে ছেড়ে দিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছিল। এটি পারমাণবিক প্রকল্পের প্রভূত ক্ষতি করতে সক্ষম। ২০০৬ সালে তদানীন্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ‘অলিম্পিক গেম’ নামে স্টুক্সনেট ওয়ার্ম দিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অন্তর্ঘাতমূলক সাইবার হামলা চালান। স্টুক্সনেটের একটি আঘাতে সেন্ট্রিফিউজের স্পিন নিয়ন্ত্রণবিহীনভাবে চলতে থাকে এবং ইউরেনিয়ামের বড় ধরনের ধ্বংস সাধিত হয়; সেন্ট্রিফিউজ ভেঙে যায়। ২০০৯ সালে ওবামাও একই কাজ জোরদার করেছিলেন। ২০০৯-২০১০ সালে ওয়ার্মের হামলায় ইরানের নাতাঞ্জ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে এক হাজার সেন্ট্রিফিউজ নষ্ট হয়।

এগুলো পরিবর্তন করতে ইরানকে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। ওবামা প্রশাসনের হিসাব মতে, এই আঘাতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি দুই বছর পিছিয়ে যায় বা বন্ধ ছিল। এই ঘটনার পর ইরান গোপন স্থানে নতুন প্রোডাক্ট, কোড ও কৌশলে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে থাকে এবং কম্পিউটার ওয়ার্ম শনাক্তকরণ ও ধ্বংস সাধনের জন্য কর্মসূচি ও গবেষণা শুরু করে। অপর একটি ওয়ার্ম হলো, মাইডোম ভাইরাস। মাইক্রোসফট উইন্ডোজ-ভিত্তিক কম্পিউটারের ই-মেইল সিস্টেমে ঢুকে এটি কম্পিউটারের ক্ষতি করে। ভারতের সেনাবাহিনী মাইক্রোসফট উইন্ডোজ-ভিত্তিক কোনো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে না। সেনাবাহিনীর জন্য পৃথক অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে, যা ভারতেই তৈরি করা। ইরানের সেনাবাহিনী কোন ধরনের সিস্টেম সফটওয়্যার ব্যবহার করে, তার তথ্য সাধারণের হাতে নেই।

প্রতি-আক্রমণ হিসেবে ইরানও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে সাইবার হামলা শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক, সংস্থা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ইরান এ হামলা চালিয়েছে। বিধ্বংসী ওয়াইপার হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধজাহাজ ব্যবস্থা হ্যাকিংয়ের চেষ্টা করছে। ইরান হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছে, যুদ্ধ লাগলে উপসাগরীয় অঞ্চলে তা ছড়িয়ে পড়বে এবং ওয়াশিংটনের মোতায়েন করা বেশির ভাগ মার্কিন সেনা এতে মৃত্যুবরণ করবে। ইরানের বিরুদ্ধে গত বছর ৩৩ মিলিয়ন সাইবার আক্রমণকে ইরান নিউট্রেলাইজ করেছে। এই কাজে ইরান জাতীয় ফায়ারওয়াল তৈরি ও ব্যবহার করেছে। ইরানের মতে, আমেরিকা-ইসরাইল অনেক চেষ্টা করেছে, কিন্তু সার্থক হতে পারেনি। ইরানের তথ্য ও যোগাযোগমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভেদ আজারি জাহরোমি এ কথা বলেছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, উভয় পক্ষের কোনো ছোট্ট ভুল থেকে বড় যুদ্ধ শুরু হতে পারে। গত এপ্রিলে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন ব্যাংক ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সংস্থায়ও ইরান সাইবার হামলা চালায়।

২০১৮ সালে ইরানের সামরিক বাজেট ছিল ২০ বিলিয়ান ডলার। আমেরিকার সাথে সম্ভাব্য যুদ্ধের জন্য ইরান আফ্রিকায় ৩০০ জনের এক কমান্ডো বাহিনী বানিয়েছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র এবং প্রয়োজনে অন্যান্য ইউরোপীয় দেশগুলোতে হামলা চালাতে সক্ষম। এদের অবস্থান কোথায়, তা অজানা। গত ২৪ জুন ডেইলি টেলিগ্রাফ এই সংবাদ পরিবেশন করেছে। ইরান তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত রেখেছে। ওরা সবাই সিরিয়া ও ইরাকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ইরানের বিশেষ উপদেষ্টা হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান ‘আগুন নিয়ে পুতুল খেলা’ না করার জন্য সৌদি আরব, আমিরাত ও বাহরাইনকে সতর্ক করে দিয়েছেন।

ওমান সাগরে ট্যাংকার বিস্ফোরণের ঘটনায় ইরানকে অভিযুক্ত করে বলা হয়, ‘ইরান সাগরে মাইন পুঁতেছে।’ এর মধ্যে একটি জাপানি জাহাজ ছিল। জাহাজটি জাপানের যে প্রতিষ্ঠানের মালিকানায় রয়েছে, সে প্রতিষ্ঠানের প্রধানের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। তার নাম ইয়ুটাকা কাতাদা। গণমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছেন, ‘বিস্ফোরণের ঠিক আগে জাহাজের কর্মীরা কিছু একটা উড়ে আসতে দেখেছেন।’ অথচ মাইনের বিস্ফোরণ হলে সেটি জাহাজের তলদেশে হওয়ার কথা। জার্মানির পত্রিকা ডয়েচে ভেলে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র কিছু তথ্য গোপন করছে। ২০০৩ সালেও ইরাক আক্রমণের সময় বুশ-ব্লেয়ার যে ‘ওয়েপন অব মাস ডেস্ট্রাকশন’ খুঁজে পাওয়ার দাবি করেছিলেন, তা এখনো মিথ্যাই রয়ে গেছে।

অবরোধ, সরকার পরিবর্তনের চেষ্টা, তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসা, গার্ড বাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেয়া, কৌশলগত এলাকায় বোমারু বিমান, রণতরী, বিমানবহর ও ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন, সারাক্ষণ সাইবার হামলা চালানো- এগুলো একটির পর একটি ইরানের বিরুদ্ধে চলে আসছে। এত কিছু সত্ত্বেও কোনোভাবেই ইরানকে দমানো যায়নি।

সম্প্রতি এক জরিপে জানা গেছে, মাত্র সিকিভাগ আমেরিকান যুদ্ধ চায়। ৬০ শতাংশ আমেরিকান মনে করে, ড্রোন হামলার জন্য ট্রাম্প অসামরিক কোনো ব্যবস্থা অবলম্বন করতে পারেন। ৫ শতাংশ আমেরিকান চায় ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করুন। সম্মিলিতভাবে অর্ধেকের বেশি লোক মনে করে, ‘ট্রাম্পের সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা ঠিক হবে না।’ তবে রিপাবলিকানরা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য উদগ্রীব।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। তিনি এ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কঠোর’ আখ্যা দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটন তেহরানের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রাখবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, ইরান যাতে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে লক্ষ্যে তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো। নতুন নিষেধাজ্ঞায় ইরানের প্রতিদিন ১২০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। ইরান তা হেসে উড়িয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প ইরানবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করার পর মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানুচিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ওয়াশিংটন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা আলী খামেনির দফতরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। খামেনি ছাড়াও ইরানি বিপ্লবী গার্ড কোরের আটজন সিনিয়র নেতা এবং পাঁচজন নেভি ডিস্ট্রিক্ট নেতাকে অবরোধের আওতায় আনা হয়েছে।

তিনি আরো জানান, আগামী সপ্তাহে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফকেও নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হবে। মানুচিন দাবি করেন, নতুন করে নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের শত শত কোটি ডলারের সম্পদ জব্দ করা হবে। একই সাথে তিনি স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়ে ঘোষণা করেন, ইরান আমেরিকার সাথে আলোচনায় বসলে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, নতুনভাবে অবরোধের ফলে কূটনৈতিক উদ্যোগের মৃত্যু হয়ে গেছে।

গত ২৫ জুন নিরাপত্তা পরিষদের সভায় ইরানকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। ইরানের অংশগ্রহণ করার আইনগত অধিকার থাকা সত্ত্বেও তা লঙ্ঘিত হলো। ইরানের ড্রোন ভূপাতিত করা নিয়ে পরিষদে আলোচনা হবে। আমেরিকা এককভাবেই কথা বলবে ও ‘প্রমাণ’ হাজির করবে বলে জানা যায়। যাদের বিরুদ্ধে কথা হবে, তাদের কথা বলতে না দেয়া ও অধিকার হরণ করা কোনো কূটনৈতিক বিষয় হতে পারে না। নিরাপত্তা পরিষদও যে কার্যত তাঁবেদার তা বিশ্বের সামনে আবার উঠে এলো। ড্রোনের অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান তর্কবিতর্ক হচ্ছিল ঘটনার পর থেকে। তেহরানের দাবি, দু’টি ড্রোন ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। গুলি করার আগে বেশ কয়েকবার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। অপর বিমানে প্রায় তিন ডজন লোক ছিল বিধায় সেটিকে গুলি করা হয়নি।

রুশ সিকিউরিটি কাউন্সিল সেক্রেটারি নিকোলাই পাত্রুশেভ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী নেতনিয়াহুকে জানান, কথিত ড্রোনটি ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছিল। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের বিশ্ব খ্যাত পরমাণু চুক্তি থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে একতরফাভাবে সরে এলে ইরানের সাথে সম্পর্কের অবনতি হয়। ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি বলেছেন, ‘আমরা পরমাণু বোমা বানাতে চাইলে সহজেই বানাতে পারি। আমেরিকা বাধা দিয়ে কুলাতে পারবে না। তবে আমরা পরমাণু বোমা বানাব না।’ জাপানি প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবেকে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

এর মধ্যে পম্পেও সৌদি আরব ও আমিরাত সফর করেছেন। তিনি সৌদি আরবের বাদশাহ ও প্রিন্সের সাথে দেখা করেন। বাদশাহকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাদের প্রিয় বন্ধু’। ‘সঙ্কটের সময় আমরা কেমন বন্ধু, তা প্রমাণের ও উত্তরণের সময় এটি। ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের এখন এক জোট হয়ে কাজ করার সময়।’

ইরানকে চার দিক থেকে আক্রমণ করা হচ্ছে। সৌদি টার্গেটে ইয়েমেন থেকে হাউছিরা যে গোলা ও মিসাইল নিক্ষেপ করছে, তার জন্যও ওয়াশিংটন ইরানকে দায়ী করছে। এ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সাথে আলোচনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। ইরান বলে এসেছে, ‘শত্রুর’ সাথে কোনো আলাপ নেই। বলেছে, চাপে ফেলে আলোচনার টেবিলে আনা যাবে না। সাইবার হামলার পর ইরান আলোচনার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। তবে সাথে এটাও বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রকে তার আচরণের ধারা বদলাতে হবে, নতুবা পরিণতির জন্য ইরান দায়ী হবে না। ইরানের হাসান রুহানি বলেছেন, অবরোধ তুলে নিতে হবে। ট্রাম্প একতরফাভাবে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসায় ইউরোপ ও এশিয়ার অনেক বন্ধুরাষ্ট্র ওয়াশিংটনের ওপর নাখোশ। তারা এখন বলছেন, এই আচরণ ট্রাম্পের বড় ধরনের ভুল। এবার ড্রোন ভূপাতিত করায় আমেরিকার গর্ব খর্ব হয়েছে এবং এতে ট্রাম্প রেগে গিয়েছেন বলে মনে হয়। তিনি এর পরদিনই যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়ে আবার ক্ষান্ত হয়ে গেছেন। তিনি ইরানের আচরণকে ‘প্ররোচনা’ বলে অভিহিত করেছেন। ইরান জানায়, আকাশসীমা রক্ষার জন্য অন্যান্য বিমানকেও আক্রমণ করার অধিকার ইরানের আছে। নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল হোসেইন খানজাদি বলেন, ‘আমি নিশ্চিত করতে চাই, এ ধরনের আক্রমণ আরো হতে পারে এবং শত্রুরাও তা জানে।’ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নাশকতা ‘কূটনীতির’ অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র একটি যুদ্ধ ‘উসকে দেয়ার’ চেষ্টা চালাচ্ছে।

লেখক : অবসরপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব, বাংলাদেশ সরকার ও গ্রন্থকার


আরো সংবাদ